শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৫৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম
মাগুরার শ্রীপুরে পাম্পে ড্রামে তেল দেওয়ার ভিডিও ধারণ,সাংবাদিককে মারধর করলো পুলিশ! উক্ত পুলিশ ক্লোজ! *ফিল্ড মার্শালের ইটে-ইটে গড়া শান্তির দেয়াল* *—-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* মাগুরায় জেলা পর্যায়ে ৩ দিনব্যাপী জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন মাগুরার খামারপাড়া এস এ আই সিনিয়র মাদ্রাসায় বিদায় সংর্বধণা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত মাগুরায় সুমন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন! বিস্তারিত জানালেন পুলিশ সুপার মাগুরায় লক্ষাধিক শিশুকে হাম রুবেলার টিকা দেয়া হবে ইরানে ট্রাম্পের নৌ-অবরোধের ব্যর্থতা ও ইসলামাবাদে নতুন কূটনৈতিক অধ্যায়* *—-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* মাগুরায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাসহ নানা আয়োজনে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন মাগুরার শ্রীপুরে জামায়াতে ইসলামীর দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

“বিপ্লবী সরকার ছাড়া জুলাই বিপ্লবের নায়কেরা ভিপি নূরের মতোই নিঃশেষ হবে” —অধ্যাপক এম. এ. বার্ণিক

সংবাদদাতা / ১৩১ বার ভিউ
সময়ঃ শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৫৩ অপরাহ্ন

২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য ঘটনা। শেখ হাসিনার দীর্ঘমেয়াদি ফ্যাসিবাদী শাসনের পতনের মাধ্যমে জনগণের আন্দোলন বিজয় ছিনিয়ে আনে। কিন্তু আজ সেই বিপ্লব-উত্তর বাস্তবতায় আমরা দেখতে পাচ্ছি—যে রাজনৈতিক কাঠামো ভাঙার জন্য রক্ত ঝরেছিল, সেটি আসলে অক্ষত অবস্থায় রয়ে গেছে। রাষ্ট্রপতি চুপ্পু, সেনাপ্রধান ওয়াকার ও প্রশাসনিক মহলের মূল চালিকাশক্তি অপরিবর্তিত থাকায় জনগণ প্রত্যাশিত রূপান্তর থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে ভিপি নূরের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৮ সালের কোটা আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের পুনঃপ্রতিষ্ঠিত কোটা আন্দোলন পর্যন্ত তিনি ছিলেন ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের মুখ। শেখ হাসিনার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা ছিল— একটি বিপ্লবী সরকার গঠন, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন, গণপরিষদ নির্বাচন এবং নতুন সংবিধান প্রণয়ন। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার বিপ্লবের এজেন্ডা পাশ কাটিয়ে কেবল নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে বিদায় নেওয়ার কৌশল নেয়।

এখানেই রাজনৈতিক সংকটের মূল নিহিত। বিপ্লব কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়; বিপ্লবের সারবত্তা হলো রাষ্ট্র কাঠামোর পরিবর্তন। যদি সেই কাঠামো অপরিবর্তিত থাকে, তবে পুরনো ফ্যাসিবাদ পুনরায় মাথাচাড়া দেবে। এই আশঙ্কা আজ বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক পুনর্বাসনের প্রচেষ্টা চলছে, যেটি ভারতের সক্রিয় ভূমিকার সঙ্গে সম্পৃক্ত। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ বিপ্লবী চেতনা ভেঙে দেওয়ার পরিকল্পনায় মাঠে নামছে—এর প্রথম লক্ষ্য ছিল ভিপি নূর।

২৯ আগস্ট ভিপি নূরের ওপর হামলা প্রমাণ করে, রাষ্ট্রযন্ত্রের একটি অংশ এখনো ফ্যাসিবাদের অনুগত। সামরিক ও পুলিশি শক্তি যদি বিপ্লবী নেতৃত্বকে দমন করতে উদ্যত হয়, তবে জুলাই বিপ্লবের অন্য নেতারাও একই পরিণতির শিকার হবেন। ভিপি নূর আজ প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছেন—বিপ্লবী সরকার ছাড়া কোনো বিপ্লব টেকসই হয় না।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস কিংবা বিএনপি—দু’পক্ষই জুলাই বিপ্লব থেকে রাজনৈতিক সুবিধা পেয়েছে, কিন্তু তারা কখনো বিপ্লবী সরকার গঠনের দাবি তোলে নি। কারণ, বিপ্লবী সরকার মানে রাষ্ট্রকাঠামোর মৌলিক পরিবর্তন, যা তাদের ক্ষমতার গাণিতিক সমীকরণকে অস্থির করে তুলবে। তাই বিপ্লবের মূল নায়কদের সামনে এখন দ্বৈত চ্যালেঞ্জ:
১. পুরনো ফ্যাসিবাদী শক্তির পুনঃপ্রতিষ্ঠা ঠেকানো;
২. এবং একটি সত্যিকারের বিপ্লবী সরকার প্রতিষ্ঠা করা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণে বলা যায়—জুলাই বিপ্লব আজ এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। যদি বিপ্লবী সরকার গঠন না হয়, তবে বিপ্লবের নায়কদের ভবিষ্যৎ হবে ভিপি নূরের মতো—আক্রমণের শিকার, নিঃশেষ এবং ইতিহাসে হারিয়ে যাওয়া। আর যদি বিপ্লবী সরকার প্রতিষ্ঠা হয়, তবে বাংলাদেশের রাষ্ট্র কাঠামোতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]