শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫৭ অপরাহ্ন
এশিয়া বাণী ও The Daily Muslim Times পত্রিকার মালিক জনাব তাজুল ইসলাম সম্প্রতি পত্রিকা দুটির লেখকদের নিয়ে একটি চা-চক্রের আয়োজন করেন। এসময় লেখকদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সমন্বয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে দৈনিক এশিয়া বাণী ও The Daily Muslim Times লেখক ফোরাম গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। একইসঙ্গে লেখকদের পত্রিকার Directorship গ্রহণ, পত্রিকার জন্য বিজ্ঞাপন সংগ্রহ এবং পত্রিকার ব্যবসায়িক ও আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে কাজ করার সুযোগ রাখার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
লেখক ফোরাম গঠন এবং লেখকদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখা যায়। তবে লেখকদের সাংবাদিকতা ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার বিষয়টি নিয়ে আমার একটি মৌলিক আপত্তি রয়েছে।
আমার দৃষ্টিতে, একজন লেখক যখন একটি সংবাদপত্রে সাংবাদিক, কলামিস্ট, নিবন্ধকার বা মতামত লেখক হিসেবে যুক্ত থাকেন, তখন তাঁর প্রধান পরিচয় হওয়া উচিত একজন লেখক ও সাংবাদিক হিসেবে। সেই অবস্থানে থেকে একই পত্রিকার Directorship গ্রহণ করা, বিজ্ঞাপন সংগ্রহ করা কিংবা পত্রিকার ব্যবসায়িক ও আর্থিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়া সাংবাদিকতার পেশাগত নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতার প্রশ্ন সৃষ্টি করতে পারে।
সাংবাদিকতার অন্যতম প্রধান শক্তি হলো স্বাধীনতা, নিরপেক্ষতা, বিশ্বাসযোগ্যতা ও স্বার্থের সংঘাত থেকে মুক্ত থাকা। একজন লেখক যদি একইসঙ্গে পত্রিকার পরিচালক বা ব্যবসায়িক প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, তাহলে তাঁর লেখা, মতামত কিংবা সংবাদ বিশ্লেষণের সঙ্গে ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবসায়িক স্বার্থের সম্পর্ক আছে কি না—এমন প্রশ্ন পাঠকের মনে স্বাভাবিকভাবেই সৃষ্টি হতে পারে।
বিশেষ করে বিজ্ঞাপন সংগ্রহের দায়িত্ব সাংবাদিকতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। বিজ্ঞাপন সংগ্রহ মূলত পত্রিকার ব্যবসায়িক ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের অংশ। একইভাবে পত্রিকার আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে কাজ করা, ব্যবসায়িক অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ করা কিংবা বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাও সাংবাদিকতার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না।
আমি মনে করি, সাংবাদিকতা এবং পত্রিকার ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড—এই দুটি ক্ষেত্রের মধ্যে একটি সুস্পষ্ট পেশাগত সীমারেখা থাকা প্রয়োজন। লেখকরা পত্রিকার মানোন্নয়ন, পাঠক বৃদ্ধি, ভালো লেখা, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা, জনস্বার্থের বিষয় তুলে ধরা এবং পত্রিকার বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। কিন্তু তাঁদের সাংবাদিকতার পরিচয়কে ব্যবহার করে বিজ্ঞাপন সংগ্রহ বা সরাসরি ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা হলে সাংবাদিকতার পেশাগত স্বাতন্ত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
তাই আমার ব্যক্তিগত ও নীতিগত অবস্থান হলো—লেখকদের পত্রিকার Directorship গ্রহণ করা উচিত নয়, যদি সেই Directorship মূলত ব্যবসায়িক ও বাণিজ্যিক দায়িত্বের সঙ্গে যুক্ত হয়। একইভাবে একজন লেখককে সাংবাদিকতার পাশাপাশি পত্রিকার বিজ্ঞাপন সংগ্রহ বা ব্যবসায়িক আর্থিক কর্মকাণ্ডের দায়িত্ব দেওয়াও আমি সঠিক মনে করি না।
পত্রিকার মালিকানা ও ব্যবসায়িক ব্যবস্থাপনা মালিকপক্ষ ও নির্ধারিত ব্যবসায়িক ব্যবস্থাপনার হাতে থাকুক; আর লেখক ও সাংবাদিকরা তাঁদের নিজ নিজ সাংবাদিকতা, লেখালেখি, গবেষণা, মতামত প্রকাশ ও জনস্বার্থের বিষয় তুলে ধরার পেশাগত দায়িত্ব পালন করুন। এতে উভয় পক্ষের ভূমিকা যেমন পরিষ্কার থাকবে, তেমনি পত্রিকার প্রতি পাঠকের আস্থা ও বিশ্বাসযোগ্যতাও অক্ষুণ্ণ থাকবে।
সাংবাদিকতার কলম যেন ব্যবসায়িক স্বার্থের হাতিয়ার না হয়—এটাই হওয়া উচিত আমাদের মূল নীতিগত অবস্থান।