রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
গত ১৭ বছর শিক্ষার্থীদের মিথ্যা শেখানো হয়েছে” — মাগুরায় এমপি মনোয়ার হোসেন খান বজ্রপাত সচেতনতায় পাকুন্দিয়ায় ১৫০ তালবীজ রোপণ করল ‘প্রয়াস’ মাগুরায় ৭৫ জন অসহায়কে আর্থিক সহায়তা ও নজরুল বর্ষ উপলক্ষে ৫৭ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠিত মাগুরার শ্রীপুরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বর্ণাঢ্য মোটর সাইকেল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত বিএডিসির অডিট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ, ৭ দিনের মধ্যে জবাব দেওয়ার নির্দেশ From Bangladesh to India: Gen-Z Inspiration* *— Professor M. A. Barnik বাংলাদেশের ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান ভারতের জেন-জি আন্দোলনের অনুপ্রেরণার ঐতিহাসিক যোগসূত্র* *—–অধ্যাপক এম এ বার্ণিক রাঙ্গাবালীতে গরু চুরির ঘটনায় থানায় অভিযোগ, এলাকাবাসীর বিক্ষোভ মিছিল কুমিল্লায় যুবদল কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির হত্যার বিচারের দাবিতে চন্দনাইশ প্রেসক্লাবের মানববন্ধন

মাগুরায় খবরের কাগজ বিক্রি কমে যাওয়ায় হকারদের মানবেতর জীবনযাপন!

সংবাদদাতা / ১৬৯ বার ভিউ
সময়ঃ রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৪ পূর্বাহ্ন

মাগুরা থেকে মোঃ সাইফুল্লাহ:

কাক ডাকা ভোরের আগেই ৪ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে মাগুরা শহরের পিটিআই এর আসেন হকার নুরু মিয়া। শুধু নুর মিয়া নয় এ কাজে ভোর হতে ছুটে আসেন বারাসিয়া গ্রামের খোকন, আবালপুর গ্রামের আবু মিয়া,শহরের নতুন বাজার থেকে অসিত বিশ্বাস ও সাগর। বাড়ীর সকালের নাস্তা তাদের ভাগ্যে জোটে না। সকালে চা বিস্কুট খেতে খেতেই খবরের কাগজ পৌঁছে যায় পিটিআই এর সামনে। এরপর শুরু হয় সংগ্রাম। প্রতিটি খবরের কাগজের বান্ডিল খুলে সাইকেলে বেধে ছুটে চলা তাদের। রোদ বৃষ্টি ঝড় মাথায় নিয়েই যেতে হয় বিভিন্ন অফিস আদালত বাড়ি বাড়ি ও হাটে বাজারে।

হকার নুরু মিয়া ( ৫৫) বলেন, আমি ৩৪ বছর ধরে কাগজের সাথে জড়িত। কাজের পাশাপাশি আমি বাড়িতে কৃষি কাজ করি। অনেক আগে থেকেই এ পেশার সাথে জড়িত বিধায় এখনো নানা সংগ্রাম নিয়ে এ পেশার সাথে টিক আছি। আযানের পর থেকে নামাজ পড়ে তারপরেই রওনা দিই মাগুরা শহরে। সকালের খাবার আমাদের ভাগ্যে জোটে না। পথে ঘাটে যা পাই তা খেয়েই খবরের কাগজ নিয়ে ছুটে চলি বিভিন্ন জায়গায়। বছরে তিন মাস আমাদের খুবই কষ্ট হয়। বিশেষ করে আষাঢ় শ্রাবণ ভাদ্র এ ৩ মাসে আমাদের কাগজ বিলি করতে খুব কষ্ট হয়। এক সময় বৃষ্টিতে ভিজে যায় কাগজ। সেই কাগজ আর কোথাও দিতে পারি না। ফলে নানা সমস্যা নিয়েই আমাদের জীবন সংগ্রাম। বর্তমানে কাগজ বিক্রি কমে যাওয়ায় আমরা মানবেতর জীবনযাপন করছি।
হকার অসিত বলেন,প্রায় ৩০ বছর এ কাজের সাথে আমি জড়িত। বর্তমানে বিক্রি করে বেঁচে আমাদের সংসার চলে না। এ কাজের পাশাপাশি আমি অন্য পেশা অন্য পেশায় কাজ করতে পারিনা। ভোর থেকেই আমরা এ কাজের সাথে জড়িত। শহর থেকে গ্রামে অফিস আদালত হাটে বাজারে দোকানে দোকানে গিয়ে কাগজ বিলি করতে করতে। মাস শেষে বিল উঠাতে উঠাতে আমাদের প্রায় ২০ থেকে ২৫ দিন লেগে যায়। আবার অনেক সময় গ্রাহকরা টাকা বাকি রাখেন।আমার সংসারে দুই মেয়ে এক ছেলে। সংসারে প্রতি মাসেই ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ। বর্তমান বাজারে কাগজের এই পেশায় আমাদের যে আয় হয় তাতে সংসার চলে না।
বারাসিয়া গ্রামের হকার খোকন মিয়া জানান, আমি এ পেশার সাথে প্রায় বিশ বছর যাবৎ জড়িত। ভোর হতেই প্রায় দুই কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে না খেয়ে আসতে হয় মাগুরা শহরে। খবরের কাগজ বিলি করতে করতে আমাকে ইছাখাদা বাজার পর্যন্ত যেতে হয়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়কের পথ পাড়ি দিয়ে সাইকেল চালিয়ে আমাদের এ জীবন জীবিকা। এ কাজের পাশাপাশি আমি সংসারে কিছুটা কৃষি কাজ করি। বর্তমানে ডিজিটাল যুগে কাগজ কেউ পড়তে চায় না। অনেকে মোবাইলে অনলাইনে রাতেই খবরে কাগজ পড়ে নিন। তাই এ পেশা জীবন জীবিকার পথে ঝুঁকি হয়ে পড়েছে।
খবরের কাগজ বিক্রেতা সাগর জানান,আমি অল্প কয়েক বছর হল এ পেশার সাথে আছি। সকাল থেকেই দুপুর ২ টা পর্যন্ত খবরের কাগজ নিয়ে ছুটে চলতে হয় বিভিন্ন স্থানে। বর্তমানে ডিজিটাল যুগে এ পেশায় টিকে থাকা কষ্টসাধ্য। মাস গেলে খবরের কাগজের বিল ঠিকমতো আদায় করতে পারিনা। ফলে অনেক স্থানে বাকিই থেকে যায়। এক এক কাগজের মূল্য এক এক রকম। তাই অনেকটা কম দামেই আমাদের বিক্রি করতে হয় কাগজ।
এই অবস্থায় আমাদের জীবনজীবিকা হুমকির পথে।
এদিকে জেলার শ্রীপুর উপজেলার মের্সাস এম আর জিন্নাহর পত্রিকা এজেন্সির পরিচালক মোঃ মনিরুল ইসলাম মিন্টু বলেন -পত্রিকার গ্রাহক কমতে কমতে অর্ধেকের বেশি কমে গেছে, গ্রাহক কমে যাওয়ায় হকার ও কমে গেছে, তাদের আর শুধু পত্রিকা বিত্রুি করে সংসার চলেনা, তাই তারা অন্য পেশা বেছে নিচ্ছে। যেসব হকার এখনো আছে তারা বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

মোঃ সাইফুল্লাহ, মাগুরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]