শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫৬ অপরাহ্ন
আবু তৈয়ব হাবিলদার নামে এক ব্যক্তি নিজেই দাবি করেছেন যে, সচিবালয় উড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ৬৯টি বোমা তার নিকট মজুত ছিলো! এটা অভিযোগ নয়, তিনি নিজেই দম্ভ করে বলেছেন যে, সচিবালয় ধ্বংস করার জন্য তার কাছে ৬৯টি বোমা জমা রয়েছে। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশত্যাগ না করলে এসব বিস্ফোরক ব্যবহার করে সচিবালয়ে হামলা চালানোর পরিকল্পনা ছিল বলেও তিনি দাবি করেছেন।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, কথিত এসব বোমা এখনো ধ্বংস বা নিষ্ক্রিয় করা হয়নি এবং সেগুলো কোথায় রাখা হয়েছে, তা-ও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। ফলে যেকোনো সময় এসব বিস্ফোরক ব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় স্থাপনা, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাধারণ মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার ওপর বড় ধরনের হুমকি সৃষ্টি হতে পারে—এমন আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সচিবালয় দেশের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি কোনোভাবেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। অভিযোগটি সত্য হলে এটি কেবল ব্যক্তিগত অপরাধ নয়; বরং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, জননিরাপত্তা এবং জাতীয় স্থিতিশীলতার জন্য সরাসরি হুমকি।
এ অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থার উচিত অবিলম্বে অভিযোগটি তদন্ত করা। তদন্তের স্বার্থে আবু তৈয়ব হাবিলদারকে বিস্ফোরক আইনে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা, তার সেই বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক মজুতস্থল শনাক্ত করা এবং সেখানে অভিযান চালিয়ে বিস্ফোরক উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয় করার ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
একই সঙ্গে তার সম্ভাব্য সহযোগীদের শনাক্তকরণ, বিস্ফোরক সংগ্রহের উৎস অনুসন্ধান এবং কোনো নাশকতার পরিকল্পনা থাকলে তা প্রতিহত করার জন্য সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা উচিত। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সম্ভাব্য ঝুঁকি অবহেলা না করে, দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়াও অপরিহার্য।
দেশের নিরাপত্তা ও জনজীবন রক্ষায় কালক্ষেপণের সুযোগ নেই। আবু তৈয়ব হাবিলদারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নয়, এটা তারই দম্ভোক্তি। তাই তদন্ত করে সত্যতা উদঘাটন, বিস্ফোরক উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয়করণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এখন রাষ্ট্রের জরুরি দায়িত্ব। সম্ভাব্য নাশকতার হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
*[ লখক অধ্যাপক এম এ বার্ণিক একজন যশস্বী প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ]*