মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৬ অপরাহ্ন

শিরোনাম
ভূমি মন্ত্রণালয়ের পিয়ন হারুনের ‘শতকোটি টাকার সাম্রাজ্য’ নিজস্ব প্রতিবেদন মাগুরায় শ্রীপুর উপজেলায় জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালি বিজ্ঞানের জয়যাত্রা: মিরপুরে প্যারাডাইজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে বিজ্ঞান মেলা ২০২৬ অনুষ্ঠিত মাগুরায় চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারা চুক্তি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত মাগুরার শ্রীপুরে নবাগত ইউএনও’র সাথে প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকদের মতবিনিময় অনুষ্ঠিত জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের প্রধান আইন বিষয়ক উপদেষ্টা হলেন মাগুরার অ্যাড. কাজী আব্দুর রশিদ Five Historic Challenges Facing Tarique Rahman* *— Professor M. A. Barnik তারেক রহমানের পাঁচটি ঐতিহাসিক চ্যালেঞ্জ* *— অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* মাগুরায় শিশু একাডেমির আয়োজনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন   মাগুরায় আর্দশ শিক্ষক ফেডারেশনের আয়োজনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত

*খনিজের লোভে ভেনিজুয়েলায় মার্কিন আগ্রাসন ও আহত বিশ্ববিবেক* — অধ্যাপক এম এ বার্ণিক

সংবাদদাতা / ১২৩ বার ভিউ
সময়ঃ মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৬ অপরাহ্ন

*১. সভ্যতার মুখে এক নির্মম চপেটাঘাত*:

একবিংশ শতাব্দীর তথাকথিত সভ্য বিশ্বে দাঁড়িয়ে এমন একটি ঘটনা কল্পনাও করা যায় না—যেখানে একটি পরাশক্তি রাষ্ট্র প্রকাশ্যভাবে আরেকটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের নেতৃত্বকে গুম, অপহরণ ও রাষ্ট্রীয় অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দেয়। অথচ ভেনিজুয়েলার ক্ষেত্রে সেটিই ঘটেছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ক্ষমতার অপব্যবহার শুধু একটি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে ধ্বংস করেনি, বরং মানবাধিকারের মৌলিক ধারণাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
*২. খনিজ সম্পদের লোভে আগ্রাসন*
ভেনিজুয়েলা—ল্যাটিন আমেরিকার একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্র—বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল ও খনিজ সম্পদের ভাণ্ডার। এই সম্পদই তার অভিশাপ।
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, যেখানে সম্পদ বেশি, সেখানে আগ্রাসন আসে ছদ্মবেশে—কখনো “গণতন্ত্র”, কখনো “মানবাধিকার”, আবার কখনো “নিরাপত্তা”র নামে।
ভেনিজুয়েলার ক্ষেত্রে এই আগ্রাসন ছিল সুপরিকল্পিত—অর্থনৈতিক অবরোধ, রাজনৈতিক চাপ, অভ্যন্তরীণ বিভাজন সৃষ্টি এবং শেষপর্যন্ত রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে প্রকাশ্য শত্রুতা।

*৩. রাষ্ট্রপতি অপহরণ —আন্তর্জাতিক আইনের মৃত্যু*:

একটি রাষ্ট্রের নির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক গুম ও অপহরণের অভিযোগ শুধু ভেনিজুয়েলার জন্য নয়—সমগ্র বিশ্বের জন্য এক ভয়াবহ বার্তা।
এটি কেবল একটি ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধ নয়; এটি একটি জাতির আত্মমর্যাদার ওপর সরাসরি আঘাত।
যদি কোনো পরাশক্তি এভাবে অন্য দেশের নেতৃত্বকে অপসারণের অধিকার দাবি করে, তবে আন্তর্জাতিক আইন, রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও জাতিসংঘ সনদের আর কোনো অর্থ থাকে না।
জাতিসংঘের নীরবতা : মানবতার ব্যর্থতা
এই করুণ কাহিনীর সবচেয়ে বেদনাদায়ক অধ্যায় হলো—জাতিসংঘের নির্লিপ্ত নীরবতা।
যে প্রতিষ্ঠানটি গঠিত হয়েছিল আগ্রাসন ঠেকাতে, দুর্বল রাষ্ট্রকে রক্ষা করতে, সেখানে আজ ক্ষমতাধরদের সামনে সে যেন নির্বাক।
ভেনিজুয়েলার জনগণের কান্না, রাষ্ট্রীয় অস্থিরতা, অর্থনৈতিক বিপর্যয়—কোনোটিই বিশ্ববিবেককে নাড়া দেয়নি।
এই নীরবতা আসলে একটি নৈতিক অপরাধ।

*৪. যুক্তরাষ্ট্র কি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র*:

যখন কোনো রাষ্ট্র
অর্থনৈতিক অবরোধকে অস্ত্র বানায়,
রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রে সরকার উৎখাত করে,
নেতৃত্ব গুম ও অপহরণে জড়ায়—
তখন তাকে আর গণতন্ত্রের ধারক বলা যায় না।
এই কর্মকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রকে এক ভয়ংকর প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে—সে কি ক্রমেই একটি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের প্রতীকে পরিণত হচ্ছে?
*৫.আহত বিশ্ববিবেক ও মানবতার ডাক*:
ভেনিজুয়েলা আজ শুধু একটি দেশ নয়—এটি বিশ্বব্যবস্থার আয়না।
এই আয়নায় আমরা দেখতে পাচ্ছি শক্তির দম্ভ, মানবতার পরাজয় এবং ন্যায়ের নির্বাসন।
যদি আজ ভেনিজুয়েলার পাশে দাঁড়ানো না হয়, তবে আগামীকাল যে কোনো দুর্বল রাষ্ট্র একই পরিণতির শিকার হবে।
মানবতার প্রশ্নে নিরপেক্ষতা নেই।
ন্যায়ের প্রশ্নে নীরবতা অপরাধ।
ভেনিজুয়েলার কান্না আসলে সমগ্র মানবজাতির বিবেকের আর্তনাদ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]