মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম
35 Thermonuclear Bombs in Iran’s Possession: Russia’s Claim Sends Shockwaves Through Global Politics— Professor M. A. Barnik ব্যাংক ম্যানেজারের উপর হামলা ও হত্যার প্রতিবাদে নবীনগরে মানববন্ধন  মাগুরার শ্রীপুরে রাস্তার বেহাল দশা, জনদুর্ভোগ চরমে! ইরানের হাতে ৩৫টি থার্মোনিউক্লিয়ার বোমা: রাশিয়ার দাবিতে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন ভূমিকম্প—অধ্যাপক এম এ বার্ণিক মাগুরায় অনলাইন জুয়া চক্রের মাস্টার মাইন্ড আমিনুল গ্রেফতার! মাগুরায় কৃষি কর্মকর্তাকে ঝুলিয়ে পেটানোর হুমকি! যুবদল নেতা বহিস্কার! বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে বাংলাদেশ সুশীল ফোরামের শোক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই-(ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।) সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের ইন্তেকাল( ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)” বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাইবার ইউজার দল (বিএনসিইউপি) শোক মাগুরায় জামায়াত মনোনীত উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো: আজমত হোসাইনের নির্বাচনী বিলবোর্ড চুরির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

“বিপ্লবী সরকার ছাড়া জুলাই বিপ্লবের নায়কেরা ভিপি নূরের মতোই নিঃশেষ হবে” —অধ্যাপক এম. এ. বার্ণিক

সংবাদদাতা / ১৬৮ বার ভিউ
সময়ঃ মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৭ অপরাহ্ন

২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য ঘটনা। শেখ হাসিনার দীর্ঘমেয়াদি ফ্যাসিবাদী শাসনের পতনের মাধ্যমে জনগণের আন্দোলন বিজয় ছিনিয়ে আনে। কিন্তু আজ সেই বিপ্লব-উত্তর বাস্তবতায় আমরা দেখতে পাচ্ছি—যে রাজনৈতিক কাঠামো ভাঙার জন্য রক্ত ঝরেছিল, সেটি আসলে অক্ষত অবস্থায় রয়ে গেছে। রাষ্ট্রপতি চুপ্পু, সেনাপ্রধান ওয়াকার ও প্রশাসনিক মহলের মূল চালিকাশক্তি অপরিবর্তিত থাকায় জনগণ প্রত্যাশিত রূপান্তর থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে ভিপি নূরের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৮ সালের কোটা আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের পুনঃপ্রতিষ্ঠিত কোটা আন্দোলন পর্যন্ত তিনি ছিলেন ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের মুখ। শেখ হাসিনার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা ছিল— একটি বিপ্লবী সরকার গঠন, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন, গণপরিষদ নির্বাচন এবং নতুন সংবিধান প্রণয়ন। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার বিপ্লবের এজেন্ডা পাশ কাটিয়ে কেবল নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে বিদায় নেওয়ার কৌশল নেয়।

এখানেই রাজনৈতিক সংকটের মূল নিহিত। বিপ্লব কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়; বিপ্লবের সারবত্তা হলো রাষ্ট্র কাঠামোর পরিবর্তন। যদি সেই কাঠামো অপরিবর্তিত থাকে, তবে পুরনো ফ্যাসিবাদ পুনরায় মাথাচাড়া দেবে। এই আশঙ্কা আজ বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক পুনর্বাসনের প্রচেষ্টা চলছে, যেটি ভারতের সক্রিয় ভূমিকার সঙ্গে সম্পৃক্ত। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ বিপ্লবী চেতনা ভেঙে দেওয়ার পরিকল্পনায় মাঠে নামছে—এর প্রথম লক্ষ্য ছিল ভিপি নূর।

২৯ আগস্ট ভিপি নূরের ওপর হামলা প্রমাণ করে, রাষ্ট্রযন্ত্রের একটি অংশ এখনো ফ্যাসিবাদের অনুগত। সামরিক ও পুলিশি শক্তি যদি বিপ্লবী নেতৃত্বকে দমন করতে উদ্যত হয়, তবে জুলাই বিপ্লবের অন্য নেতারাও একই পরিণতির শিকার হবেন। ভিপি নূর আজ প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছেন—বিপ্লবী সরকার ছাড়া কোনো বিপ্লব টেকসই হয় না।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস কিংবা বিএনপি—দু’পক্ষই জুলাই বিপ্লব থেকে রাজনৈতিক সুবিধা পেয়েছে, কিন্তু তারা কখনো বিপ্লবী সরকার গঠনের দাবি তোলে নি। কারণ, বিপ্লবী সরকার মানে রাষ্ট্রকাঠামোর মৌলিক পরিবর্তন, যা তাদের ক্ষমতার গাণিতিক সমীকরণকে অস্থির করে তুলবে। তাই বিপ্লবের মূল নায়কদের সামনে এখন দ্বৈত চ্যালেঞ্জ:
১. পুরনো ফ্যাসিবাদী শক্তির পুনঃপ্রতিষ্ঠা ঠেকানো;
২. এবং একটি সত্যিকারের বিপ্লবী সরকার প্রতিষ্ঠা করা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণে বলা যায়—জুলাই বিপ্লব আজ এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। যদি বিপ্লবী সরকার গঠন না হয়, তবে বিপ্লবের নায়কদের ভবিষ্যৎ হবে ভিপি নূরের মতো—আক্রমণের শিকার, নিঃশেষ এবং ইতিহাসে হারিয়ে যাওয়া। আর যদি বিপ্লবী সরকার প্রতিষ্ঠা হয়, তবে বাংলাদেশের রাষ্ট্র কাঠামোতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]