রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ১০:৪১ অপরাহ্ন
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগে নতুন গতি এসেছে। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে এ খাতে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে বাজেটের প্রাথমিক খসড়া প্রস্তুত করেছে, যা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা শেষে চূড়ান্ত করা হবে।

সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত ২৩ সদস্যের পে-কমিশন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির সুপারিশ জমা দিয়েছে। কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্তমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখেই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করা হবে।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সর্বনিম্ন মূল বেতন বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করা হতে পারে। এতে বিভিন্ন গ্রেডে ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের ব্যবধান কমিয়ে ১:৯.৪ থেকে ১:৮ অনুপাতে আনার সুপারিশ করা হয়েছে।
নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকার দুটি পদ্ধতি বিবেচনায় রেখেছে। একটিতে তিন ধাপে বেতন বৃদ্ধি কার্যকর করা হবে এবং অন্যটিতে দুই অর্থবছরের মধ্যেই পুরো পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হতে পারে। তিন ধাপের পরিকল্পনায় প্রথম বছরে ৫০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি, পরবর্তী বছরে অবশিষ্ট অংশ এবং শেষ ধাপে ভাতা সমন্বয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
এ বিষয়ে মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব আয় এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতা মূল্যায়নে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি কাজ করছে। পাশাপাশি বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামোও পৃথকভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগী রয়েছেন। তাদের জন্য বছরে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। আর নবম পে-স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়নে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতে পারে।
প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার বাজেটে এই অতিরিক্ত ব্যয় বিবেচনায় নিয়েই সরকার ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে। কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতনে বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।