মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম
ভূমি মন্ত্রণালয়ের পিয়ন হারুনের ‘শতকোটি টাকার সাম্রাজ্য’ নিজস্ব প্রতিবেদন মাগুরায় শ্রীপুর উপজেলায় জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালি বিজ্ঞানের জয়যাত্রা: মিরপুরে প্যারাডাইজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে বিজ্ঞান মেলা ২০২৬ অনুষ্ঠিত মাগুরায় চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারা চুক্তি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত মাগুরার শ্রীপুরে নবাগত ইউএনও’র সাথে প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকদের মতবিনিময় অনুষ্ঠিত জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের প্রধান আইন বিষয়ক উপদেষ্টা হলেন মাগুরার অ্যাড. কাজী আব্দুর রশিদ Five Historic Challenges Facing Tarique Rahman* *— Professor M. A. Barnik তারেক রহমানের পাঁচটি ঐতিহাসিক চ্যালেঞ্জ* *— অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* মাগুরায় শিশু একাডেমির আয়োজনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন   মাগুরায় আর্দশ শিক্ষক ফেডারেশনের আয়োজনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত

কৃষ্ণ নন্দী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী : ইসলামি রাজনীতির নান্দনিক চরিত্র — অধ্যাপক এম এ বার্ণিক

সংবাদদাতা / ১৪৯ বার ভিউ
সময়ঃ মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৩ অপরাহ্ন

১. ধর্মসীমা ভেঙ্গে রাজনৈতিক প্রগতিশীলতার সূচনা:

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ধর্ম, সম্প্রদায় ও পরিচয়ের প্রশ্নটি বহু দশক ধরে এক ধরনের অব্যক্ত বিভাজনরেখা টেনে রেখেছে। ভোটের মাঠে, দলের কাঠামোয়, কিংবা সাংগঠনিক দর্শনে—কে কোথায় দাঁড়াবে তা প্রায় নিশ্চিত হয়ে যেত ধর্মীয় পরিচয় অনুযায়ী। এর মাঝেই হঠাৎ খুলনা–১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে কৃষ্ণ নন্দীর মনোনয়ন যেন এই প্রচলিত সমীকরণকে ঝাঁকুনি দিল।
শিরোনামটি তাই শুধু তথ্য নয়, বরং একটি রাজনৈতিক রূপান্তরের ইঙ্গিত—ধর্মসীমা ভেঙে প্রগতিশীল রাজনীতির পথে নতুন এক পদক্ষেপ।

২. কৃষ্ণ নন্দী—পরিচয়ের সীমানা পেরিয়ে রাজনীতির নতুন প্রতীক:

খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলা থেকে উঠে আসা কৃষ্ণ নন্দী দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়ভাবে ব্যবসায়ী, সমাজসেবী ও হিন্দু সম্প্রদায়ের একজন নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তি। তাঁর আরেকটি পরিচয়—ডুমুরিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর হিন্দু কমিটির সভাপতি।
এই পদটি ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত দিচ্ছিল যে তিনি সাংগঠনিকভাবে সক্রিয়, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে তাঁর নিবিড় সম্পৃক্ততা রয়েছে, এবং ধর্মীয় পরিচয়ের সীমানা পার হয়ে তিনি রাজনৈতিক অংশগ্রহণের নতুন এক ধারার প্রতিনিধিত্ব করেন।
২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে হঠাৎই দলীয় সিদ্ধান্তে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয় খুলনা–১ আসনে—দাকোপ ও বটিয়াঘাটা এলাকা নিয়ে গঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ক্ষেত্র।

৩. হিন্দুনেতার ইসলামী রাজনৈতিক তাৎপর্য:

ইসলামী রাজনৈতিক আদর্শকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি দলের পক্ষ থেকে একটি সংখ্যালঘু ধর্মাবলম্বী নেতাকে মনোনয়ন দেওয়া—এটি নিছক কৌশল নয়, বরং দলের অভ্যন্তরে পরিবর্তনের একটি বহুমাত্রিক চিহ্ন।
দলের এই সিদ্ধান্ত থেকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা উঠে আসে—
(১) রাজনীতিতে প্রগতিশীলতার দাবি :
ধর্মীয় সীমা ভেঙেও যে রাজনীতি করা যায়, সেটি দল নিজেই প্রমাণ করতে চেয়েছে।
(২) সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি আস্থার বার্তা :
হিন্দু ভোটারদের প্রতি শুধু সৌজন্য নয়, বরং অংশগ্রহণমূলক রাজনীতির আহ্বান।
(৩) দলীয় গঠনে বৈচিত্র্যের প্রয়াস :
দীর্ঘদিনের একমুখী কাঠামো ভাঙার চেষ্টা।
এই সিদ্ধান্ত দলকে যেমন নতুন ভাবনায় দাঁড় করিয়েছে, তেমনি জাতীয় রাজনীতিতেও নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

৪ . ইসলামি রাজনীতির নান্দনিকও চরিত্র:

বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ দীর্ঘদিন ধরে সীমাবদ্ধ ছিল কয়েকটি দল ও নির্দিষ্ট কিছু নির্বাচনী এলাকায়। ইসলামী ধারার দলগুলো সাধারণত সেসব পরিসরে পা রাখেনি।
কৃষ্ণ নন্দীর মনোনয়ন সেই ঐতিহাসিক বাস্তবতাকে প্রশ্নের সামনে দাঁড় করিয়েছে।
হিন্দু সম্প্রদায় যখন সরাসরি একটি ইসলামী রাজনৈতিক সংগঠনের হয়ে ভোট চাইছে—এটি শুধু সাহসিকতা নয়, বরং পারস্পরিক আস্থার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এক রাজনৈতিক পার্টনারশিপ।
এই ধারা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে—

ধর্মভেদে রাজনীতি নয়, বরং অধিকার ও উন্নয়নই হয়ে উঠবে মূল প্রতিযোগিতা,

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের সুযোগ বাড়বে,

এবং দেশের সামগ্রিক গণতন্ত্র একটি প্রগতিশীল কাঠামোর দিকে এগোবে।

৫. ধর্ম বিশ্বাসে প্রগতিশীলতা :

শীতল ভোরে বটিয়াঘাটার কোলঘেঁষা মেঠোপথে হাঁটছেন কৃষ্ণ নন্দী। তাঁর আশপাশে তরুণ কর্মী, নারীরা, জেলেরা, কৃষকরা—হিন্দু-মুসলিম একসাথে।
গ্রামের মানুষের উদ্দেশে তিনি বলেন—

> “ধর্ম আমাকে নয়, আমি ধর্মকে ধারণ করি। কিন্তু রাজনীতি—এটি মানুষের জন্য।
আমি মানুষের প্রতিনিধি হতে চাই, মানুষের ধর্ম নয়।”

 

কথাগুলো বাতাসে ভেসে যায়, আর গ্রামের নারীরা বলে—
“ধর্ম ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু জমিন তো একই।”

৬. রাজনীতিতে বিবর্তন:

কৃষ্ণ নন্দীকে প্রার্থী করে জামায়াতে ইসলামীর যে বার্তা দেশের রাজনীতি পেল, তা হলো—
ধর্ম নয়, যোগ্যতা, অংশগ্রহণ ও মানবিকতা—এগুলোই ভবিষ্যৎ রাজনীতির মাপকাঠি হতে পারে।
ধর্মসীমা অতিক্রম করে যে রাজনৈতিক প্রগতিশীলতা গড়ে উঠতে পারে, কৃষ্ণ নন্দীর মনোনয়ন হয়তো তারই সূচনা রেখা।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিবর্তনের ইতিহাসে এই ঘটনা তাই একটি ছোট সিদ্ধান্ত নয়, বরং সম্ভাবনার দরজা খুলে দেওয়া এক নতুন অধ্যায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]