শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ১০:০৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম
ক্রীড়াঙ্গনে কাজের প্রস্তাব ফেনীর সেই শিক্ষিকাকে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে খোঁজ নিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী: ঈদের জামাতে হাজারো মুসল্লির সঙ্গে নামাজ আদায় করলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বাউনিয়াবাদে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ২০০ পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা, পুনর্বাসনের আশ্বাস দিলেন আমিনুল হক মাগুরায় নতুন কুড়ি স্বর্ণপদক জয়ী অ্যাথলেট ইয়াসমিনকে শ্রীপুরে জমকালো সংবর্ধনা ধর্ষক জনতার হাতে আটক ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল নবীগঞ্জে ৩য় শ্রেণীর ছাত্রী ধর্ষিত মাগুরায় ট্রাক ড্রাইভারের হত্যার ঘটনায় পুলিশ সুপারের সংবাদ সম্মেলন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সেই সংগীতশিল্পী পরিবারকে অর্থ সহায়তা দিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। মাগুরায় অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত মাগুরায় ব্যাংক লুটেরা এস আলমের প্রত্যাবর্তনের চক্রান্তের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সমাবেশঅনুষ্ঠিত

*দুর্নীতিবাজমুক্ত নির্বাচন: তারেক রহমান কি জামায়াতের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করবেন?* —–অধ্যাপক এম এ বার্ণিক

সংবাদদাতা / ১০০ বার ভিউ
সময়ঃ শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ১০:০৭ অপরাহ্ন

একই দিন, একই দেশ—কিন্তু রাজনীতির দুই মঞ্চে দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুই ভিন্ন সুর। ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, বাংলাদেশের রাজনীতিতে যেন এক প্রতীকী দিন হয়ে উঠল—চযেখানে দুর্নীতিবিরোধী ভাষণ আর বাস্তবতার নির্মম বিদ্রুপ মুখোমুখি দাঁড়িয়ে গেল।

চট্টগ্রামের জনসভায় দাঁড়িয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা দিলেন—
ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরা হবে।
তার ভাষায় ছিল কঠোরতা, কণ্ঠে ছিল দৃঢ়তার ঝংকার, আর বক্তব্যে ছিল রাষ্ট্র শুদ্ধির প্রতিশ্রুতি। চুরি, লুটপাট, অনিয়ম—সবকিছুর বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের আশ্বাসে মুহূর্তের জন্য হলেও সমাবেশের বাতাস ভারী হয়ে ওঠে প্রত্যাশায়।
কিন্তু একই দিনে, ঢাকার ধূপখোলা মাঠে, ভিন্ন এক রাজনৈতিক মঞ্চে দাঁড়িয়ে জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি ডা. শফিকুর রহমান সেই বজ্রনিনাদের জবাবে ছুড়ে দেন প্রশ্নের তীর—
তিনি সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানান,
“যে দলে ৩৯ জন সংসদ সদস্য প্রার্থী ঋণখেলাপি ও দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত, সেই দল দিয়ে দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গড়া যায় না।”
তার বক্তব্য ছিল সরল, কিন্তু তীক্ষ্ণ। অলংকারে নয়, পরিসংখ্যানে ভর করে তিনি প্রশ্ন তুললেন—
দুর্নীতিবাজ দিয়ে কি দুর্নীতির কবর রচনা সম্ভব?
চ্যালেঞ্জ এখানেই শেষ নয়। ডা. শফিকুর রহমান প্রকাশ্যেই আহ্বান জানান—
তারেক রহমান যদি সত্যিই দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্তরিক হন, তবে ঋণখেলাপি ও দুর্নীতিবাজদের বাদ দিয়েই আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিন।
রাজনৈতিক এই দ্বন্দ্বে হঠাৎই যুক্ত হয় এক বিস্ময়কর, প্রায় রূপকথার মতো ঘটনা—
যে সমাবেশে চুরি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আগুনঝরা ভাষণ দেওয়া হলো,
সেই সমাবেশ থেকেই নিঃশব্দে চুরি হয়ে গেল ১৮টি মাইক।
বক্তব্য ছিল চুরির বিরুদ্ধে,
বাস্তবতা দাঁড়াল চুরির পক্ষে।
এই ঘটনা মুহূর্তেই রাজনীতির মঞ্চ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে—ব্যঙ্গ, বিদ্রুপ আর প্রশ্নের ঝড় বইতে থাকে সর্বত্র।
অনেকে বলছেন, এটি নিছক চুরি নয়—এ যেন রাজনৈতিক বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবতার নির্মম সংঘর্ষ।
এই প্রেক্ষাপটে দেশের রাজনীতিতে আজ একটি প্রশ্নই মুখ্য—
দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান কি কেবল মঞ্চনির্ভর উচ্চারণে সীমাবদ্ধ থাকবে,
নাকি প্রার্থী বাছাইয়ের টেবিলেও তার প্রতিফলন ঘটবে?
জামায়াত সভাপতির ছুড়ে দেওয়া চ্যালেঞ্জ এখন আর দলীয় বাগ্‌বিতণ্ডা নয়;
এটি রূপ নিয়েছে নৈতিকতার লিটমাস পরীক্ষায়।
তারেক রহমান কি পারবেন
নিজ দলের ভেতর থেকে ঋণখেলাপি ও দুর্নীতিবাজদের বাদ দিয়ে
নির্বাচনী মাঠে নামতে?
নাকি দুর্নীতিবিরোধী স্লোগান থাকবে বক্তৃতার অলংকারে,
আর বাস্তব রাজনীতি চলবে পুরোনো ছকেরই ধারাবাহিকতায়?
এই প্রশ্নের উত্তর এখনো অনুচ্চারিত।
দেশবাসী তাই অপেক্ষায়—
ভাষণের পর বাস্তব সিদ্ধান্তে
কী করেন তারেক রহমান,
সেটাই হবে আগামীর রাজনীতির আসল খেলা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]