মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০১ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
মাগুরায় শ্রীপুর উপজেলায় জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালি বিজ্ঞানের জয়যাত্রা: মিরপুরে প্যারাডাইজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে বিজ্ঞান মেলা ২০২৬ অনুষ্ঠিত মাগুরায় চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারা চুক্তি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত মাগুরার শ্রীপুরে নবাগত ইউএনও’র সাথে প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকদের মতবিনিময় অনুষ্ঠিত জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের প্রধান আইন বিষয়ক উপদেষ্টা হলেন মাগুরার অ্যাড. কাজী আব্দুর রশিদ Five Historic Challenges Facing Tarique Rahman* *— Professor M. A. Barnik তারেক রহমানের পাঁচটি ঐতিহাসিক চ্যালেঞ্জ* *— অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* মাগুরায় শিশু একাডেমির আয়োজনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন   মাগুরায় আর্দশ শিক্ষক ফেডারেশনের আয়োজনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত মাগুরায় ৮ হাজার ইয়াবা ও নারীসহ ৩ মাদক কারবারি আচক! টাকা ও বাইক জব্দ!

নৌকা প্রতীক সংরক্ষণ মানে আওয়ামী লীগের জন্য নির্বাচন কমিশনের অপেক্ষা —— অধ্যাপক এম এ বার্ণিক

সংবাদদাতা / ১৬৩ বার ভিউ
সময়ঃ মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০১ পূর্বাহ্ন

১. নৌকা প্রতীক সংরক্ষণ কেন:

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা আবারও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর দলটি নিষিদ্ধ ঘোষিত হলেও, নির্বাচন কমিশনের ডাটাবেইজে এখনও “নৌকা” প্রতীকটি সংরক্ষিত রয়েছে। বিষয়টি কেবল প্রযুক্তিগত নয়—এটি রাজনৈতিক সহানুভূতি, প্রশাসনিক পক্ষপাত ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলেছে।

২. আওয়ামী লীগের নির্বাচন অংশগ্রহণের সুযোগ ধরে রাখা :

২০২৪ সালের জুলাই মাসে দেশব্যাপী জনঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন দলটির নিবন্ধন স্থগিত করে। পরবর্তীতে, নির্বাচন কমিশন নতুন নিবন্ধন নীতিমালা প্রণয়ন করলেও, আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক “নৌকা” অব্যবহৃত অবস্থায় কমিশনের ডাটাবেইজে সংরক্ষিত থাকে।
এখন অভিযোগ উঠেছে—এই প্রতীক সংরক্ষণের মাধ্যমে কমিশন ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগের পুনরাগমন ও নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ রেখে দিচ্ছে।

৩. . সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা:

বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, যার মূল কর্তব্য হলো—নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন পরিচালনা করা এবং কোনো দলকে প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা না দেওয়া। কিন্তু আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ ঘোষণার পরও তার প্রতীক সংরক্ষণ রাখা প্রশাসনিক ন্যায্যতার পরিপন্থী।
বিশেষজ্ঞ মত: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম বলেন—

> “যে দল সাংবিধানিকভাবে নিষিদ্ধ, তার প্রতীক সংরক্ষণ রাখা মানে নির্বাচন কমিশন ভবিষ্যৎ কোনো রাজনৈতিক সুবিধার পথ খুলে দিচ্ছে। এটি নৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য।”

৪. রাজনৈতিক সহানুভূতির অভিযোগ:

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামী লীগ শাসনামলে নিয়োগপ্রাপ্ত বর্তমান কমিশনের কয়েকজন কর্মকর্তা দলীয় আনুগত্যে পরিচিত ছিলেন। ফলে কমিশনের এই আচরণকে অনেক বিশ্লেষক দেখছেন “রাজনৈতিক ঋণ শোধের” অংশ হিসেবে। একজন প্রবীণ
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন,

> “নৌকা প্রতীক সংরক্ষণ কেবল প্রশাসনিক নয়, এটি একপ্রকার ‘রাজনৈতিক বার্তা’। কমিশন এখনো পুরনো অভিভাবকত্বের ছায়া কাটাতে পারেনি।”

 

৫. ভবিষ্যৎ নির্বাচনের বৈধতা প্রশ্নে:

যদি নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগের প্রতীক বাতিল না করে, তবে আসন্ন স্থানীয় সরকার ও জাতীয় নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠবে।
জাতীয় নাগরিক ফোরামের আহ্বায়ক সারজিস আলম মন্তব্য করেন—

> “একটি দল নিষিদ্ধ, কিন্তু তার প্রতীক বৈধ—এমন বৈপরীত্যে কোনো নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। জনগণের বিশ্বাস হারাবে নির্বাচন কমিশন।”

৬. গণতন্ত্র ও নৈতিক আস্থার সংকট:

নির্বাচন কমিশনের এধরণের আচরণ গণতান্ত্রিক আস্থার মূল কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। জনগণের বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন ব্যবস্থার ভিত্তি হলো—নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা ও রাজনৈতিক সমদূরত্ব। যদি কমিশন একটি নির্দিষ্ট দলকে সুবিধা দেয়, তবে ভবিষ্যতের গণতান্ত্রিক পথচলা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

৭. নৌকা প্রতীক সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে হবে : উচিত অবিলম্বে আওয়ামী লীগের “নৌকা” প্রতীকটি ডাটাবেইজ থেকে বাতিল করা এবং একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো যে, কোনো নিষিদ্ধ দল বা তাদের প্রতীক ভবিষ্যতের নির্বাচনে ব্যবহার করা যাবে না।
যদি কমিশন তা করতে ব্যর্থ হয়, তবে রাজনৈতিক ও নাগরিক মহলে এই কমিশনের প্রতি আস্থা পুনরুদ্ধার অসম্ভব হয়ে পড়বে। আমরা মনে করি,

> “নির্বাচন কমিশন যদি নৌকা বণ্টন না-বন্ধ করে, তবে এই কমিশন দিয়ে ভবিষ্যৎ নির্বাচন আয়োজন করা অনৈতিক ও অনুপযুক্ত হবে।”

এই ঘটনা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত নির্দেশ করছে। নির্বাচন কমিশনের একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত আজ গণতন্ত্রের নৈতিক পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে—তারা কি দলীয় উত্তরাধিকার রক্ষা করবে, নাকি জনগণের আস্থা পুনর্গঠন করবে—এই প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]