শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৫০ অপরাহ্ন

শিরোনাম
আজকের মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের সমৃদ্ধ – মাগুরায় কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নূরুল ইসলাম সাদ্দাম Macca Defence Pact: A Severe Setback to India’s Strategic Calculations* *— Professor MA Barnik *মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি : ভারতের স্ট্র্যাটেজিক হিসাব-নিকাশে বড় ধরনের ধাক্কা— অধ্যাপক এম এ বার্ণিক মাগুরার শ্রীপুরে বিদ্যুতায়িত হয়ে এক যুবকের মৃত্যু, আহত আরো -২জন চাটমোহরে তেল-জেলিতে তৈরি হচ্ছিল নকল দুধ, ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড ও জরিমানা The Mecca Defence Pact: India’s Concerns, the Positions of Major Powers, and Bangladesh’s Potential Gains and Losses* *–Professor M. A. Barnik মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি: ভারতের উদ্বেগ, পরাশক্তিদের অবস্থান এবং বাংলাদেশের সম্ভাব্য লাভ-ক্ষতি* *—অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* কেন্দ্রীয় যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি পলের রোগমুক্তিতে এস. আলম ইসরাৎ এর উদ্যোগে দোয়া আন্দালিব রহমান পার্থকে তথ্যমন্ত্রী করায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দকে মিষ্টিমুখ করালো বিজেপি ভাষা সৈনিক অজিত গুহ মহাবিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা:) উদযাপন

ডাকসু জাকসু চাকসু রাকসুতে ছাত্রদলের শোচণীয় পরাজয় বিএনপির জন্য সতর্কবার্তা —-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক

সংবাদদাতা / ২১২ বার ভিউ
সময়ঃ শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৫০ অপরাহ্ন

১. সরব ছাত্রদল — নীরব শিবির:

ঢাকা বিশ্ববি,দ্যালয়ের আকাশে সেদিন ভেসে বেড়াচ্ছিল পতাকার হাওয়ায় ভিজে যাওয়া শ্লোগান—
“গণতন্ত্র চাই, মুক্তির রাজনীতি চাই!”
চকচক করছিল ছাত্রদলের ব্যানার, পোস্টারে মুখর চারদিক, যেন শব্দের বৃষ্টি নামছে রোদের উপর।

কিন্তু সেই গর্জনের ভেতরেই কেউ কেউ ছিল নীরব—
দৃশ্যমান নয়, তবু গভীরে বুনে চলেছে সংগঠনের শিকড়।
তারা ছিল ছাত্রশিবিরের কর্মীরা, যারা জানে—গোলমাল নয়, নীরব প্রস্তুতিই একদিন ঝড় হয়ে ওঠে।

২. রাজনীতির আয়নায় যা ধরা পড়লো :

ডাকসু, জাকসু, চাকসু ও রাকসু—চার দিকের চার সংসদ যেন চারটি আয়না।
প্রতিটি আয়নায় ফুটে উঠল ছাত্রদলের জোয়ার—
মিছিল, মাইকে চিৎকার, প্রচারণায় উত্তেজনা,
ফেসবুকে পোস্ট, টিকটকে প্রচার, ব্যানারে বাজিমাতের ঘোষণা—
সবকিছুতেই তারা ছিল “স্বরের বিস্ফোরণ”।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল পর্যন্ত
ছাত্রদল যেন স্লোগানের এক মঞ্চ নির্মাণ করেছিল।
রাজনীতির নাট্যমঞ্চে তারা ছিল মুখ্য চরিত্র—
কিন্তু নাটকের শেষ দৃশ্যের আলোটা জ্বলে উঠল অন্য কারও উপর।

৩. শিবিরের নীরব বিপ্লব :

ছাত্রশিবির ছিল যেন কুয়াশার মতো—চোখে পড়ে না, কিন্তু হাওয়ায় থাকে।
তাদের পোস্টার কম, প্রচার কম, কিন্তু শৃঙ্খলা বেশি;
তাদের শ্লোগান কম, কিন্তু মনোবল গভীর;
তাদের কথায় আক্রমণ নেই, কিন্তু পরিকল্পনায় নির্ভুলতা।

যেখানে ছাত্রদল ব্যস্ত ছিল বক্তৃতা ও লাইভ প্রচারণায়,
সেখানে ছাত্রশিবির নিঃশব্দে ভোটের ঘরে পৌঁছে দিচ্ছিল বিশ্বাসের পত্র।
তাদের উপস্থিতি ছিল “নীরব বিদ্রোহ”—
যা মাইকের শব্দে হারায় না, বরং ভোটবাক্সের নিস্তব্ধতায় ফুটে ওঠে।

৪. জনতার ঢেউ বিপরীত স্রোতে যায়:

যেদিন ফলাফল ঘোষিত হলো—
ঢাকা থেকে রাজশাহী, চট্টগ্রাম থেকে রংপুর—
সবখানেই এক দৃশ্য পুনরাবৃত্তি হচ্ছিলঃ
ছাত্রদল পেছনে, ছাত্রশিবির সামনে।

যেখানে ছাত্রদলের কর্মীরা ভেবেছিল, “জনতার ঢেউ তাদের দিকে!” কিন্তু না, জনতা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। ছাত্রদলের পক্ষ থেকে ঘুরে যায় তারা। দলে দলে ভোট দিয়ে তারা শিবিরের পাল্লা ভারি করে তোলে।
সেই ঢেউ ঘুরে দাঁড়িয়ে গেল নীরব সংগঠনের পক্ষে।
চোখের পলকে পাল্টে গেল গণতন্ত্রের ক্যানভাস। শিবিরকে তারা নিরাপদ আশ্রয়স্থলরূপেই গ্রহণ করে।

বিশ্লেষকদের ভাষায়,

> “সরবতা হারল সংগঠনের কাছে, আওয়াজ হেরে গেল পরিকল্পনার কাছে।”

৫. লিডারশিপ ভ্যাকূয়াম :

ছাত্রদলের এই পরাজয় যেন শুধু ভোটের হার নয়—
এটি এক “সংগঠনবিরোধী শব্দযুদ্ধের” ব্যর্থতা।
নেতারা বিদেশে, দিকনির্দেশ লণ্ডনের আকাশে,
কিন্তু মাঠে কর্মীরা একা—দিকহারা, বিচ্ছিন্ন, মনোবলহীন।

যেখানে ছাত্রশিবিরের প্রতিটি শাখা কাজ করছিল “এক দেহ, এক প্রাণ” হয়ে,
সেখানে ছাত্রদলের শরীরে জড়িয়ে ধরেছিল “ভাগাভাগি আর ভয়”।

রাজনীতির ভাষায় এটিকে বলা যায় “লিডারশিপ ভ্যাকুয়াম”,
কিন্তু সাহিত্যের ভাষায় এটি এক “দুঃখগাথা”—
যেখানে সরবতা নিজের প্রতিধ্বনিতেই হারিয়ে যায়।

৬. ইতিহাস নিজেই আওয়াজ করলো :
🔹 বিজয়ের নীরব সঙ্গীত

ছাত্রশিবিরের জয় যেন ঢাকঢোল বিহীন এক বিজয়।
তারা জানে, এই নীরবতার মধ্যেই ভবিষ্যৎ রাজনীতির বীজ রোপিত হয়।
আজকের নীরব জয় একদিন জাতীয় মঞ্চে উচ্চারণ হবে—
সেই বিশ্বাস নিয়েই তারা মাঠে ছিল, মাঠে রইল।

ডাকসুর আকাশে যখন সন্ধ্যার তারা উঠছে,
ভাঙা পোস্টারের নিচে দাঁড়িয়ে এক তরুণ কর্মী ফিসফিস করে বলল—

> “আমরা আওয়াজ করিনি, কারণ ইতিহাস নিজেই আওয়াজ করবে।”

৭. নীরবতারও গর্জন আছে :

চারদিকের সরবতার মাঝে নীরবতাই আজ নতুন ভাষা শিখিয়েছে—
রাজনীতিতে কেবল মাইক নয়, মনও কথা বলে।
ডাকসু, জাকসু, চাকসু ও রাকসু—সব জায়গায় একটিই শিক্ষা স্পষ্ট:
যে দল মাঠে নয়, মননে কাজ করে,
যে দল শব্দে নয়, শৃঙ্খলায় বাঁচে—
ইতিহাস তারই পাশে দাঁড়ায়।

> “নীরবতারও এক গর্জন আছে,
যা কেবল নির্বাচনের দিন শোনা যায় না—
ইতিহাসের পাতায় প্রতিধ্বনি তোলে বছরের পর বছর।

৮. বিএনপির জন্য সতর্কবার্তা :

(১) ডাকসু, জাকসু, চাকসু ও রাকসুর সাম্প্রতিক ফলাফল বিএনপির জন্য এক স্পষ্ট সতর্ক সংকেত হয়ে উঠেছে।
ছাত্রদলের পরাজয় দেখিয়ে দিয়েছে—দলের শেকড় এখন তরুণ সমাজে দুর্বল হয়ে পড়েছে। তরুণ প্রজন্মের মনোযোগ ও আস্থা হারালে জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির সাফল্যের পথ কঠিন হয়ে যাবে।
(৪) বিদেশে বসে নেতৃত্বের নির্দেশনা মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না। সংগঠনগত ঐক্য ও কর্মীবান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে না আনলে দলীয় পুনর্জাগরণ অসম্ভব।
(৩) বিএনপির জন্য এখন প্রয়োজন নতুন নেতৃত্বের বিকাশ, তৃণমূলের পুনর্গঠন ও শিক্ষাঙ্গনে সক্রিয় উপস্থিতি।
(৭) এই ছাত্রসংসদ নির্বাচনের ফল আসলে এক রাজনৈতিক আয়না—যেখানে ভবিষ্যৎ বিপদের ছায়া স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। বিএনপি সেই আয়নায় তাদের চেহারা দেখতে পায় তো!


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]