মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৩:২১ অপরাহ্ন

শিরোনাম
35 Thermonuclear Bombs in Iran’s Possession: Russia’s Claim Sends Shockwaves Through Global Politics— Professor M. A. Barnik ব্যাংক ম্যানেজারের উপর হামলা ও হত্যার প্রতিবাদে নবীনগরে মানববন্ধন  মাগুরার শ্রীপুরে রাস্তার বেহাল দশা, জনদুর্ভোগ চরমে! ইরানের হাতে ৩৫টি থার্মোনিউক্লিয়ার বোমা: রাশিয়ার দাবিতে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন ভূমিকম্প—অধ্যাপক এম এ বার্ণিক মাগুরায় অনলাইন জুয়া চক্রের মাস্টার মাইন্ড আমিনুল গ্রেফতার! মাগুরায় কৃষি কর্মকর্তাকে ঝুলিয়ে পেটানোর হুমকি! যুবদল নেতা বহিস্কার! বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে বাংলাদেশ সুশীল ফোরামের শোক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই-(ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।) সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের ইন্তেকাল( ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)” বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাইবার ইউজার দল (বিএনসিইউপি) শোক মাগুরায় জামায়াত মনোনীত উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো: আজমত হোসাইনের নির্বাচনী বিলবোর্ড চুরির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

জুলাই সনদ: জনগণ শাসিত বাংলাদেশের পথে জ্ঞানভিত্তিক নবযাত্রা”

সংবাদদাতা / ৩৩১ বার ভিউ
সময়ঃ মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৩:২১ অপরাহ্ন

প্রস্তাবনায়: অধ্যাপক এম এ বার্ণিক, সভাপতি, জ্ঞানভিত্তিক সামাজিক আন্দোল

ভূমিকা:
ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লবের চেতনা থেকে উৎসারিত এই “জুলাই সনদ” বাংলাদেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংবিধানিক কাঠামোয় মৌলিক পরিবর্তনের একটি ঐতিহাসিক রূপরেখা। জ্ঞানভিত্তিক নেতৃত্ব ও জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের ভিত্তিতে একটি ন্যয়ভিত্তিক, মর্যাদাপূর্ণ এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের উদ্দেশ্যেই এই সনদের প্রস্তাবনা। প্রস্তাবিত জুলাই সনদের মূলনীতি ও রূপরেখা: নিম্নে উপস্থাপন করা হলো।

১. বর্তমান সংবিধান বিলুপ্ত:
জুলাই সনদ গৃহীত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যমান সংবিধান বিলুপ্ত ঘোষণা করা হবে।

২. গণপরিষদ নির্বাচন:
সনদ ঘোষণার ২ মাসের মধ্যেই দেশের সকল স্তরের নাগরিকদের অংশগ্রহণে গণপরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই পরিষদ নতুন সংবিধান প্রণয়নের একমাত্র অধিকারপ্রাপ্ত হবে।

৩. নতুন সংবিধান প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন:

গণপরিষদ কর্তৃক প্রণীত নতুন সংবিধানের ভিত্তিতে পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

৪. রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও গণতন্ত্র:
পারিবারিক স্বৈরতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে দলের অভ্যন্তরে ও রাষ্ট্র পরিচালনায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা। রাজনৈতিক দলসমূহে অভ্যন্তরীণ নির্বাচন বাধ্যতামূলক করা।
দলে থেকে পরিবারতন্ত্রের প্রভাবমুক্ত নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করা।

৫. প্রশাসনিক ও বিচারিক সংস্কার:
প্রশাসন ও বিচারব্যবস্থার সর্বস্তরে দক্ষতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে আধুনিকায়ন।
উচ্চ ও নিম্ন আদালতকে স্বাধীনভাবে কাজ করার পূর্ণ সুযোগ ও রক্ষা।
গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে আধুনিক পেশাদার প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর।

৬. ধর্ম ও মূল্যবোধ:
ধর্মনিরপেক্ষতা বিলুপ্ত হবে, তবে রাষ্ট্র কোনও ধর্মের পক্ষে পক্ষপাতদুষ্ট হবে না।
ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও সহনশীলতার ভিত্তিতে সমাজগঠন।

৭. জাতীয় পরিচয় ও সমাজনীতি
“আদিবাসী” বা “সংখ্যালঘু” শব্দের পরিবর্তে
“বাংলাদেশের অধিবাসী” হিসেবে সকল
নাগরিককে সমান মর্যাদা ও অধিকার প্রদান।
সামাজিক ন্যায়, অর্থনৈতিক সমতা ও মানবিক মর্যাদার ভিত্তিতে রাষ্ট্র বিনির্মাণ।

৮. ভাষানীতি ও সাংস্কৃতিক অধিকার:
একটি বাস্তবসম্মত জাতীয় ভাষানীতি প্রণয়ন।
প্রত্যেক জনগোষ্ঠীর মাতৃভাষার মর্যাদা, ব্যবহারের অধিকার ও সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষায় রাষ্ট্রীয় নিশ্চয়তা।

৯. শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন ও কারিকুলামের আধুনিকায়ন প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক রূপান্তর সাধন করা হবে যাতে করে জ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

জাতীয় কারিকুলামে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), রোবোটিকস, কোডিং এবং উদ্ভাবনী চিন্তাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।
শিক্ষাকে পরীক্ষানির্ভরতা থেকে বের করে গবেষণা ও সমস্যা সমাধানভিত্তিক পদ্ধতির দিকে নিয়ে যাওয়া হবে।
সকল পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক শিক্ষার পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে।
বৃত্তিমূলক শিক্ষা, শিল্পঘনিষ্ঠ শিক্ষা ও স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম চালু করে কর্মসংস্থানের উপযোগী মানবসম্পদ তৈরি করা হবে।
শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন ব্যবস্থায় আধুনিক পদ্ধতি ও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।

১০. রাষ্ট্রের নাম:
নতুন রাষ্ট্রের নাম হবে: “জনগণ শাসিত বাংলাদেশ”
এই নামের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের অধিকার, ক্ষমতা ও অংশগ্রহণের প্রতীকী ও বাস্তব প্রতিফলন ঘটবে।

১১. উপসংহার:
এই “জুলাই সনদ” কোনো একক দলের দলিল নয়, এটি বাংলাদেশের সমস্ত সচেতন নাগরিক, ছাত্র-জনতা, এবং স্বাধীনতাকামী মানুষের এক যৌথ স্বপ্ন ও দায়িত্ববোধের ফসল। এটি একটি বৈপ্লবিক রূপরেখা যা আমাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রকে গণতান্ত্রিক, ন্যয়ভিত্তিক এবং মর্যাদাশীল করে গড়ে তুলবে এক নতুন “জনগণ শাসিত বাংলাদেশ”।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]