মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম
35 Thermonuclear Bombs in Iran’s Possession: Russia’s Claim Sends Shockwaves Through Global Politics— Professor M. A. Barnik ব্যাংক ম্যানেজারের উপর হামলা ও হত্যার প্রতিবাদে নবীনগরে মানববন্ধন  মাগুরার শ্রীপুরে রাস্তার বেহাল দশা, জনদুর্ভোগ চরমে! ইরানের হাতে ৩৫টি থার্মোনিউক্লিয়ার বোমা: রাশিয়ার দাবিতে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন ভূমিকম্প—অধ্যাপক এম এ বার্ণিক মাগুরায় অনলাইন জুয়া চক্রের মাস্টার মাইন্ড আমিনুল গ্রেফতার! মাগুরায় কৃষি কর্মকর্তাকে ঝুলিয়ে পেটানোর হুমকি! যুবদল নেতা বহিস্কার! বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে বাংলাদেশ সুশীল ফোরামের শোক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই-(ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।) সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের ইন্তেকাল( ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)” বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাইবার ইউজার দল (বিএনসিইউপি) শোক মাগুরায় জামায়াত মনোনীত উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো: আজমত হোসাইনের নির্বাচনী বিলবোর্ড চুরির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

স্বচ্ছ নির্বাচনের পথে অদৃশ্য চাপের শৃঙ্খল —-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক

সংবাদদাতা / ১৪৪ বার ভিউ
সময়ঃ মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৩ অপরাহ্ন

১. গণতন্ত্র মঞ্চে আশার কাব্য :

স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলা যায় যে, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, অনুষ্ঠিত
ডাকসু নির্বাচন ছিলো এক নির্মল ভোরের মতো—দীর্ঘ অন্ধকারের পর সূর্যের প্রথম কিরণ। কোনো প্রশাসনিক রোষানল, কোনো পেশিশক্তির দাপট বা কারচুপির কালো ছায়া ছাড়াই অনুষ্ঠিত এ নির্বাচন দেশবাসীর মনে জাগিয়েছে স্বচ্ছতার আস্থা। মনে হচ্ছিল, এ যেন গণতন্ত্রের মঞ্চে নূতন করে রচিত হচ্ছে আশার কাব্য।

কিন্তু সেই আলো দীর্ঘস্থায়ী হলো না। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জাকসু নির্বাচন সামনে আসতেই স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার আকাশে জমল ঘন কালো মেঘ। ডাকসুর স্বচ্ছতার আলো যেখানে জাতীয় নির্বাচনের পথ আলোকিত করার কথা, সেখানে জাকসুর অভিজ্ঞতা যেন সেই আলোকে ঢেকে দিলো এক অদৃশ্য চাপের শৃঙ্খলে।

২. জাহাঙ্গীরনগরে অদৃশ্য নাটকের মঞ্চায়ন :

অভিযোগ উঠেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য থেকে শুরু করে নির্বাচন কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরা বিএনপির প্রভাবাধীন। এমনকি নির্বাচনের দিন ক্যাম্পাসে ঝাঁকে ঝাঁকে প্রবেশ করেছে বহিরাগত অনুপ্রবেশকারীরা—তাদের চেহারায় দলীয় ছাপ স্পষ্ট। মনে হচ্ছিল, এটি আর বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন নয়; বরং এক অদৃশ্য নাটকের মঞ্চায়ন, যেখানে প্রতিটি চরিত্র একই দলের নির্দেশনায় অভিনয় করছে।

তবুও সবকিছু অগ্রাহ্য করে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির। এখানে যেনো এক নীরব বার্তা উচ্চারিত হয়েছে—সত্যকে বাঁধা দেওয়া যায়, কিন্তু তাকে চিরকাল দমিয়ে রাখা যায় না।

৩. ফল পাল্টাতে না-পেরে চাপের খেলা :

ফলাফল বদলানো সম্ভব না বুঝেই শুরু হয় নতুন খেলা। নির্বাচন কমিশনের ভেতরে একের পর এক পদত্যাগ যেনো রাজনৈতিক চাপের কাছে আত্মসমর্পণের প্রতীক হয়ে ওঠে। পদত্যাগগুলো ছিল না বিবেকের স্বাধীন সিদ্ধান্ত; বরং ছিল রাজনৈতিক স্রোতের টানে ভেসে যাওয়া শুকনো পাতার মতো—যারা প্রবল হাওয়ার কাছে টিকতে পারে না।

এই অদৃশ্য চাপের খেলা প্রথমে সূক্ষ্মভাবে দেখা গেল ডাকসুতে, কিন্তু জাকসুতে এসে তা নগ্ন ও দৃষ্টিকটু আকারে প্রকাশ পেলো।

 

৪. জাতির জন্য অশনি সংকেত :

ডাকসু নির্বাচনের অভিজ্ঞতা ছিল এক আলোকবর্তিকা—যা জাতীয় নির্বাচনকে স্বচ্ছতার পথে পরিচালিত করতে পারত। কিন্তু জাহাঙ্গীরনগরের অভিজ্ঞতা সেই আলোর বাতিকে নিভিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের মতো। যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই নির্বাচনী প্রক্রিয়া রাজনৈতিক চাপের শৃঙ্খলে আবদ্ধ থাকে, তবে জাতীয় নির্বাচনও যে একই পথে জড়িয়ে পড়বে, তা অনুমান করাই যায়।

এ যেন নদীর উজানে বিষ ঢেলে দেওয়া—যেখানে অম্লজল একবার মিশে গেলে নিম্নস্রোতও আর বিশুদ্ধ থাকে না।

 

৫. সত্যের জয় অবিসম্ভাবী :

ডাকসুর স্বচ্ছ নির্বাচন প্রমাণ করেছে—বাংলাদেশের মানুষ সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়াকে আপন করে নিতে প্রস্তুত। জাকসুর অভিজ্ঞতা যদিও রাজনৈতিক চাপে বিপর্যস্ত, তবুও এ লড়াই শেষ নয়।

স্বচ্ছ প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করার এই অন্ধ প্রচেষ্টা যত গভীর হোক না কেন, সত্যের সূর্য একদিন উদিত হবেই। কারণ ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—অন্যায় যত বড়ই হোক, তার পতন অনিবার্য। আর সত্য, যদিও ক্ষণিকের জন্য আড়াল হয়, শেষ পর্যন্ত সে-ই জয়ী হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]