শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৩৬ অপরাহ্ন

শিরোনাম
আজকের মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের সমৃদ্ধ – মাগুরায় কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নূরুল ইসলাম সাদ্দাম Macca Defence Pact: A Severe Setback to India’s Strategic Calculations* *— Professor MA Barnik *মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি : ভারতের স্ট্র্যাটেজিক হিসাব-নিকাশে বড় ধরনের ধাক্কা— অধ্যাপক এম এ বার্ণিক মাগুরার শ্রীপুরে বিদ্যুতায়িত হয়ে এক যুবকের মৃত্যু, আহত আরো -২জন চাটমোহরে তেল-জেলিতে তৈরি হচ্ছিল নকল দুধ, ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড ও জরিমানা The Mecca Defence Pact: India’s Concerns, the Positions of Major Powers, and Bangladesh’s Potential Gains and Losses* *–Professor M. A. Barnik মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি: ভারতের উদ্বেগ, পরাশক্তিদের অবস্থান এবং বাংলাদেশের সম্ভাব্য লাভ-ক্ষতি* *—অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* কেন্দ্রীয় যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি পলের রোগমুক্তিতে এস. আলম ইসরাৎ এর উদ্যোগে দোয়া আন্দালিব রহমান পার্থকে তথ্যমন্ত্রী করায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দকে মিষ্টিমুখ করালো বিজেপি ভাষা সৈনিক অজিত গুহ মহাবিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা:) উদযাপন

সন্ধিক্ষণে নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাত ও রাষ্ট্রীয় সংকট* —–অধ্যাপক এম এ বার্ণিক

সংবাদদাতা / ১৪৪ বার ভিউ
সময়ঃ শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৩৬ অপরাহ্ন

১. পক্ষপাতিত্বের দৃষ্টান্ত*:

একটি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামোর মূল ভিত্তি হলো আইনের শাসন এবং সেই আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ। নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিকভাবে যে দায়িত্ব পালন করে, তা কেবল ভোট আয়োজন নয়—বরং নির্বাচনের আগেই প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাই, অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং আইনি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাও তার অবিচ্ছেদ্য কর্তব্য। কিন্তু সাম্প্রতিক বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, অভিযুক্ত ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের বিষয়ে তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ না করেই নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে তাদের বৈধতা প্রদান করা হয়েছে, যা রাষ্ট্রের প্রতি চরম ধৃষ্টতা প্রদর্শনের শামিল।

*২.অভিযোগ নিষ্পত্তি ছাড়া বৈধতা—আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন*:

সংবিধান ও নির্বাচন কমিশন আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি ঋণখেলাপি হলে বা দ্বৈত নাগরিকত্বে যুক্ত থাকলে তিনি সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হওয়ার যোগ্য নন। এ ধরনের অভিযোগ উঠলে তা তদন্ত করে নিষ্পত্তি করা নির্বাচন কমিশনের বাধ্যতামূলক দায়িত্ব। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, অভিযোগগুলো “মুলতবি” বা “অমীমাংসিত” রেখেই মনোনয়ন বহাল রাখা হচ্ছে। এটি কেবল প্রশাসনিক অবহেলা নয়; বরং আইনের সচেতন উপেক্ষা।

*৩.পক্ষপাতের ছাপ ও আস্থার সংকট*:

যখন একই ধরনের অভিযোগে কোনো কোনো প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়, অথচ প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের অভিযুক্ত প্রার্থীরা অনায়াসে ছাড় পেয়ে যান—তখন নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়া অনিবার্য। এই বৈষম্যমূলক আচরণ নির্বাচন কমিশনকে একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান থেকে রাজনৈতিক পক্ষের রক্ষাকবচে পরিণত করেছে বলে জনমনে ধারণা জন্ম নিচ্ছে।
রাষ্ট্রের প্রতি ধৃষ্টতা কেন
রাষ্ট্র মানে কেবল সরকার নয়; রাষ্ট্র মানে সংবিধান, আইন, বিচারব্যবস্থা ও নাগরিকদের সম্মিলিত অধিকার। অভিযুক্তদের বিষয়ে তদন্ত ছাড়াই বৈধতা দেওয়া মানে—
সংবিধানের বিধানকে অকার্যকর করা
আইনশাসনের ভিত্তিকে দুর্বল করা
সাধারণ নাগরিকের জন্য আইন কঠোর, ক্ষমতাবানদের জন্য শিথিল—এই বার্তা দেওয়া
এই অবস্থান রাষ্ট্রের প্রতি চরম ধৃষ্টতা ছাড়া আর কিছুই নয়।

*৪.নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের অনিবার্যতা*:

এমন গুরুতর অভিযোগের সুরাহা হওয়ার আগে বর্তমান পক্ষপাতদুষ্ট নির্বাচন কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই—
কমিশনের গঠন, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ও দায়বদ্ধতা পুনর্মূল্যায়ন
অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য স্বচ্ছ ও সময়বদ্ধ কাঠামো
রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত কমিশন পুনর্গঠন
এগুলো এখন আর দাবি নয়, বরং রাষ্ট্রীয় প্রয়োজন।

*৫. কমিশনের দায় রাষ্ট্রের উপর বর্তায়*:

নির্বাচন কমিশন যদি অভিযুক্তদের ঢাল হয়ে দাঁড়ায়, তবে নির্বাচন আর গণতন্ত্রের অনুষঙ্গ থাকে না—তা হয়ে ওঠে ক্ষমতা বৈধ করার আনুষ্ঠানিক আয়োজন মাত্র। রাষ্ট্রকে এই সংকট থেকে রক্ষা করতে হলে আগে পক্ষপাতদুষ্ট নির্বাচন কমিশনের সংস্কার ও পুনর্গঠন অপরিহার্য। অন্যথায়, অবিশ্বাস, অস্থিরতা ও সাংবিধানিক সংকট আরও গভীর হবে—যার দায় শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রকেই বহন করতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]