মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৯ অপরাহ্ন

শিরোনাম
ভূমি মন্ত্রণালয়ের পিয়ন হারুনের ‘শতকোটি টাকার সাম্রাজ্য’ নিজস্ব প্রতিবেদন মাগুরায় শ্রীপুর উপজেলায় জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালি বিজ্ঞানের জয়যাত্রা: মিরপুরে প্যারাডাইজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে বিজ্ঞান মেলা ২০২৬ অনুষ্ঠিত মাগুরায় চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারা চুক্তি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত মাগুরার শ্রীপুরে নবাগত ইউএনও’র সাথে প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকদের মতবিনিময় অনুষ্ঠিত জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের প্রধান আইন বিষয়ক উপদেষ্টা হলেন মাগুরার অ্যাড. কাজী আব্দুর রশিদ Five Historic Challenges Facing Tarique Rahman* *— Professor M. A. Barnik তারেক রহমানের পাঁচটি ঐতিহাসিক চ্যালেঞ্জ* *— অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* মাগুরায় শিশু একাডেমির আয়োজনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন   মাগুরায় আর্দশ শিক্ষক ফেডারেশনের আয়োজনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত

*হাদি হত্যাকাণ্ডের অভিযোগপত্রে ইনকিলাব মঞ্চের নারাজির কারণ* —-অধ্যাপক এমএ বার্ণিক

সংবাদদাতা / ১৯৫ বার ভিউ
সময়ঃ মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৯ অপরাহ্ন

*১. নারাজির প্রেক্ষাপট*

১৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত দৈনিক পত্রিকার প্রতিবেদনে জানানো হয়, হাদি হত্যা মামলার দাখিলকৃত অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে ইনকিলাব মঞ্চ আনুষ্ঠানিকভাবে নারাজি (আপত্তি) জানিয়েছে। অভিযোগপত্রের একাধিক গুরুতর অসংগতি ও তদন্তগত ত্রুটি তুলে ধরা হয়েছে, যা মামলার ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণে বড় বাধা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
অভিযোগপত্রে উত্থাপিত প্রধান অসংগতি থেকেই আমরা ইনকিলাব মঞ্চের নারাজির কারণ বুঝতে পারবো।

*২. হত্যাকাণ্ডে অর্থায়ৈনের প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও অর্থদাতাদের বাদ দেওয়া*:

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাদি হত্যার মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে ব্যবহৃত ২১৮ কোটি টাকার একটি চেক জব্দ করা হয়েছে। এই চেকটি হত্যাকাণ্ডে অর্থায়নের সরাসরি প্রমাণ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণও হলেও—
চেক প্রদানকারী ব্যক্তি/ব্যক্তিবর্গকে মামলার আসামি তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে। উপরন্তু
অর্থের উৎস, লেনদেনের উদ্দেশ্য এবং সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্ক সম্পর্কে অভিযোগপত্রে কোনো বিশ্লেষণ নেই।

*৩.আইনি বিশ্লেষণ*:

বাংলাদেশের প্রচলিত দণ্ডবিধি ও ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, কোনো হত্যাকাণ্ডে অর্থায়ন প্রমাণিত হলে অর্থদাতারাও অপরাধে সহায়তাকারী (abetment) হিসেবে দায়ী হন।

*৪.রাজনৈতিক প্রভাব*

ইনকিলাব মঞ্চের নারাজিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে—
বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক কায়সার কামাল সংশ্লিষ্ট হত্যাকারীকে জামিনে মুক্ত করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
জামিনে মুক্তির পর হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ায় এটি সরাসরি সহায়তা ও প্রশ্রয় দেওয়ার পর্যায়ে পড়ে।
তবে অভিযোগপত্রে—
কায়সার কামালের ভূমিকা,
জামিন প্রক্রিয়ায় সম্ভাব্য প্রভাব,
হত্যার আগে ও পরে রাজনৈতিক–আইনি সহায়তার বিষয়টি
একেবারেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

*৫. নৈতিক প্রশ্ন*:

যদি কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি জেনে-বুঝে একজন অভিযুক্তকে মুক্ত করে এনে পরবর্তী হত্যাকাণ্ড সংঘটনে সহায়তা করেন, তবে সেটি শুধু নৈতিক অপরাধ নয়—আইনগতভাবেও গুরুতর অপরাধ। অভিযোগপত্রে এই বিষয় বাদ পড়া তদন্তের উদ্দেশ্য ও নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ জাগায়।

*৬.ইনকিলাব মঞ্চের নারাজির যৌক্তিকতা*:

উপরোক্ত ঘাটতিগুলোর ভিত্তিতে ইনকিলাব মঞ্চ যে নারাজি জানিয়েছে, তা কেবল আবেগগত প্রতিবাদ নয়; বরং এটি একটি আইনসম্মত ও যুক্তিনির্ভর অবস্থান। তাদের দাবি—
তদন্ত পুনরায় বা সম্পূরকভাবে সম্পন্ন করতে হবে,
অর্থদাতা ও প্রভাবশালী সহায়তাকারীদের আসামির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে,
রাজনৈতিক পরিচয় বা ক্ষমতার প্রভাবমুক্ত থেকে সত্য উদ্ঘাটন নিশ্চিত করতে হবে।

*৭.ইনকিলাব মঞ্চের সতর্ক নজরদারি*:
ইনকিলাব মঞ্চের নজরদারি থেকে বেরিয়ে এসেছে যে,
হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র বর্তমান রূপে বিচারিক স্বচ্ছতা ও জন্যায়বিচারের মানদণ্ড পূরণ করতে ব্যর্থ বলে প্রতীয়মান হয়। ২১৮ কোটি টাকার চেক জব্দের মতো শক্ত প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও অর্থদাতা ও প্রভাবশালী সহায়তাকারীদের বাদ দেওয়া রাষ্ট্রীয় তদন্ত ব্যবস্থার ওপর আস্থাহীনতা সৃষ্টি করে।
ইনকিলাব মঞ্চের নারাজি তাই একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবেই বিবেচনাযোগ্য, কেনন—
ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে অপরাধের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রভাববলয়—সব দিকেই সমানভাবে নজর দিতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]