মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০:২৮ পূর্বাহ্ন
প্রস্তাবনায়: অধ্যাপক এম এ বার্ণিক, সভাপতি, জ্ঞানভিত্তিক সামাজিক আন্দোল
ভূমিকা:
ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লবের চেতনা থেকে উৎসারিত এই “জুলাই সনদ” বাংলাদেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংবিধানিক কাঠামোয় মৌলিক পরিবর্তনের একটি ঐতিহাসিক রূপরেখা। জ্ঞানভিত্তিক নেতৃত্ব ও জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের ভিত্তিতে একটি ন্যয়ভিত্তিক, মর্যাদাপূর্ণ এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের উদ্দেশ্যেই এই সনদের প্রস্তাবনা। প্রস্তাবিত জুলাই সনদের মূলনীতি ও রূপরেখা: নিম্নে উপস্থাপন করা হলো।
১. বর্তমান সংবিধান বিলুপ্ত:
জুলাই সনদ গৃহীত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যমান সংবিধান বিলুপ্ত ঘোষণা করা হবে।২. গণপরিষদ নির্বাচন:
সনদ ঘোষণার ২ মাসের মধ্যেই দেশের সকল স্তরের নাগরিকদের অংশগ্রহণে গণপরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই পরিষদ নতুন সংবিধান প্রণয়নের একমাত্র অধিকারপ্রাপ্ত হবে।৩. নতুন সংবিধান প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন:
গণপরিষদ কর্তৃক প্রণীত নতুন সংবিধানের ভিত্তিতে পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
৪. রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও গণতন্ত্র:
পারিবারিক স্বৈরতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে দলের অভ্যন্তরে ও রাষ্ট্র পরিচালনায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা। রাজনৈতিক দলসমূহে অভ্যন্তরীণ নির্বাচন বাধ্যতামূলক করা।
দলে থেকে পরিবারতন্ত্রের প্রভাবমুক্ত নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করা।৫. প্রশাসনিক ও বিচারিক সংস্কার:
প্রশাসন ও বিচারব্যবস্থার সর্বস্তরে দক্ষতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে আধুনিকায়ন।
উচ্চ ও নিম্ন আদালতকে স্বাধীনভাবে কাজ করার পূর্ণ সুযোগ ও রক্ষা।
গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে আধুনিক পেশাদার প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর।৬. ধর্ম ও মূল্যবোধ:
ধর্মনিরপেক্ষতা বিলুপ্ত হবে, তবে রাষ্ট্র কোনও ধর্মের পক্ষে পক্ষপাতদুষ্ট হবে না।
ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও সহনশীলতার ভিত্তিতে সমাজগঠন।৭. জাতীয় পরিচয় ও সমাজনীতি
“আদিবাসী” বা “সংখ্যালঘু” শব্দের পরিবর্তে
“বাংলাদেশের অধিবাসী” হিসেবে সকল
নাগরিককে সমান মর্যাদা ও অধিকার প্রদান।
সামাজিক ন্যায়, অর্থনৈতিক সমতা ও মানবিক মর্যাদার ভিত্তিতে রাষ্ট্র বিনির্মাণ।৮. ভাষানীতি ও সাংস্কৃতিক অধিকার:
একটি বাস্তবসম্মত জাতীয় ভাষানীতি প্রণয়ন।
প্রত্যেক জনগোষ্ঠীর মাতৃভাষার মর্যাদা, ব্যবহারের অধিকার ও সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষায় রাষ্ট্রীয় নিশ্চয়তা।৯. শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন ও কারিকুলামের আধুনিকায়ন প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক রূপান্তর সাধন করা হবে যাতে করে জ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
জাতীয় কারিকুলামে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), রোবোটিকস, কোডিং এবং উদ্ভাবনী চিন্তাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।
শিক্ষাকে পরীক্ষানির্ভরতা থেকে বের করে গবেষণা ও সমস্যা সমাধানভিত্তিক পদ্ধতির দিকে নিয়ে যাওয়া হবে।
সকল পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক শিক্ষার পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে।
বৃত্তিমূলক শিক্ষা, শিল্পঘনিষ্ঠ শিক্ষা ও স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম চালু করে কর্মসংস্থানের উপযোগী মানবসম্পদ তৈরি করা হবে।
শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন ব্যবস্থায় আধুনিক পদ্ধতি ও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।১০. রাষ্ট্রের নাম:
নতুন রাষ্ট্রের নাম হবে: “জনগণ শাসিত বাংলাদেশ”
এই নামের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের অধিকার, ক্ষমতা ও অংশগ্রহণের প্রতীকী ও বাস্তব প্রতিফলন ঘটবে।১১. উপসংহার:
এই “জুলাই সনদ” কোনো একক দলের দলিল নয়, এটি বাংলাদেশের সমস্ত সচেতন নাগরিক, ছাত্র-জনতা, এবং স্বাধীনতাকামী মানুষের এক যৌথ স্বপ্ন ও দায়িত্ববোধের ফসল। এটি একটি বৈপ্লবিক রূপরেখা যা আমাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রকে গণতান্ত্রিক, ন্যয়ভিত্তিক এবং মর্যাদাশীল করে গড়ে তুলবে এক নতুন “জনগণ শাসিত বাংলাদেশ”।