মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ০২:১৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম
35 Thermonuclear Bombs in Iran’s Possession: Russia’s Claim Sends Shockwaves Through Global Politics— Professor M. A. Barnik ব্যাংক ম্যানেজারের উপর হামলা ও হত্যার প্রতিবাদে নবীনগরে মানববন্ধন  মাগুরার শ্রীপুরে রাস্তার বেহাল দশা, জনদুর্ভোগ চরমে! ইরানের হাতে ৩৫টি থার্মোনিউক্লিয়ার বোমা: রাশিয়ার দাবিতে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন ভূমিকম্প—অধ্যাপক এম এ বার্ণিক মাগুরায় অনলাইন জুয়া চক্রের মাস্টার মাইন্ড আমিনুল গ্রেফতার! মাগুরায় কৃষি কর্মকর্তাকে ঝুলিয়ে পেটানোর হুমকি! যুবদল নেতা বহিস্কার! বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে বাংলাদেশ সুশীল ফোরামের শোক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই-(ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।) সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের ইন্তেকাল( ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)” বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাইবার ইউজার দল (বিএনসিইউপি) শোক মাগুরায় জামায়াত মনোনীত উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো: আজমত হোসাইনের নির্বাচনী বিলবোর্ড চুরির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

*আমি নির্বিঘ্নে ভোট দিতে চাই* —-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক

সংবাদদাতা / ৮৮ বার ভিউ
সময়ঃ মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ০২:১৩ অপরাহ্ন

আমি জানি না—ভয় কখন ঠিক মানুষের ভেতরে ঢুকে পড়ে।

হয়তো সেটা কোনো এক রাতে আসে, যখন ঘরের দরজা বন্ধ থাকে, জানালা আটকানো থাকে, তবু মনে হয় কেউ ভেতরে হাঁটাহাঁটি করছে।
ভোটের আগের রাতটা ঠিক এমনই ছিল।
ঘড়ির কাঁটা বারোটা ছুঁয়েও থামছিল না। ঘুম আসছিল না, আবার জেগে থাকাটাও সাহসের কাজ হয়ে উঠছিল। বিছানায় শুয়ে আমি শুধু একটা কথাই ভাবছিলাম—
আমি কি কাল নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারব?
এই প্রশ্নটা একসময় খুব সাধারণ ছিল। এখন তা বিপজ্জনক।
আমার স্ত্রী পাশ ফিরে শুয়ে ছিল। সে ঘুমাচ্ছিল না, আমি জানতাম। মানুষের নিঃশ্বাসের মধ্যেও দুশ্চিন্তার শব্দ থাকে।
হঠাৎ সে বলল,
— যদি না যাও?
আমি কোনো উত্তর দিলাম না।
কারণ “না যাওয়া” এখন আর নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত নয়—এটা একধরনের আত্মসমর্পণ।
ভোরের আজান আমাকে নামাজের জন্য নয়, সাহস জোগানোর জন্য ডেকে তুলল। ওজু করতে করতে আয়নায় নিজের মুখটা দেখলাম। এই মুখ নিয়েই তো আমি নাগরিক—কিন্তু আয়নায় তাকিয়ে মনে হলো, নাগরিকত্বটা যেন আজ পরীক্ষার মুখে।
ভোটার কার্ডটা হাতে নিতেই বুকটা ভারী হয়ে উঠল।
কাগজের টুকরো—তবু কত মানুষের ঘুম কেড়ে নেয়!
রাস্তায় বেরিয়ে দেখি, পরিচিত শহরটা আজ অপরিচিত। মানুষ আছে, কিন্তু কথা নেই। দেয়ালে সাঁটানো পোস্টারগুলো দেখে মনে হলো, ওগুলো আর প্রতিশ্রুতি দেয় না—ওগুলো নির্দেশ দেয়।
ভোটকেন্দ্রটা আমার পুরোনো স্কুল। এখানে আমি প্রথম শিখেছিলাম—সত্য বলতে হয়, অন্যায় মেনে নেওয়া যায় না।
আজ সেই স্কুলেই ঢুকতে গিয়ে পা কাঁপছিল।
লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলোকে দেখে বুঝলাম—আমার ভয়টা একার নয়। এক বৃদ্ধ বারবার পকেট থেকে ভোটার কার্ড বের করে দেখছে, যেন হারিয়ে যাবে এই ভয়ে। এক তরুণ চোখ নামিয়ে রেখেছে—চোখ তুলে ফেললেই যেন কিছু হয়ে যাবে।
কেউ একজন ফিসফিস করে বলল,
— ভাই, ঠিকঠাক কইরেন।
ঠিকঠাক মানে কী—আমি জানি না।
আমি শুধু জানি, আমি অন্যায় করতে আসিনি।
পর্দার ভেতরে ঢুকতেই মনে হলো, চারপাশের শব্দ হঠাৎ দূরে সরে গেছে। আমি একা। শুধু আমি আর আমার সিদ্ধান্ত।
এই মুহূর্তটার জন্যই তো এত ভয়, এত চাপ।
সিল মারার আগে আমি চোখ বন্ধ করলাম।
বাবার কথা মনে পড়ল। তিনি বলতেন,
“যেদিন মানুষ ভোট দিতে ভয় পাবে, সেদিন রাষ্ট্র আর তার থাকবে না।”
আমি সিল মারলাম।
বেরিয়ে এসে আঙুলের কালি দেখলাম। অদ্ভুত ব্যাপার—এই কালি আমাকে দুর্বল করেনি, বরং সোজা করে দাঁড়াতে শিখিয়েছে।
ভোটকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আকাশের দিকে তাকালাম। সূর্যটা উঠছে। আলোটা খুব শক্তিশালী না, কিন্তু জেদি।
আমি জানি না, এই ভোটে কী হবে।
কিন্তু আজ আমি নিশ্চিত—
আমি নির্বিঘ্নে ভোট দিতে চাই বলেই
আমি এখনও নিজেকে নাগরিক বলতে পারি।
এটা শুধু একটি ভোট নয়।
এটা আমার মাথা উঁচু করে বাঁচার চেষ্টা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]