মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫০ অপরাহ্ন

শিরোনাম
ভূমি মন্ত্রণালয়ের পিয়ন হারুনের ‘শতকোটি টাকার সাম্রাজ্য’ নিজস্ব প্রতিবেদন মাগুরায় শ্রীপুর উপজেলায় জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালি বিজ্ঞানের জয়যাত্রা: মিরপুরে প্যারাডাইজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে বিজ্ঞান মেলা ২০২৬ অনুষ্ঠিত মাগুরায় চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারা চুক্তি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত মাগুরার শ্রীপুরে নবাগত ইউএনও’র সাথে প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকদের মতবিনিময় অনুষ্ঠিত জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের প্রধান আইন বিষয়ক উপদেষ্টা হলেন মাগুরার অ্যাড. কাজী আব্দুর রশিদ Five Historic Challenges Facing Tarique Rahman* *— Professor M. A. Barnik তারেক রহমানের পাঁচটি ঐতিহাসিক চ্যালেঞ্জ* *— অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* মাগুরায় শিশু একাডেমির আয়োজনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন   মাগুরায় আর্দশ শিক্ষক ফেডারেশনের আয়োজনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত

ইসলামী ইরানে নারী প্রযুক্তিবিদদের এক নীরব বিপ্লব* *—–অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* *১. বিপ্লবের আগুন থেকে জ্ঞানের প্রদীপ*

সংবাদদাতা / ১৬৩ বার ভিউ
সময়ঃ মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫০ অপরাহ্ন

১. বিপ্লবের আগুন থেকে জ্ঞানের প্রদীপ:

মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে বহু ঝড় বয়ে গেছে। কিন্তু কখনও কখনও ঝড়ই নতুন অরণ্যের জন্ম দেয়।
১৯৭৯ সালের Iranian Revolution-এর পর Iran যেন এক নতুন পথ বেছে নেয়—জ্ঞান, শিক্ষা এবং প্রযুক্তির পথ।
সেই পথে হাঁটতে শুরু করে এক নতুন প্রজন্ম।
আর সেই প্রজন্মের অগ্রভাগে দাঁড়িয়ে থাকে নারীরা—মাথায় জ্ঞানের আলো, চোখে ভবিষ্যতের নকশা।
তারা আর কেবল ঘরের প্রদীপ নয়; তারা গবেষণাগারের সূর্য, প্রযুক্তির কারখানার আগুন, আর প্রতিরক্ষা গবেষণার নীরব স্থপতি।

*২. শিক্ষা ও জ্ঞানের নদী যেখানে নারীর স্রোত*:
পারস্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আজ যেন জ্ঞানের অরণ্য।
এই অরণ্যে সবচেয়ে দ্রুত বেড়ে ওঠা বৃক্ষগুলো হলো নারীরা।
University of Tehran,
Sharif University of Technology,
এবং Amirkabir University of Technology-এর ক্যাম্পাসে আজ হাজার হাজার নারী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির স্বপ্ন বুনছে।
এই শিক্ষাবিপ্লবের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র
Maryam Mirzakhani বিষয়টি সর্বাগ্রে সামনে আসে। তিনি
ছিলেন যেন পারস্যের মরুভূমিতে হঠাৎ ফুটে ওঠা এক জ্যামিতির গোলাপ।
গণিতের জটিল জগতকে তিনি এমনভাবে উন্মোচন করেছিলেন, যেন কঠিন সমীকরণগুলো তার হাতে এসে কবিতার ছন্দে নেচে উঠত।
বিশ্বের সর্বোচ্চ গণিত সম্মান Fields Medal জয় করে তিনি প্রমাণ করেন—
জ্ঞান যখন ডানা মেলে, তখন তার কোনো লিঙ্গ থাকে না।

*৩. ল্যাবরেটরির আলোয় নারীর পদচারণ*:
ইরানের গবেষণাগারগুলোতে আজ এক নীরব বিপ্লব চলছে।
মাইক্রোস্কোপের নিচে কোষের নাচন, কম্পিউটার স্ক্রিনে ডেটার স্রোত—সবখানেই নারী বিজ্ঞানীদের হাতের ছাপ।
পরিবেশ বিজ্ঞান থেকে ন্যানো প্রযুক্তি—সবখানেই নারীরা জ্ঞানের নতুন অধ্যায় লিখছে।
এই অগ্রযাত্রার প্রথমেই
Massoumeh Ebtekar-এর নামটি সামনে চলে আসে।
তিনি বিজ্ঞানী, নীতিনির্ধারক এবং পরিবেশ আন্দোলনের কণ্ঠস্বর।
ইরানের পরিবেশ সংরক্ষণ নীতিতে তার ভূমিকা যেন মরুভূমির মাঝে এক সবুজ বাগান রোপণের মতো।
তার নেতৃত্বে পরিবেশ গবেষণার নতুন অধ্যায় শুরু হয়—যেখানে নারী বিজ্ঞানীরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

*৪. প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও যুদ্ধক্ষেত্রে নারী স্থপতিরা*:
যুদ্ধক্ষেত্রের গর্জন যতটা দৃশ্যমান, তার চেয়েও বড় যুদ্ধ চলে গবেষণাগারের ভেতরে।
সেই নীরব যুদ্ধের সৈনিকদের মধ্যে রয়েছেন বহু নারী প্রকৌশলী।
ইরানের প্রতিরক্ষা গবেষণার মূল কেন্দ্রগুলো
Islamic Revolutionary Guard Corps এবং
Iran Ministry of Defence-এর অন্তর্ভুক্ত।
এই গবেষণাগারগুলোতে সাইবার নিরাপত্তা, ড্রোন প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় নারী প্রকৌশলীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
প্রযুক্তি নীতি ও উদ্ভাবনের বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন
Sourena Sattari নামের এক মহীয়সী নারী।
তার উদ্যোগে গড়ে ওঠা প্রযুক্তি পার্ক ও গবেষণা উদ্যোগে বহু নারী প্রকৌশলী নিজেদের দক্ষতা বিকাশের সুযোগ পান।
এই ল্যাবগুলোতে রাত জেগে কোড লেখা তরুণী প্রকৌশলীরা যেন অদৃশ্য ঢাল বানাচ্ছেন—যা দেশের নিরাপত্তাকে শক্তিশালী করে।

*৫. তথ্যপ্রযুক্তি বিপ্লবে প্রাগ্রসর নারীদের বিস্ময়কর উত্থান*:
যখন পৃথিবী ডিজিটাল যুগে প্রবেশ করছে, তখন ইরানের তরুণীরা কম্পিউটার স্ক্রিনের সামনে বসে নতুন পৃথিবী নির্মাণ করছে।
তেহরান, ইসফাহান এবং শিরাজ শহরের প্রযুক্তি স্টার্টআপগুলো যেন এক নতুন সিলিকন ভ্যালি।
Anousheh Ansari হলেন এই বিপ্লবের অগ্রসেনানী।
তিনি শুধু প্রযুক্তি উদ্যোক্তা নন—
তিনি সেই নারী, যিনি পৃথিবীর সীমা ভেঙে মহাকাশে উড়েছিলেন।
যেন পারস্যের আকাশে এক নতুন নক্ষত্র।
তার যাত্রা দেখিয়ে দিয়েছে—
স্বপ্ন যদি যথেষ্ট বড় হয়, তবে পৃথিবীও ছোট হয়ে যায়।

*৬. সমাজ ও সংগ্রামের অগ্রযাত্রায় নারীরা*:
ইরানের নারীদের অগ্রযাত্রা সবসময় সহজ ছিল না।
সমাজের নিয়ম, পোশাকবিধি, রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতা—সবকিছুর মাঝেই তাদের এগিয়ে যেতে হয়েছে।
কিন্তু ইতিহাস বলে—
যে নদী পাহাড় ভেঙে পথ বানায়, তার স্রোত থামানো যায় না।
ইরানের নারী সমাজও ঠিক তেমনই—
বাধার পাথর ভেঙে তারা এগিয়ে চলেছে জ্ঞানের সাগরের দিকে।

*৭. জ্ঞানের আকাশে নারী নক্ষত্রমালা*:
আজকের ইরানে নারী মানে কেবল পরিবারের অভিভাবক নন।
তিনি—
গণিতের গবেষক
সফটওয়্যার প্রকৌশলী
পরিবেশ বিজ্ঞানী
প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির বিশ্লেষক
ইরানের বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণাগার ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে তারা যেন আকাশভরা নক্ষত্র—প্রতিটি নক্ষত্র আলাদা আলো ছড়ায়।
আর সেই আলো মিলেই গড়ে ওঠে এক নতুন দিগন্ত—
যেখানে নারী আর পিছিয়ে নেই;
বরং জ্ঞানের পথের অগ্রদূত।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]