শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৫১ অপরাহ্ন

শিরোনাম
আজকের মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের সমৃদ্ধ – মাগুরায় কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নূরুল ইসলাম সাদ্দাম Macca Defence Pact: A Severe Setback to India’s Strategic Calculations* *— Professor MA Barnik *মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি : ভারতের স্ট্র্যাটেজিক হিসাব-নিকাশে বড় ধরনের ধাক্কা— অধ্যাপক এম এ বার্ণিক মাগুরার শ্রীপুরে বিদ্যুতায়িত হয়ে এক যুবকের মৃত্যু, আহত আরো -২জন চাটমোহরে তেল-জেলিতে তৈরি হচ্ছিল নকল দুধ, ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড ও জরিমানা The Mecca Defence Pact: India’s Concerns, the Positions of Major Powers, and Bangladesh’s Potential Gains and Losses* *–Professor M. A. Barnik মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি: ভারতের উদ্বেগ, পরাশক্তিদের অবস্থান এবং বাংলাদেশের সম্ভাব্য লাভ-ক্ষতি* *—অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* কেন্দ্রীয় যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি পলের রোগমুক্তিতে এস. আলম ইসরাৎ এর উদ্যোগে দোয়া আন্দালিব রহমান পার্থকে তথ্যমন্ত্রী করায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দকে মিষ্টিমুখ করালো বিজেপি ভাষা সৈনিক অজিত গুহ মহাবিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা:) উদযাপন

কমনওয়েলথের সতর্ক বার্তা: একই দিনে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন—ইসি-র জন্য বিপজ্জনক —-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক

সংবাদদাতা / ১৫৪ বার ভিউ
সময়ঃ শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৫১ অপরাহ্ন

১. মূল সমস্যা:

কমনওয়েলথ ও নির্বাচন কমিশন (ইসি) উভয়েই একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও “জুলাই সনদ”/রেফারেন্ডাম একসঙ্গে আয়োজনকে কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে; সরকার চিঠির মাধ্যমে ইসিকে অফিসিয়ালি নির্দেশ দিয়েছে—ইসির ক্ষমতা আছে বলে তারা বললেও পরিকল্পনাগত, প্রশাসনিক ও গ্রহণযোগ্যতার বড়-ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

২. কেন এমনটা হলো :

২২ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে সরকার নির্বাচনী কমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়েছে যাতে ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও একই দিনে “জুলাই সনদ”-সংক্রান্ত রেফারেন্ডাম (গণভোট) আয়োজনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ইসি সক্ষমতা আছে কিনা তা যাচাই না-করেই
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহম্মদ ইউনূস রেফারেন্ডাম ও জাতীয় ভোট একই দিনে করার ঘোষণা দিয়েছেন।

৩. কমনওয়েলথের পর্যবেক্ষণ ও বার্তা :

কমনওয়েলথের প্রতিনিধিরা ইসির সঙ্গে সমন্বয় বা যোগাযোগে অংশগ্রহণ করেছেন এবং একই দিনে দুইটি বড় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আয়োজনকে “বড় চ্যালেঞ্জ” বা “capacity test” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাদের বক্তব্যে স্পষ্ট যে—রেফারেন্ডাম ও সংসদীয় ভোট একসাথে আয়োজন করলে প্রশাসনিক ও বিশ্বাসযোগ্যতার উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, যদি পর্যাপ্ত পরিকল্পনা ও সর্বপক্ষীয় সম্মতি না থাকে। কমনওয়েলথ-স্তরের এই সতর্ক-নোট আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার দিক থেকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

কেন এটি গুরুত্ব পেয়েছে: কমনওয়েলথের মতামত আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও দুর্বল-স্তরের স্বীকৃতি (legitimacy) প্রভাবিত করতে পারে; তারা যখন “চ্যালেঞ্জ” উল্লেখ করে, তা বিদেশি পর্যবেক্ষক-দল, সহায়ক দেশ ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ার দৃষ্টিতে ইসির সক্ষমতা ও ফলাফল গ্রহণযোগ্যতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।

৪. ইসির সক্ষমতা ও তাদের অবস্থান:

ইসি-র শীর্ষরা (প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও সিনিয়র সেক্রেটারি) জানাচ্ছেন: সরকারীয় চিঠি পাওয়ার পর তারা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করবে, তবে একই দিনে দু’টো বড় প্রক্রিয়া পরিচালনা করা “চ্যালেঞ্জিং” হবে এবং এটা তাদের সক্ষমতার উপর কঠোর চাপ সৃষ্টি করবে। ইসি কিছু প্রশাসনিক সমাধান (জোন-ভাগ, অতিরিক্ত কর্মকর্তা মোতায়েন ইত্যাদি) বিবেচনা করবে বলেও উল্লেখ করেছে।

৫. ইসি সক্ষমতা মানে কি বোঝায়:
ইসির সক্ষমতা মানে কেবল কর্মীবল নয়; তা হল আইনগত ফ্রেমওয়ার্ক, প্রক্রিয়া-নিগারানি, ফল গণনা-ব্যবস্থা, সুরক্ষা ও পর্যবেক্ষক সমন্বয়ের সামর্থ্য। এগুলো যদি অপর্যাপ্ত থাকে, ইসি-র কার্যক্রম গ্রহণযোগ্যতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হতে পারে।

৬. প্রধান ঝুঁকি ও প্রভাব :

(১). প্রক্রিয়াগত জটিলতা ও বিভ্রান্তি :
ভোটার ও কমিশন উভয়ের জন্য ভোটবই/ব্যলট-বক্স, প্রশ্নের সূত্রীকরণ এবং ফল ঘোষণার সময় বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে; রেফারেন্ডামের প্রশ্ন জটিল হলে ভোটার সিদ্ধান্ত নেয়ার অবস্থা শিথিল হবে।

(২). আইনি ও প্রশাসনিক ফাঁক :
রেফারেন্ডামের জন্য প্রয়োজনীয় “অর্ডিন্যান্স/আইন” ইসি-র হাতে না থাকলে বাস্তবায়নে সমস্যা হবে; ইসি এখনই সেই আইনপ্রস্তুতির অপেক্ষায়।

(৩). রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা সংকট: জামায়াত-নেতৃত্বাধীন আটদল ইত্যাদি বিভিন্ন গোষ্ঠীর আপত্তি অথবা অংশগ্রহণ না করলে ভোট-ফল স্বীকৃতি নিয়ে বিতর্ক জন্মাবে।

(৪). আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা হানিসাধন :
কমনওয়েলথ-সহ বিদেশি পর্যবেক্ষকরা যদি “প্রস্তুতিহীনতা” বা “অনুপস্থিতি” দেখেন, তারা সম্পূর্ণ বা আংশিক পর্যবেক্ষক হিসেবেই মন্তব্য করে দিতে পারেন, যা ফলাফলকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।

৭. অবস্থা না-বুঝে সিদ্ধান্ত হলো কেন:

বিএনপির পরামর্শে ড. ইউনূস এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শুধু নির্বাচনি খরচ বাঁচানোর যুক্তিতে। নির্বাচন কমিশন একাজে সক্ষম কিনা, অথবা জামায়াত-নেতৃত্বাধীন ৮দলের দাবির যৌক্তিকতা আছে কিনা, তা পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে। এই প্রেক্ষিতে, সিদ্ধান্তটি পুরোপুরিই ‘অপরিকল্পিত’ বলা যেতে পার।

৮. নির্বাহিক ও নীতি-স্তরে করণীয় বিষয় :

(১). আইনি পরিষ্কারকরণ:
রেফারেন্ডামের জন্য প্রয়োজনীয় অর্ডিন্যান্স/আইন দ্রুত কিন্তু স্বচ্ছভাবে জারি করা; এতে ইসি-র কার্যকরী নির্দেশিকা ও কার্যপ্রণালী থাকতে হবে।
(২). ইসি-কমনওয়েলথ ডায়ালগ শক্তিশালী করা :
কমনওয়েলথসহ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় রাখা; তাদের মন্তব্যগুলোকে কার্যকরভাবে সমন্বয় করে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা।
(৩). রাজনৈতিক সংলাপ ও ‘বাই-ইন’ :
একই দিনে গণভোট ও নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা না থাকার বিষয়টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে তুলে ধরতে হবে এবং আলোচনা করে পৃথকভাবে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করতে হবে।

(৪). প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি বাড়ানো:
জোন-ভিত্তিক কর্মীদের মোতায়েন, ব্যাক-অফিস ফল গণনা ও চ্যালেঞ্জ মেকানিজম, পর্যবেক্ষক সমন্বয়—এসব কোর-তদারকি বাড়াতে হবে।
(৫). সুশাসিত ও সময়োপযোগী জনসচেতনতা:
সাধারণ ভোটারকে বোধগম্যভাবে ব্যালট/প্রশ্ন বোঝাতে বিস্তৃত প্রচারণা অনিবার্য।

৯. অনুসিদ্ধান্ত :

কমনওয়েলথের “সতর্ক” পর্যবেক্ষণ—যা ইসির ক্ষমতা ও নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতার ওপর সরাসরি আলোকপাত করেছে। সেকারণেই বিষয়টি অতীব গুরুত্ব পাচ্ছে। ইসি-র সক্ষমতা আছে একই দিনে রেফারেন্ডাম ভিন্ন দিনে সংসদীয় নির্বাচন আয়োজন। তা না-হলে, একদিনে করতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটি একাধিক প্রশাসনিক, আইনগত ও গ্রহণযোগ্যতার চ্যালেঞ্জে পড়বে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যদি আইনগত প্রস্তুতি, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের সহায়ক ভূমিকা নিশ্চিত না করা যায়, তাহলে নির্বাচন ও রেফারেন্ডাম—উভয়ই—গণতান্ত্রিক স্বীকৃতি ও স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে ঝুঁকিতে পড়বে। ফলে জাতিকে একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন উপহার দেয়ার অভিলাষ, একই দিনের আয়োজনের কারণে, কার্যত চুরমার হয়ে যাবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]