মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ অপরাহ্ন

শিরোনাম
ডা. মো. আজিজুল হোসেন নবীনগরের উজ্জ্বল নক্ষত্র, বাংলাদেশের গর্ব মাগুরায় জুলাই শহীদ দিবস ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত 35 Thermonuclear Bombs in Iran’s Possession: Russia’s Claim Sends Shockwaves Through Global Politics— Professor M. A. Barnik ব্যাংক ম্যানেজারের উপর হামলা ও হত্যার প্রতিবাদে নবীনগরে মানববন্ধন  মাগুরার শ্রীপুরে রাস্তার বেহাল দশা, জনদুর্ভোগ চরমে! ইরানের হাতে ৩৫টি থার্মোনিউক্লিয়ার বোমা: রাশিয়ার দাবিতে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন ভূমিকম্প—অধ্যাপক এম এ বার্ণিক মাগুরায় অনলাইন জুয়া চক্রের মাস্টার মাইন্ড আমিনুল গ্রেফতার! মাগুরায় কৃষি কর্মকর্তাকে ঝুলিয়ে পেটানোর হুমকি! যুবদল নেতা বহিস্কার! বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে বাংলাদেশ সুশীল ফোরামের শোক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই-(ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।)

আদালতে এআই প্রযুক্তির ব্যবহারে বাংলাদেশ — বিশ্ব প্রেক্ষাপটে সক্ষমতা ও সম্ভাবনা —- অধ্যাপক এম এ বার্ণিক

সংবাদদাতা / ১৩৭ বার ভিউ
সময়ঃ মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ অপরাহ্ন

 

১. বিশ্ব পর্যায়—আদালতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার ও অভিজ্ঞতা:

অনেক দেশে আদালত ও বিচারব্যবস্থায় ডিজিটালাইজেশন দ্রুত বাড়ছে: ই-ফাইলিং, অনলাইন শুনানি, ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষণ।

পাশাপাশি দেখেছি দেশে দেশে AI বা অ্যালগরিদমিক সহায়তা ব্যবহারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে: যেমন কেস ডকুমেন্ট অ্যানালাইসিস, রায়সংক্ষেপ প্রস্তুতকরণ, পূর্বাভাস মডেল।

তবে বিচারব্যবস্থায় AI-র ব্যবহার নিয়ে কিছু মৌলিক বাতিলতা রয়েছে—তথ্য-উপাত্ত অপর্যাপ্ততা, ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট ভুল বোঝার ঝুঁকি, আইন-নৈতিক ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন।‎

যুক্তরাজ্য: বিচারিক কর্মকর্তাদের জন্য AI ব্যবহারের নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে, যাতে AI-র ভূমিকা, ঝুঁকি ও মনিটরিং প্রসঙ্গ স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে।

ইতালি/ইউরোপ: “e-Justice”-মডেলে কিছু দেশে আদালত প্রযুক্তি-উপযোগী হয়েছে যার মধ্যে AI-র সূচনা দেখা গেছে।

চীন: বিতর্ক আছে যে বিচারিক সিদ্ধান্তে অ্যালগরিদম ব্যবহারে ন্যায় ও স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে।

ভারত: ভারতের আদালত-প্রক্রিয়ায় ‘e-Courts’ উদ্যোগে AI-সাপোর্টেড সারাংশ, অনুবাদ, কেস ট্র্যাকিং সহ প্রযুক্তিগত উদ্যোগ দেখা গেছে।

২. শিক্ষা ও সতর্কতা :

বিচারব্যবস্থায় AI-র ভূমিকা কখনোই বিচারাধিকারীর সিদ্ধান্তের বিকল্প নয় — বরং সহায়ক।

বিশেষ করে ভাষাগত, সাংস্কৃতিক, তথ্যভিত্তিক বৈষম্য থাকলে AI-মডেল ভুল বা পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত হতে পারে।

প্রযুক্তির দ্রুত প্রয়োগে নিয়ন্ত্রণ, নৈতিকতা, জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতার বিষয়গুলো একসাথে নেয়া জরুরি।

৩. বাংলাদেশের অবস্থা :

জাতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নীতিমালা ২০২৪ (Draft) – বাংলাদেশ-সরকারের অগ্রণী নীতিমালা, যেখানে AI-সাপোর্টেড সেবার কথা বলা হয়েছে।

আদালত-প্রক্রিয়ায় ডিজিটাল রূপান্তর নিয়ে কিছু উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে — যেমন জাতীয় আইন সহায়তা সেবা সংস্থা (NLASO)-র ডিজিটাল লিগ্যাল এইড প্রকল্প।

অনেক ক্ষেত্রেই বিচারব্যবস্থায় ডিজিটাল সেবা প্রবর্তন করেছে, যা ভবিষ্যতের AI-প্রয়োগের ভিত্তি হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, অনলাইন লিগ্যাল এইড উদ্যোগ।

দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাত দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, ডিজিটাল সক্ষমতা বাড়ছে (যদিও নিজস্ব বিচারালয়-AI উদ্যোগে নির্দিষ্ট পরিমাপ কম পাওয়া গেছে)।

নীতিমালার রূপরেখা ইতিমধ্যে তৈরি হয়েছে, যা একটি ভালো সূচনা।

৪. দুর্বলতা ও চ্যালেঞ্জ:

তথ্য ও রেকর্ড ডিজিটাইজেশনে ব্যাপক খাটোতি রয়েছে — পুরনো বিচিত্র রায়, বেসরকারি রেকর্ড, বাংলা ভাষার প্রযুক্তিগত ও ভাষাগত সমর্থন কম।

AI-উপযোগে বিচার প্রক্রিয়ায় আইন, নৈতিকতা, স্বচ্ছতা, দায়িত্ববোধ (accountability) বিষয়গুলো এখনও অপর্যাপ্তভাবে বিবেচিত হয়েছে।

আপাতত মানুষের-মধ্যে-তত্ত্ব (human-in-the-loop) ও সিদ্ধান্ত-বিষয়ক অধিকার (judicial discretion) রক্ষার প্রশ্ন রয়েছে — প্রযুক্তি-নির্ভরতা বাড়লে মানুষ-ভিত্তিক বিচারপ্রক্রিয়া ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, খরচ, প্রশিক্ষণ, ভাষাগত প্রস্তুতি (বাংলায় AI-মডেল) সীমিত — যেমন গবেষণায় বলা হয়েছে তা।

৫. বিচারব্যবস্থায় AI-প্রয়োগের সম্ভাবনামূলক ক্ষেত্র :

(১) কেস রিকর্ড সংরক্ষণ, অনুসন্ধান ও ট্র্যাকিং: AI-ভিত্তিক সিস্টেম ব্যবহার করে বিচারিক রায়-ডেটা দ্রুত অনুসন্ধান করা যেতে পারে।

(২) অনুবাদ ও ভাষান্তর: বাংলা-ইংরেজি রায়, আদালত নোটিশ ও আদেশ অনুবাদে AI-সুহার মাধ্যমে সময় ও খরচ কমানো সম্ভব। যেমন “Amar Vasha” অনুবাদ টুল প্রক্রিয়ায় ব্যবহার হয়েছে।

(৪) কেস ফলাফল-পূর্বাভাস বা রায়ের সাপেক্ষে বিশ্লেষণ: নীতিমালায় উল্লেখ রয়েছে।

(৫) ডিজিটাল লিগ্যাল এইড ও অনলাইন বিবাদ নিষ্পত্তি (ODR): বাংলাদেশ ইতিমধ্যে উদ্যোগ নিয়েছে।

 

৬. তুলনামূলক বিশ্লেষণ (বাংলাদেশ vs বিশ্ব):

নীতিমালা ও নির্দেশিকা যুক্তরাজ্যে বিচারিক AI নির্দেশিকা জারি করেছে। জাতীয় AI নীতিমালা আলোচনায় রয়েছে, বাস্তবায়ন পর্যায়ে রয়েছে।
বাস্তব প্রয়োগ ভারতের e-Courts-এ AI-সাপোর্টেড সারাংশ ও অনুবাদের অভিজ্ঞতা রয়েছে। ডিজিটাল লিগ্যাল এইড প্রকল্প শুরু হয়েছে, কিন্তু পুঙ্খানুপুঙ্খ AI-একশন এখনও সীমিত।
তথ্যভিত্তি ও ভাষাগত প্রস্তুতি উন্নত দেশে বড় বিচারিক রায়-ডেটাবেস রয়েছে, AI-উপযোগে প্রস্তুত। বাংলাদেশে রেকর্ড ডিজিটাইজেশন কম ও বাংলা ভাষার AI প্রস্তুতি সীমিত।
নৈতিক/আইনি নিয়ন্ত্রণ বিভিন্ন দেশে AI-র স্বচ্ছতা, পক্ষপাতহীনতা বিষয় নির্ধারক নিয়ন্ত্রণ রেখেছে। বাংলাদেশে নির্ধারক আইন বা যথাযথ নিয়ন্ত্রণ কাঠামো এখনও সম্পূর্ণ নয়।
সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতা বেশ কিছু দেশ পরীক্ষামূলকভাবে AI ব্যবহারে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। বাংলাদেশ এখন “প্রস্তুতি-দ্বারপ্রান্তে” অবস্থানে রয়েছে — অনেক সুযোগ থাকলেও বাস্তবায়ন সীমিত।

 

৭. বাংলাদেশের সম্ভাবনা :

দ্রুত প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও তথ্যপ্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়ছে, যা AI-বিচারপ্রক্রিয়ার জন্য সহায়ক।

আদালত ও আইনসহায়ক প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল রূপান্তরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে (যেমন ডিজিটাল লিগ্যাল এইড) — এটি একটি শক্ত ভিত্তি।

যদি নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণ সুস্পষ্ট হয়, তাহলে বাংলাদেশ “স্মার্ট বিচারব্যবস্থা” গড়ার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক হতে পারে।

বাংলা ভাষায় AI মডেল প্রস্তুত ও স্থানীয় তথ্যভিত্তি তৈরি হলে বেশ কার্যকর হবে — বিচারপ্রক্রিয়া সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুত ও সহজ হতে পারে।

৮. সুপারিশ:

(১) সম্পূর্ণ আইন ও রেগুলেটরি কাঠামো গঠন :
যেমন, Algorithmic accountability, AI-র সিদ্ধান্তে মানব-নিয়ন্ত্রণ, তথ্যপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে একটি নির্ধারিত আইন প্রয়োজন।

(২) ডিজিটাল রেকর্ড ও তথ্যভিত্তি উন্নয়ন:
বিচারিক রায়, আদেশ, নোটিশ ইত্যাদির ডিজিটাইজেশন ত্বরান্বিত করুন; বাংলা তথ্যভিত্তিক AI মডেল প্রস্তুত করুন।

(৩) বাংলা ভাষা ও স্থানীয় প্রসঙ্গ অনুযায়ী AI মডেল তৈরি:
শুধু বিদেশি মডেল আমদানি না করে স্থানীয় ভাষা ও সাংস্কৃতিক প্রসঙ্গ বিবেচনায় নিয়ে AI সিস্টেম তৈরি করা জরুরি।

(৪) মানব-নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা:
বিচার প্রক্রিয়ায় AI কে সহায়ক হিসেবে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে — তবে বিচারাধিকারীর অবদান, সিদ্ধান্ত-স্বাধীনতা ও মানবিক বিচারিক বিবেচনা রক্ষায় মনোযোগ দিন।

(৫) শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা:
বিচারিক কর্মকর্তা, আইনজীবী, আদালত কর্মকর্তা ও তথ্যপ্রযুক্তি সংযুক্ত সংশ্লিষ্টদের জন্য AI-এর ব্যবহার, সীমাবলহতা (limitations) ও ঝুঁকি-সচেতনতা বিষয় শিক্ষিত করুন।

(৬) পাইলট প্রকল্প ও পর্যবেক্ষণ করা :
প্রথমে সীমিত এক-দুই বিভাগে (উদা. অনুবাদ/সারাংশ/কেস ট্র্যাকিং) পাইলট চালিয়ে ফলাফল বিশ্লেষণ করুন, এরপর ধাপে ধাপে বড় পরিসরে প্রয়োগ করুন।

 

 

৯. উপসংহার:

বাংলাদেশ বর্তমানে বিচারব্যবস্থায় AI প্রযুক্তি প্রয়োগের ক্ষেত্রে উচ্চ সম্ভাবনাময় অবস্থানে রয়েছে, তবে তা পূর্ণস্বয়ংসম্পূর্ণরূপে সক্ষম বলেই বলা যাবে না। বৈশ্বিক উদাহরণ থেকে আমরা শিখতে পারি যে, প্রযুক্তিগত মাত্রায় এগিয়ে যেতেই নয় — নৈতিকতা, স্বচ্ছতা, তথ্যভিত্তি ও নিয়ম-নীতি একসাথে বিকাশ করতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]