বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১২:০৯ অপরাহ্ন

শিরোনাম
Bangladesh: Emerging as a Key Strategic Nexus in the Defence Relations of India, China and the Middle East- Professor M. A. Barnik* বাংলাদেশ : ভারত-চীন-মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিরক্ষা সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলে পরিণত হচ্ছে* *–অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* চন্দনাইশ থানা পুলিশের অভিযানে চোলাই মদ সহ ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার একটি গাছ লাগান, হাজার প্রাণ বাঁচান’—শিক্ষার্থীদের নিয়ে বৃক্ষরোপণে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক সরকারের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অধিক মূল্যের সার বিক্রি করায় ডিলারকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা Bhola–Barishal Bridge: Ending Isolation, Opening a New Economic Horizon for the South* *——Professor M. A. Barnik* *ভোলা-বরিশাল সেতু: বিচ্ছিন্নতার অবসান, দক্ষিণাঞ্চলের নতুন অর্থনৈতিক দিগন্ত* *——অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* ল্যান্ড মালিকের কারসাজিতে ফ্ল্যাট কিনে ভুক্তভোগী পরিবার, হস্তান্তর না করেই হুমকির অভিযোগ সরকার আমার সাথে মনে হয় নাটক করতেছে– মাগুরায় ক্ষুব্ধ আছিয়ার মা আয়েশা বেগম Meeting Between the DUCSU VP and U.S. Diplomats: New Possibilities for Student-Centered Diplomacy*

*ভোলা-বরিশাল সেতু: বিচ্ছিন্নতার অবসান, দক্ষিণাঞ্চলের নতুন অর্থনৈতিক দিগন্ত* *——অধ্যাপক এম এ বার্ণিক*

সংবাদদাতা / ১২ বার ভিউ
সময়ঃ বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১২:০৯ অপরাহ্ন

প্রস্তাবিত ভোলা-বরিশাল সেতু শুধু দুটি জেলার মধ্যে একটি সেতু নয়; এটি বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের দীর্ঘদিনের ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা দূর করে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেওয়ার একটি যুগান্তকারী অবকাঠামো প্রকল্প। সেতুটি বাস্তবায়িত হলে ভোলা দ্বীপের সঙ্গে বরিশাল এবং দেশের মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সরাসরি যোগাযোগে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল-ভোলা সড়কে কালাবদর ও তেঁতুলিয়া নদীর ওপর সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পে মোট সড়ক ও সেতুর দৈর্ঘ্য প্রায় ১৬.৩৬৭ কিলোমিটার, যার মধ্যে সেতুর দৈর্ঘ্য প্রায় ১০.৮৬৭ কিলোমিটার। চার লেনের এই বিশাল প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৭ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা।

বিচ্ছিন্ন ভোলা যুক্ত হবে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে

ভোলা বাংলাদেশের বৃহত্তম দ্বীপ জেলা। নদীবেষ্টিত হওয়ায় এখানকার মানুষকে দীর্ঘদিন ধরে ফেরি ও নৌপথের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। বর্ষা, ঘন কুয়াশা কিংবা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় এই যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায়ই বিঘ্নিত হয়। একটি স্থায়ী সড়ক সংযোগ ভোলার মানুষের জন্য সময়, নিরাপত্তা ও জীবনযাত্রার মান—সব ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

সেতুটি নির্মিত হলে রোগী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীরা দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্নভাবে বরিশাল, ঢাকা এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলে যাতায়াতের সুযোগ পাবেন। ভোলা আর শুধু একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ জেলা হিসেবে থাকবে না; বরং জাতীয় অর্থনীতির সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত হবে।

ভোলার অর্থনীতিতে নতুন প্রাণ

ভোলা কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ এবং প্রাকৃতিক সম্পদের এক সম্ভাবনাময় অঞ্চল। দ্রুত সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হলে কৃষিপণ্য, মাছ ও অন্যান্য উৎপাদিত পণ্য দ্রুত দেশের বড় বাজারগুলোতে পৌঁছানো সম্ভব হবে। এতে পরিবহন ব্যয় কমার পাশাপাশি উৎপাদকরা ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সুযোগ বাড়বে।

শিল্পায়ন ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও ভোলার সম্ভাবনা নতুন মাত্রা পাবে। উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা সাধারণত নতুন শিল্প, গুদাম, বাজার, পর্যটন ও সেবা খাতের বিকাশকে ত্বরান্বিত করে। ফলে স্থানীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ব্যাপক প্রসারের সুযোগ তৈরি হবে।

জ্বালানি ও জাতীয় অর্থনীতিতে সম্ভাবনা

ভোলা প্রাকৃতিক গ্যাসসহ গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সম্পদের জন্য পরিচিত। উন্নত যোগাযোগ অবকাঠামো প্রতিষ্ঠিত হলে এসব সম্পদের ব্যবহার ও সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগ আরও সহজ হতে পারে। সাম্প্রতিক আলোচনায় ভোলার সঙ্গে জাতীয় পর্যায়ের যোগাযোগ উন্নয়ন এবং গ্যাস সরবরাহের সম্ভাবনার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

সরকারি অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক

প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং এটি সরকারের উচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ২০২৬ সালে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে পিপিপি কাঠামোর আওতায় নীতিগত অগ্রগতির খবর পাওয়া গেছে; একই সঙ্গে বিদেশি অংশীদারিত্ব নিয়েও আলোচনা চলছে। জাপানি একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানও প্রকল্পে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

অন্যদিকে, ভোলাকে বরিশাল ও ঢাকাসহ জাতীয় সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে সরকার নতুন মহাসড়ক পরিকল্পনাও অনুমোদন করেছে। এটি প্রমাণ করে যে, ভোলার যোগাযোগ উন্নয়নকে এখন একটি বিচ্ছিন্ন প্রকল্প হিসেবে নয়, বরং সমন্বিত জাতীয় যোগাযোগ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

উপসংহার: সেতু মানেই নতুন ভোলা

ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মিত হলে এটি শুধু নদীর দুই তীরকে যুক্ত করবে না—যুক্ত করবে মানুষের স্বপ্ন, বাজার ও উৎপাদনকে; শিক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগকে; রাজধানী ও প্রান্তিক জনপদকে।

একটি সেতু ভোলার ভৌগোলিক দূরত্ব কমাবে, কিন্তু তার চেয়েও বড় কথা—এটি ভোলার মানুষের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও মানসিক দূরত্ব কমাবে।

পদ্মা সেতুর পর বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় ভোলা-বরিশাল সেতু হতে পারে আরেকটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। যথাসময়ে বাস্তবায়ন হলে এই সেতু শুধু ভোলার নয়—বরিশাল বিভাগ, দক্ষিণাঞ্চল এবং সমগ্র বাংলাদেশের উন্নয়ন-যাত্রায় নতুন গতি সঞ্চার করবে।

মূলকথা

ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ মানে শুধু একটি অবকাঠামো নির্মাণ নয়—এটি বিচ্ছিন্নতাকে সংযোগে, সম্ভাবনাকে উৎপাদনে এবং স্বপ্নকে বাস্তব উন্নয়নে রূপ দেওয়ার এক ঐতিহাসিক উদ্যোগ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]