বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:২২ অপরাহ্ন
*কি বলছে প্রশাসন, কি বলছে জনগণ*
সম্প্রতি অভিযোগ উঠেছে নাবিল গ্রুপের নাবা ফার্ম লিঃ যত্রতত্র মুরগির বিষ্ঠা ফেলে পরিবেশ দূষণ করছেন। গোগ্রাম ইউনিয়নের কমলাপুর বিল এলাকায় তারা আংশিক বর্জ্য একটি ভাগাড়ে জমিয়ে রাখছেন।পরবর্তীতে সেটি পচিয়ে জৈব সারে রুপান্তর করা হচ্ছে। এতে কৃষি খাতেও অবদান রাখছে বলে জানান নাবা ফার্ম কতৃপক্ষ। তবে জনগণ বলছেন ভাগাড়ে পড়ে থাকা বর্জ্যের গন্ধ বাতাসে ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণ করছে।এতে মাঠে কৃষিকাজ করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ছে। বায়ু দূষণের ফলে নানাবিধ সংক্রমণে আক্রান্ত হচ্ছেন চাষিরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মুরগির বিষ্ঠা থেকে প্রতিদিন গড়ে ২৫ টন কম্পোস্ট সার তৈরী করছে নাবা ফার্ম। প্রয়োজনের তুলনায় মেশিনারিজ কম থাকায় আংশিক বর্জ্য অবশিষ্ট হয়।সেগুলো একটি নির্দিষ্ট জায়গায় যা গ্রাম থেকে ২ কিমি দূরে একটি ভাগাড়ে রেখে জৈব সার তৈরী করা হয়। যা কৃষিতে ব্যাপক অবদান রাখছে বলে দাবি করেন নাবা কতৃপক্ষ। কতৃপক্ষের দাবি কম্পোস্ট তৈরীর মেশিনারিজ ইনপোর্ট প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মেশিনারিজ গুলো হাতে পেলেই অবশিষ্ট বর্জ্য আমরা কম্পোস্ট তৈরীতে ব্যবহার করবো।
কৃষিতে কম্পোস্টের প্রয়োজনীয়তা-
কম্পোস্ট সার মাটির উর্বরতা ও পানি ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। গাছের প্রয়োজনীয় পুষ্টি (নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম) সরবরাহ করে এবং রাসায়নিক সারের ব্যবহার ৪০-৬০% কমিয়ে উৎপাদন খরচ সাশ্রয় করে। এটি ১০০% প্রাকৃতিক ও পরিবেশবান্ধব জৈব সার যা মাটির গঠন উন্নত করে।উপকারী অণুজীব বৃদ্ধি করে এবং রোগজীবাণু দমন করতে সাহায্য করে।
কম্পোস্ট মাটি হালকা ও ঝরঝরে করে, যা শিকড়ের প্রসারণ এবং মাটিতে বায়ু চলাচল বৃদ্ধি করে।এটি মাটি দীর্ঘক্ষণ আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে, ফলে খরা বা শুকনো মৌসুমেও মাটিতে পানি ধরে রাখতে পারে।এতে গাছের প্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের পুষ্টিকর উপাদান (নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম) থাকে। কম্পোস্ট ঘরোয়া বর্জ্য,মুরগীর বিষ্ঠা, গোবর ও খড়কুটো থেকে তৈরি হয়, যা পরিবেশ দূষণ কমায় এবং রাসায়নিক সারের নির্ভরতা কমায়।মাটিতে উপকারী অণুজীব বা ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধিতে সহায়তা করে, যা মাটি বাহিত রোগ কমাতে সাহায্য করে।গাছের দ্রুত বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং ফল ও ফুলের উৎপাদন বৃদ্ধি করে।এটি স্বল্প খরচে তৈরি করা যায় এবং বাইরের দামী সার কেনার প্রয়োজনীয়তা কমায় ।
নাবা ফার্মে মুরগির বিষ্ঠা বা মল থেকে তৈরি কম্পোস্ট সার একটি উচ্চমানের, পুষ্টিসমৃদ্ধ জৈব সার, যা মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে অত্যন্ত কার্যকর। এটি নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম, এবং ক্যালসিয়ামের মতো অত্যাবশ্যকীয় উপাদান সরবরাহ করে মাটির গঠন উন্নত করে এবং রাসায়নিক সারের নির্ভরতা কমিয়ে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি করে।
মুরগির বিষ্ঠা সাধারণ গোবরের চেয়ে বেশি নাইট্রোজেন ও পুষ্টি উপাদান ধারণ করে, যা গাছের দ্রুত বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
এটি মাটিতে জৈব পদার্থ (Organic Matter) যোগ করে, ফলে মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা বাড়ে, বায়ু চলাচল উন্নত হয় এবং মাটির গঠন বা কাঠামোর উন্নতি ঘটে।
গবেষণায় দেখা গেছে, এই কম্পোস্ট ব্যবহারে ভুট্টা ও পাকচং ঘাসের মতো ফসলের উৎপাদন প্রচলিত পদ্ধতির চেয়ে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এটি বর্জ্য ব্যবস্থাপনার একটি টেকসই সমাধান। রাসায়নিক সারের তুলনায় এটি সাশ্রয়ী এবং পরিবেশের ক্ষতি না করে মাটিকে পুষ্ট করে।
তাজা মুরগির বিষ্ঠা সরাসরি ব্যবহার করলে গাছ পুড়ে যেতে পারে, কিন্তু কম্পোস্ট করার ফলে এটি নিরাপদ ও গন্ধহীন হয়, যা গাছের জন্য নিরাপদ পুষ্টি নিশ্চিত করে।
সরাসরি তাজা বিষ্ঠা গাছে ব্যবহার না করে অবশ্যই পচিয়ে বা কম্পোস্ট করে ব্যবহার করা জরুরী।
এছাড়াও নাবা ফার্ম দেশে আমিষের চাহিদা পূরনেও ব্যাপক অবদান রাখছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে মুরগি লালন-পালন সহ প্রতিদিন ৪.৫ লক্ষ ডিম উৎপাদন, বিক্রয়-বিপনন করছে। এতে প্রত্যক্ষ ভাবে ২২০ জন এবং পরোক্ষ ভাবে ৫০০ জন লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। যাদের অধিকাংশ প্রায় স্থানীয় বাসিন্দা। খামারটি রাজস্ব খাতেও অবদান রাখছে। কর্মসংস্থানের পাশাপশি ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে ২,৫৪,২০,০০৫ টাকা এবং ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ৩,১৯,৭৮,৪৫৪ টাকা রাজস্ব খাতে সরকারী কোষাগারে জমা করেছে নাবা কতৃপক্ষ ।
গোদাগাড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুল ইসলাম কমলাপুর এলাকার মুরগীর বিষ্ঠার ভাগাড় পরিদর্শনে গিয়ে জানান, মুরগির বিষ্ঠা গুলো খোলা জায়গায় রাখার ফলে পরিবেশ দূষণের বিষয়টি আমরা প্রতক্ষ করেছি। জনগণের অভিযোগের ভিত্তিতে সরজমিনে গিয়ে আমরা এটি দেখলাম। পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথেও কথা হয়েছে।তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।আমি তাদের পরিবেশ দূষণ আইনে নিয়মিত মামলা করার পরামর্শ দিয়েছি।