মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ১০:০৫ অপরাহ্ন

শিরোনাম
মাগুরায় আন্তর্জাতিক রেটিং দাবা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা সাইবার ইউজার দল (বিএনসিইউপি)’র সদস্য সচিব মোঃ মেজবাহুল ইসলাম মেজবা’র পিতা মোঃ হাফিজ উদ্দিন ইন্তেকাল করেন মাগুরায় মধুমতি নদী থেকে স্কুল ছাত্রের লাশ উদ্ধার! মাগুরার মহম্মদপুরে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু! বিএনপি–শরিক সমীকরণ: সামনে কী অপেক্ষা করছে?* *—অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* BNP and Its Coalition: What’s Next?* *—Professor M. A. Barnik* মাগুরায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীর প্রাইভেট কার ছিনতাইয়ের অভিযোগ! *BNP and Its Coalition: What’s Next?—Professor M. A. Barnik শব্দদূষণ রোধে ডিএমপির ট্রাফিক মিরপুর বিভাগের বিশেষ অভিযান মাগুরায় জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

*নোবেল-বিজয়ী বিজ্ঞানী আজিজ সানজার মুসলিম বিশ্বের জীবন্ত প্রেরণা* *—অধ্যাপক এম এ বার্ণিক*

সংবাদদাতা / ১২ বার ভিউ
সময়ঃ মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ১০:০৫ অপরাহ্ন

বিজ্ঞান যখন মানবসভ্যতার ভবিষ্যৎ নির্মাণে নতুন নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে, তখন কিছু মানুষের অবদান যুগের সীমানা অতিক্রম করে ইতিহাসে অমর হয়ে থাকে। তেমনই একজন বিজ্ঞানী হলেন তুর্কি-মার্কিন জীবরসায়নবিদ আজিজ সানজার (Aziz Sancar)। ডিএনএ মেরামত (DNA Repair) বিষয়ে তাঁর যুগান্তকারী গবেষণা শুধু আধুনিক জীববিজ্ঞানের ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করেনি, বরং ক্যান্সার, বার্ধক্য এবং বংশগত রোগ সম্পর্কে মানবজাতির জ্ঞানকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

১৯৪৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর তুরস্কের মারদিন প্রদেশের সাভুর শহরে জন্মগ্রহণ করেন আজিজ সানজার। চিকিৎসাবিদ্যায় পড়াশোনা শেষ করার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রে জীবরসায়নে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন এবং পরবর্তীকালে ডিএনএ মেরামতের আণবিক প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণায় আত্মনিয়োগ করেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিসেবে দীর্ঘদিন গবেষণা পরিচালনা করেছেন।

মানবদেহের প্রতিটি কোষের ডিএনএ প্রতিনিয়ত সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি, রাসায়নিক পদার্থ এবং বিভিন্ন পরিবেশগত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যদি এই ক্ষতি মেরামত না হতো, তাহলে কোষের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতো এবং ক্যান্সারসহ নানা জটিল রোগ সৃষ্টি হতে পারত। আজিজ সানজার তাঁর গবেষণায় দেখিয়েছেন, কীভাবে বিশেষ এনজাইম ক্ষতিগ্রস্ত ডিএনএ শনাক্ত করে তা মেরামত করে এবং জিনগত তথ্যকে সুরক্ষিত রাখে। এই আবিষ্কার আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান ও ক্যান্সার গবেষণায় একটি মৌলিক ভিত্তি তৈরি করেছে।

এই অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৫ সালে আজিজ সানজার, টমাস লিনডাল এবং পল মডরিচ যৌথভাবে রসায়নে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। নোবেল কমিটি তাঁদের সম্মানিত করে জীবন্ত কোষ কীভাবে ডিএনএ মেরামত করে এবং জিনগত তথ্যের স্থিতিশীলতা বজায় রাখে, সেই মৌলিক প্রক্রিয়ার ব্যাখ্যার জন্য।

আজিজ সানজারের জীবন শুধু একজন নোবেলজয়ী বিজ্ঞানীর গল্প নয়; এটি অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম এবং জ্ঞানের প্রতি অবিচল নিষ্ঠার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে তিনি বিশ্ববিজ্ঞানের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। তাঁর এই সাফল্য প্রমাণ করে, প্রতিভার বিকাশে অধ্যবসায়, গবেষণার স্বাধীনতা এবং মানসম্মত শিক্ষা সবচেয়ে বড় শক্তি।

মুসলিম বিশ্বের তরুণ গবেষকদের জন্য আজিজ সানজার একটি উজ্জ্বল অনুপ্রেরণার নাম। তিনি দেখিয়েছেন, ধর্মীয় পরিচয় ও বৈজ্ঞানিক উৎকর্ষ পরস্পরের বিরোধী নয়; বরং জ্ঞান, মানবকল্যাণ এবং সত্যের অনুসন্ধানই একজন প্রকৃত বিজ্ঞানীর পরিচয়।

আজকের মুসলিম বিশ্বে বিজ্ঞানচর্চার নতুন জাগরণ ঘটাতে হলে আজিজ সানজারের মতো গবেষকদের জীবন, কর্ম এবং মূল্যবোধকে নতুন প্রজন্মের সামনে আরও ব্যাপকভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন। কারণ সভ্যতার ইতিহাসে যে জাতি জ্ঞানচর্চায় এগিয়ে থাকে, নেতৃত্ব শেষ পর্যন্ত তার হাতেই আসে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]