শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:২৮ অপরাহ্ন

শিরোনাম
Macca Defence Pact: A Severe Setback to India’s Strategic Calculations* *— Professor MA Barnik *মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি : ভারতের স্ট্র্যাটেজিক হিসাব-নিকাশে বড় ধরনের ধাক্কা— অধ্যাপক এম এ বার্ণিক মাগুরার শ্রীপুরে বিদ্যুতায়িত হয়ে এক যুবকের মৃত্যু, আহত আরো -২জন চাটমোহরে তেল-জেলিতে তৈরি হচ্ছিল নকল দুধ, ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড ও জরিমানা The Mecca Defence Pact: India’s Concerns, the Positions of Major Powers, and Bangladesh’s Potential Gains and Losses* *–Professor M. A. Barnik মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি: ভারতের উদ্বেগ, পরাশক্তিদের অবস্থান এবং বাংলাদেশের সম্ভাব্য লাভ-ক্ষতি* *—অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* কেন্দ্রীয় যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি পলের রোগমুক্তিতে এস. আলম ইসরাৎ এর উদ্যোগে দোয়া আন্দালিব রহমান পার্থকে তথ্যমন্ত্রী করায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দকে মিষ্টিমুখ করালো বিজেপি ভাষা সৈনিক অজিত গুহ মহাবিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা:) উদযাপন মাগুরায় ৭ ভুয়া সিআইডি সদস্য আটক, নারী অপহরণের চেষ্টা ব্যর্থ!

ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরের এক নতুন রাজনৈতিক বার্তা –অধ্যাপক এম এ বার্ণিক*

সংবাদদাতা / ২১৭ বার ভিউ
সময়ঃ শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:২৮ অপরাহ্ন

*১. রাজনীতির ইতিহাসের বিরল ঘটনা* :

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে এক বিরল রাজনৈতিক দৃশ্যের জন্ম দিলেন বিএনপির এমপি ব্যারিস্টার নওশাদ জমির। নিজ দলের অবস্থানের বিপরীতে গিয়ে তিনি যে সাহসী ও নীতিনিষ্ঠ বক্তব্য প্রদান করেছেন, তা কেবল সংসদকক্ষেই নয়—সারাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তার এই অবস্থানকে অনেকে “দলীয় শৃঙ্খলার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ” হিসেবে দেখলেও, বাস্তবে এটি ছিল রাষ্ট্রচিন্তা, গণতন্ত্র ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধিকার রক্ষার একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ।

*২. প্রেক্ষাপট: দুটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ*
সংসদে আলোচিত দুটি অধ্যাদেশ ছিল—
(১) বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করা।
(২) একটি স্বাধীন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠন।
এই দুটি উদ্যোগ রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক কাঠামোতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং মানবাধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।

*৩.দলীয় অবস্থান বনাম ব্যক্তিগত বিবেক*:
বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে এই অধ্যাদেশ দুটির বিরোধিতা করে। কিন্তু ব্যারিস্টার নওশাদ জমির সেই অবস্থানের বাইরে গিয়ে যুক্তি তুলে ধরেন যে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ছাড়া ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, নির্বাহী বিভাগের প্রভাবমুক্ত না হলে বিচার বিভাগ কখনোই জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারবে না।
একইভাবে, একটি স্বাধীন মানবাধিকার কমিশনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি যুক্তি দেন—রাষ্ট্র যদি নিজেই নাগরিক অধিকারের রক্ষক না হয়, তবে গণতন্ত্র কেবল একটি মুখোশে পরিণত হবে।

*৪. রাজনৈতিক সাহস নাকি কৌশলগত বার্তা*:
তার এই অবস্থানকে অনেকেই রাজনৈতিক সাহসিকতা হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। কারণ বাংলাদেশের প্রচলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বক্তব্য দেওয়া প্রায় অসম্ভব একটি বিষয়। তবে বিশ্লেষকরা এটিকে একটি কৌশলগত বার্তা হিসেবেও দেখছেন—দলের ভেতরে ভিন্নমতের জায়গা তৈরি করা এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের নতুন ধারা সূচিত করা।

*৫. গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির নতুন দিগন্ত*:
ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরের এই পদক্ষেপ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে নিয়ে আসে—বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো কি সত্যিই অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে? নাকি দলীয় আনুগত্যই একমাত্র মানদণ্ড?
তার বক্তব্য প্রমাণ করে, ব্যক্তি যদি নীতিগতভাবে দৃঢ় হন, তবে দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়েও জনগণের পক্ষে কথা বলা সম্ভব। এটি ভবিষ্যতের রাজনীতিবিদদের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে।

*৬. ইতিবাচক আলোড়ন*:
ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরের সংসদে দেওয়া এই বক্তব্য কেবল একটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়; এটি একটি বার্তা—গণতন্ত্র কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠতার খেলা নয়, বরং ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর সাহস।
তার এই অবস্থান হয়তো দলীয় রাজনীতিতে অস্বস্তি তৈরি করেছে, কিন্তু রাষ্ট্র ও গণতন্ত্রের বৃহত্তর স্বার্থে এটি একটি ইতিবাচক এবং প্রয়োজনীয় আলোড়ন হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নিতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]