মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৯ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
মাগুরায় শ্রীপুর উপজেলায় জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালি বিজ্ঞানের জয়যাত্রা: মিরপুরে প্যারাডাইজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে বিজ্ঞান মেলা ২০২৬ অনুষ্ঠিত মাগুরায় চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারা চুক্তি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত মাগুরার শ্রীপুরে নবাগত ইউএনও’র সাথে প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকদের মতবিনিময় অনুষ্ঠিত জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের প্রধান আইন বিষয়ক উপদেষ্টা হলেন মাগুরার অ্যাড. কাজী আব্দুর রশিদ Five Historic Challenges Facing Tarique Rahman* *— Professor M. A. Barnik তারেক রহমানের পাঁচটি ঐতিহাসিক চ্যালেঞ্জ* *— অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* মাগুরায় শিশু একাডেমির আয়োজনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন   মাগুরায় আর্দশ শিক্ষক ফেডারেশনের আয়োজনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত মাগুরায় ৮ হাজার ইয়াবা ও নারীসহ ৩ মাদক কারবারি আচক! টাকা ও বাইক জব্দ!

যখন প্রতিপক্ষ হলো রক্ষাকর্তা : এক অদ্ভুত রাজনৈতিক উপাখ্যান —অধ্যাপক এম এ বার্ণিক

সংবাদদাতা / ১১৮ বার ভিউ
সময়ঃ মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৯ পূর্বাহ্ন

১. বিএনপি’র তামাশার রাজনীতির উদাহরণ :

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশ নিতে ড. মুহাম্মদ ইউনূস এসেছেন; তাঁর সঙ্গে সফরসঙ্গী বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি’র প্রতিনিধিরা। কূটনীতির কোলাহল ছাপিয়ে প্রবাসী রাজনীতির ঢেউ আগেই আছড়ে পড়েছে নিউইয়র্কের রাস্তায়। আওয়ামী লীগ কর্মীরা ঘোষণা দিয়েছে—তারা প্রতিরোধ করবে, বাঁধা দেবে, লাল-সবুজ ব্যানার হাতে প্রদর্শন করবে তাদের ‘শক্তি’। বিএনপি’র নেতাকর্মীরাও সেখানে উপস্থিত। কার্যত তাদের উপস্থিতি রাজনৈতিক তামাশার একটা অভূতপূর্ব উদাহরণ বটে!

২. ফুলের মালা বনাম ঘৃণার ঘা :

বিমানবন্দর থেকে বের হয়েই দেখা গেলো দুই ভিন্ন দৃশ্য। এক পাশে জামায়াত নেতা আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরকে ঘিরে ফুলেল সংবর্ধনার জোয়ার। স্লোগান, হাসি আর আলিঙ্গনে তিনি হয়ে উঠলেন দিনের নায়ক। অন্যদিকে, যখন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও এনসিপি’র সেক্রেটারি আখতার হোসেন ভিড়ের ভেতর দিয়ে হাঁটছিলেন, তখনই নেমে এলো বজ্রাঘাতের মতো হামলা। আওয়ামী কর্মীদের ধাক্কা, ধ্বনি আর অশ্রাব্য গালিগালাজে মুহূর্তেই তারা আটকে গেলেন লাঞ্ছনার ঘেরাটোপে।

৩. প্রতিপক্ষের ঢাল :

কোথায় বিএনপি’র দলীয় নেতাকর্মীরা?—তারা যেন ছায়ার মতো দূরে দাঁড়িয়ে রইলেন, কেউ এগিয়ে এলো না। হয়তো ভয়, হয়তো উদাসীনতা। ঠিক তখনই, ইতিহাসের পাতায় নতুন লিপি লেখার মতো এগিয়ে এলো জামায়াত কর্মীরা। যাদেরকে ফখরুল কিছুদিন আগেও তিরস্কার করেছিলেন “মৌলবাদী” বলে, তারাই ঢাল হয়ে দাঁড়ালো তাঁর সামনে।

তরুণ জামায়াতকর্মীরা চেইনের মতো হাত ধরাধরি করে এক মানবপ্রাচীর তৈরি করলো। তারা ফখরুল ও আখতার হোসেনকে ঘিরে দাঁড়াল, যেন প্রাচীন রণক্ষেত্রের সৈনিকরা রাজাকে রক্ষা করছে। ধাক্কাধাক্কি, শ্লোগানের গর্জন আর উত্তপ্ত পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে তারা দুজনকে নিরাপদে পৌঁছে দিলো গন্তব্যে।

৪. রাজনীতির আয়না :

ঘটনাটি যেন প্রতীকী রূপক—
কেউ পেলো সংবর্ধনার মালা, কেউ পেলো লাঞ্ছনার ঘা।
কেউ পেলো সহকর্মীর নীরবতা, কেউ পেলো প্রতিদ্বন্দ্বীর অনাকাঙ্ক্ষিত সহমর্মিতা।

রাজনীতি এখানে দাঁড়িয়ে গেলো আয়নার সামনে। আয়নায় ভেসে উঠলো প্রশ্ন—
রাজনীতি কি শুধু দলের পতাকার রঙে সীমাবদ্ধ?
না কি রাজনীতি হলো সেই অদৃশ্য মানবিক সুতো, যা হঠাৎ করে প্রতিপক্ষের হাতকেও রক্ষাকর্তার কাঁধে পরিণত করে?

৫. শেষ দৃশ্য :

নিউইয়র্কের রাস্তায় আলো-আঁধারের খেলায় সেদিন ইতিহাস একটি শিক্ষা রেখে গেলো :
সংবর্ধনার হাত ও লাঞ্ছনার ঘা একই মঞ্চে সহাবস্থান করতে পারে।
আর কখনো কখনো, প্রতিপক্ষই হয়ে ওঠে প্রকৃত রক্ষাকর্তা।

এটাই রাজনীতির অদ্ভুত উপাখ্যান—
যেখানে ফুলেল মালা আর কাঁটাযুক্ত ঘা,
উভয়ই হয়ে ওঠে একই কাহিনির চরিত্র।
বিএনপি কর্মীরা দু:সময়ে যখন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পাশে দাঁড়ায়নি, তেমনি অতীতে দু:সময়ে খালেদা জিয়ার পাশেও দাঁড়ায়নি। তারেক রহমানের দু:সময়ে তাকে রক্ষার্থে ওরা যে ঢাল হয়ে দাঁড়াবে-না, সেটা জেনেই মরণভিতু তারেক রহমান বাংলাদেশে ফিরে আসতে পারছেন-না!


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]