মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৮ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
মাগুরায় শ্রীপুর উপজেলায় জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালি বিজ্ঞানের জয়যাত্রা: মিরপুরে প্যারাডাইজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে বিজ্ঞান মেলা ২০২৬ অনুষ্ঠিত মাগুরায় চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারা চুক্তি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত মাগুরার শ্রীপুরে নবাগত ইউএনও’র সাথে প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকদের মতবিনিময় অনুষ্ঠিত জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের প্রধান আইন বিষয়ক উপদেষ্টা হলেন মাগুরার অ্যাড. কাজী আব্দুর রশিদ Five Historic Challenges Facing Tarique Rahman* *— Professor M. A. Barnik তারেক রহমানের পাঁচটি ঐতিহাসিক চ্যালেঞ্জ* *— অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* মাগুরায় শিশু একাডেমির আয়োজনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন   মাগুরায় আর্দশ শিক্ষক ফেডারেশনের আয়োজনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত মাগুরায় ৮ হাজার ইয়াবা ও নারীসহ ৩ মাদক কারবারি আচক! টাকা ও বাইক জব্দ!

এবারও সৌদি আরবের চাঁদের হিসাবে দুর্গাপূজা হলো —অধ্যাপক এম এ বার্ণিক

সংবাদদাতা / ২০৩ বার ভিউ
সময়ঃ মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৮ পূর্বাহ্ন

১. চাঁদ দেখার পদ্ধতি ও আইআইসি বিতর্ক :

বাংলাদেশে ধর্মীয় উৎসব পালনের ক্ষেত্রে একটি দীর্ঘদিনের বিতর্ক হলো—চাঁদ দেখার পদ্ধতি ও আন্তর্জাতিক ইসলামিক ক্যালেন্ডার (IIC)অনুসরণের প্রশ্ন। ২০২৫ সালের ২ অক্টোবর তারিখে জাতীয় চাঁদদেখা কমিটি ঘোষিত তারিখ অনুযায়ী ৯ রবিউস সানি চললেও, সৌদি আরবের হিসাবে সেটি ছিল ১০ তারিখ। এ প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, দুর্গাপূজার মতো গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু ধর্মীয় উৎসবও সৌদি আরবের চাঁদের হিসাব অনুযায়ী পালিত হচ্ছে। শুধু হিন্দু নয়, বাংলাদেশে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ও বৌদ্ধপূর্ণিমা পালন করে সৌদি আরবের ক্যালেন্ডার ধরে, কারণ তারা মনে করে জাতীয় চাঁদদেখা কমিটির তারিখ সঠিক নয়।

২. বৈপরীত্যের চিত্র :

একইসাথে একটি অদ্ভুত বৈপরীত্য চোখে পড়ে। ইসলামী বিশ্বে ওআইসি’র শরিয়া বোর্ড অনুমোদিত আন্তর্জাতিক ইসলামি ক্যালেন্ডার অনুসারে মুসলিমরা সৌদি আরবের চাঁদ ধরে রোজা রাখেন, ঈদ পালন করেন। কিন্তু বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও কয়েকটি দেশের মুসলমানরা প্রায়শই একদিন পর ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করে থাকেন। এর ফলে বিশ্ব মুসলিম ঐক্যের চিত্রে বিভ্রান্তি ও অমিল তৈরি হয়।

৩. ধর্মীয় ভিত্তি বনাম আঞ্চলিক প্রথা :

আল-কুরআন ও হাদিসে চাঁদ দেখার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। তবে কোথাও বলা হয়নি যে প্রতিটি ভূখণ্ডে আলাদা করে চাঁদ দেখতে হবে। বরং নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে আকাশে চাঁদ উদিত হওয়ার বিষয়টি নির্ভরযোগ্যভাবে জানার। অথচ স্থানীয় চাঁদদেখা কমিটিগুলো নিজেদের ভৌগোলিক অবস্থানকে প্রধান ধরে তারিখ নির্ধারণ করে, যা অনেক সময় আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান ও বৈশ্বিক চাঁদের অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়।

৪. বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ

আজকের আধুনিক মহাকাশবিজ্ঞান এবং জ্যোতির্বিজ্ঞান খুব সহজেই পৃথিবীর যেকোনো অঞ্চলের জন্য চাঁদের জন্ম, দৃশ্যমানতা ও অবস্থান নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করতে পারে। তবুও দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশে এই প্রযুক্তিগত জ্ঞান উপেক্ষা করে স্থানীয় কমিটি ও প্রথাগত সিদ্ধান্তকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। এর ফলেই বাংলাদেশে প্রায় প্রতি বছর ঈদ, রমজান কিংবা পূজার ক্যালেন্ডারে দ্বন্দ্ব ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়।

৫. সামাজিক-ধর্মীয় প্রভাব:

বাংলাদেশের মুসলমানরা প্রায়শই ঈদ পালন করে সৌদি আরবের একদিন পরে। অথচ একই দেশের হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায় সৌদি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী উৎসব করে থাকেন। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন জাগে—যখন প্রযুক্তি, কুরআন-হাদিস এবং বৈশ্বিক ঐক্য একটি দিক নির্দেশ করছে, তখন কেবল আঞ্চলিক প্রথার কারণে কেন মুসলমানদের উৎসব একদিন পিছিয়ে যাবে?

৬. ভৌগোলিক অবস্থান ও ধর্মের সাথে বিজ্ঞানের সমন্বয় বাঞ্ছনীয় :

প্রকৃতপক্ষে, চাঁদদেখা নিয়ে এই বিভ্রান্তির মূল কারণ হলো জ্যোতির্বিজ্ঞান, ভূগোল এবং ইসলামী শরিয়তের বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞানের অভাব। হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায় যখন বাস্তবতার আলোকে সৌদি আরবের হিসাব মেনে চলছে, তখন মুসলমানদের মধ্যে বৈপরীত্য থাকা দুঃখজনক। ইসলাম ঐক্যের ধর্ম—তাহলে কেন মুসলমানরা ঐক্যবদ্ধভাবে এক ক্যালেন্ডার মেনে চলতে পারবে না?

এখন সময় এসেছে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে আন্তর্জাতিক ইসলামি ক্যালেন্ডার গ্রহণ করার, যাতে করে বিভ্রান্তি দূর হয় এবং মুসলিম বিশ্ব একসাথে ঈদ, রোজা ও অন্যান্য ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারে। ভৌগোলিক অবস্থান, বিজ্ঞান ও ধর্মীয় জ্ঞানের ঐক্য—এই তিনের সমন্বয়ই সমস্যার স্থায়ী সমাধান দিয়েছে ওআইসি। তারপরও গোঁড়ামি রয়ে গেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]