মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:১৬ পূর্বাহ্ন
বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ ও শরণখোলা উপজেলার উপকূলীয় মানুষের সুপেয় পানির সংকট নিরসন ও পানির অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে নাগরিক সমাবেশ, পদযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল ১০টায় মোড়েলগঞ্জে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ডিএমজেড ও নেটজ বাংলাদেশের সহযোগিতায় এবং জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের সৃজন প্রকল্পের সহায়তায় মোড়েলগঞ্জ ও শরণখোলার ভুক্তভোগী নাগরিক সমাজ এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. আব্দুল আলীম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুল্লাহ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, উপকূলীয় এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে মিষ্টি পানির উৎস নষ্ট হয়ে যাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে মানুষ সুপেয় পানির সংকটে ভুগছেন। নিরাপদ পানির অভাবে বিশেষ করে উপকূলের প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে।
সমাবেশ থেকে সংকট নিরসনে বেশ কিছু দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে ব্যক্তি ও কমিউনিটি পর্যায়ে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য রেইনওয়াটার হার্ভেস্টিং ব্যবস্থা স্থাপন ও সম্প্রসারণ, সরকারি পুকুর ও জলাধার নিয়মিত খনন, পুনঃখনন ও সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও লবণাক্ততা প্রতিরোধে দ্রুত বাঁধ সংস্কারের দাবি জানানো হয়।
এ ছাড়া অকার্যকর পিএসএফ মেরামত ও নতুন পিএসএফ স্থাপন, ইউনিয়ন পর্যায়ে পানি ব্যবস্থাপনা কমিটি সক্রিয় করা, নিয়মিত পানির মান পরীক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদে জলবায়ু-সহনশীল বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করার দাবি জানান বক্তারা।
আয়োজকেরা বলেন, উপকূলীয় মানুষের সুপেয় পানির অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে পানির সংকট মোকাবিলা না করলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ভবিষ্যতে এ সংকট আরও তীব্র হতে পারে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের সৃজন প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক আব্দুল মান্নান, স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী, যুব প্রতিনিধি, এনজিও প্রতিনিধি ও বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের সৃজন প্রকল্পের ইউনিট ম্যানেজার মো. জিল্লুর রহমান।
আয়োজকেরা জানান, উপকূলীয় মানুষের সুপেয় পানির অধিকার বাস্তবায়ন ও পানির সংকট নিরসনে তাদের এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।