মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২২ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
মাগুরায় শ্রীপুর উপজেলায় জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালি বিজ্ঞানের জয়যাত্রা: মিরপুরে প্যারাডাইজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে বিজ্ঞান মেলা ২০২৬ অনুষ্ঠিত মাগুরায় চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারা চুক্তি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত মাগুরার শ্রীপুরে নবাগত ইউএনও’র সাথে প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকদের মতবিনিময় অনুষ্ঠিত জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের প্রধান আইন বিষয়ক উপদেষ্টা হলেন মাগুরার অ্যাড. কাজী আব্দুর রশিদ Five Historic Challenges Facing Tarique Rahman* *— Professor M. A. Barnik তারেক রহমানের পাঁচটি ঐতিহাসিক চ্যালেঞ্জ* *— অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* মাগুরায় শিশু একাডেমির আয়োজনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন   মাগুরায় আর্দশ শিক্ষক ফেডারেশনের আয়োজনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত মাগুরায় ৮ হাজার ইয়াবা ও নারীসহ ৩ মাদক কারবারি আচক! টাকা ও বাইক জব্দ!

গোল করার পর সিজদায় পড়ে যান স্পেনের লামিনে ইয়ামাল* *—অধ্যাপক এম এ বার্ণিক*

সংবাদদাতা / ১৩৭ বার ভিউ
সময়ঃ মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২২ পূর্বাহ্ন

বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা গোলের সৌন্দর্যের চেয়েও বড় হয়ে ওঠে একজন খেলোয়াড়ের চরিত্র, বিশ্বাস ও মূল্যবোধের কারণে। ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপে স্পেনের তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল সেই বিরল মুহূর্তগুলোর একটি উপহার দিয়েছেন। গোল করার পর তিনি সবার সামনে সিজদায় লুটিয়ে পড়েন—আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য। এই দৃশ্য শুধু স্পেনের সমর্থকদেরই নয়, বরং বিশ্বের কোটি কোটি মুসলিমের হৃদয় স্পর্শ করে।

২০০৭ সালের ১৩ জুলাই স্পেনের কাতালোনিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন লামিনে ইয়ামাল নাসরাউই এবানা। তাঁর বাবা মরক্কান বংশোদ্ভূত এবং মা ইকুয়েটোরিয়াল গিনির নাগরিক। ছোটবেলা থেকেই তিনি মুসলিম পরিবারে বেড়ে ওঠেন এবং নিজের ধর্মীয় পরিচয়কে কখনো গোপন করেননি। তিনি রমজানে রোজা রাখেন এবং প্রকাশ্যে বলেছেন যে মুসলিম হওয়ার কারণে নিজের বিশ্বাসকে তিনি সম্মানের সঙ্গে ধারণ করেন।

মাত্র ছয় বছর বয়সে বার্সেলোনার বিখ্যাত লা মাসিয়া একাডেমিতে যোগ দেন ইয়ামাল। অল্প বয়সেই তাঁর অসাধারণ প্রতিভা বিশ্বকে বিস্মিত করে। কৈশোরেই তিনি বার্সেলোনার মূল দলে জায়গা করে নেন এবং স্পেন জাতীয় দলের সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় ও গোলদাতার রেকর্ড গড়েন। এরপর ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ, বিশ্বকাপ এবং বিশ্বের অন্যতম সেরা তরুণ ফুটবলার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

২০২৬ সালের বিশ্বকাপে সৌদি আরবের বিপক্ষে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ গোল করার পর তিনি সিজদায় নত হয়ে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন। এটি ছিল কোনো রাজনৈতিক বার্তা নয়, বরং একজন ঈমানদার মুসলমানের হৃদয়ের স্বাভাবিক প্রকাশ। সেই মুহূর্তে বিশ্বজুড়ে অসংখ্য মুসলিম তরুণ অনুভব করেন—বিশ্বের সর্বোচ্চ মঞ্চেও নিজের বিশ্বাসকে মর্যাদার সঙ্গে ধারণ করা সম্ভব।

আজকের বিশ্বে মুসলিম পরিচয়কে ঘিরে নানা ভুল ধারণা ও বিদ্বেষের মধ্যেও লামিনে ইয়ামাল প্রমাণ করেছেন যে একজন মুসলিম একই সঙ্গে আধুনিক, বিশ্বমানের, বিনয়ী ও সফল হতে পারেন। তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন, ঈমান কখনো প্রতিভার পথে বাধা নয়; বরং নৈতিক শক্তির উৎস হতে পারে।

মোহাম্মদ সালাহ, সাদিও মানে, রিয়াদ মাহরেজ, আশরাফ হাকিমিদের মতো মুসলিম ফুটবল তারকাদের ধারাবাহিকতায় লামিনে ইয়ামাল নতুন প্রজন্মের এক উজ্জ্বল প্রতীক। তাঁর সিজদা কোটি কোটি মুসলিম কিশোর-তরুণকে এই বার্তাই দেয়—বিশ্বজয় করতে হলে নিজের পরিচয় বিসর্জন দিতে হয় না; বরং সৎ চরিত্র, কঠোর পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস এবং আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতাই প্রকৃত সফলতার ভিত্তি।

স্পেনের জার্সি গায়ে লামিনে ইয়ামালের সিজদা তাই শুধু একটি গোল উদযাপন নয়; এটি বিশ্বাস, আত্মমর্যাদা ও কৃতজ্ঞতার এক অনন্য প্রতীক। ভবিষ্যতের মুসলিম ক্রীড়াবিদদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে এক অনুপ্রেরণার আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]