মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৮ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
মাগুরায় শ্রীপুর উপজেলায় জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালি বিজ্ঞানের জয়যাত্রা: মিরপুরে প্যারাডাইজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে বিজ্ঞান মেলা ২০২৬ অনুষ্ঠিত মাগুরায় চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারা চুক্তি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত মাগুরার শ্রীপুরে নবাগত ইউএনও’র সাথে প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকদের মতবিনিময় অনুষ্ঠিত জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের প্রধান আইন বিষয়ক উপদেষ্টা হলেন মাগুরার অ্যাড. কাজী আব্দুর রশিদ Five Historic Challenges Facing Tarique Rahman* *— Professor M. A. Barnik তারেক রহমানের পাঁচটি ঐতিহাসিক চ্যালেঞ্জ* *— অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* মাগুরায় শিশু একাডেমির আয়োজনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন   মাগুরায় আর্দশ শিক্ষক ফেডারেশনের আয়োজনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত মাগুরায় ৮ হাজার ইয়াবা ও নারীসহ ৩ মাদক কারবারি আচক! টাকা ও বাইক জব্দ!

ভারতের তেলাপোকা পার্টি: তরুণ সমাজে এক রাজনৈতিক ভূমিকম্প* *—অধ্যাপক এম এ বার্ণিক

সংবাদদাতা / ১১২ বার ভিউ
সময়ঃ মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৮ পূর্বাহ্ন

১. *তরুণ সমাজের প্রতিবাদের ভাষা তেলাপোকা*:

ভারতের রাজনীতির বিশাল অট্টালিকায় বহুদিন ধরেই নানা দলের আনাগোনা। কেউ পদ্ম হাতে, কেউ হাত চিহ্নে, কেউ ঝাড়ু নিয়ে, আবার কেউ আঞ্চলিক পরিচয়ের পতাকা উড়িয়ে জনমত কুড়ানোর চেষ্টা করে। কিন্তু ২০২৬ সালে রাজনৈতিক মঞ্চে এমন এক চরিত্রের আবির্ভাব ঘটেছে, যা দেখে প্রথমে মানুষ হেসেছে, পরে ভেবেছে, আর এখন অনেকেই উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে। সেই চরিত্রের নাম— তেলাপোকা পার্টি।

যে প্রাণীকে দেখলে সাধারণ মানুষ চটি খোঁজে, সেই প্রাণীকেই একদল তরুণ প্রতিবাদের প্রতীক বানিয়ে ফেলবে—এ কথা হয়তো কোনো রাজনৈতিক বিশ্লেষকের কল্পনাতেও ছিল না।

কিন্তু ইতিহাসের একটি অদ্ভুত নিয়ম আছে। ক্ষমতাবানরা যখন কোনো জনগোষ্ঠীকে অবজ্ঞা করে, তখন সেই অবজ্ঞাই কখনো কখনো প্রতিবাদের পতাকায় পরিণত হয়।

২. *অপমানের ভস্ম থেকে জন্ম*:

ঘটনার শুরু একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। ভারতের কিছু বেকার ও চাকরিপ্রত্যাশী তরুণকে “তেলাপোকা” বা “পরজীবী” হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে—এমন ধারণা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পরে ব্যাখ্যা এলেও ক্ষোভ আর থামেনি।

তরুণদের একাংশ যেন জবাব দিল—

“হ্যাঁ, আমরা তেলাপোকা। কারণ তোমাদের সব ব্যর্থতা, দুর্নীতি ও অবহেলার মধ্যেও আমরা বেঁচে আছি।”

এভাবেই জন্ম নেয় ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক উদ্যোগ Cockroach Janta Party (CJP)।

এটি ছিল এক অর্থে রসিকতা, আরেক অর্থে প্রতিবাদ, এবং শেষ পর্যন্ত তা পরিণত হয়েছে রাজনৈতিক বার্তায়।

৩. *কেন তেলাপোকা?*

প্রশ্ন জাগতেই পারে—এত প্রাণী থাকতে তেলাপোকাই কেন?

উত্তরটি ব্যঙ্গের মধ্যেই লুকিয়ে আছে।

তেলাপোকা এমন এক প্রাণী, যাকে কেউ পছন্দ করে না; কিন্তু তাকে পুরোপুরি নির্মূলও করতে পারে না।

ভারতের অনেক তরুণের মতে, রাষ্ট্র ও সমাজও তাদের সঙ্গে ঠিক একই আচরণ করছে।

নির্বাচনের সময় তারা “দেশের ভবিষ্যৎ”।

নির্বাচন শেষ হলে তারা “পরিসংখ্যান”।

চাকরি চাইলে তারা “অপেক্ষমাণ”।

প্রশ্ন করলে তারা “সমস্যা”।

আর প্রতিবাদ করলে তারা “উপদ্রব”।

তাই তারা বলছে—

“যদি আমাদের তেলাপোকা মনে করা হয়, তবে সেই তেলাপোকারাই একদিন দেয়াল কাঁপাবে।”

৪. *বেকারত্বের আগুনে স্ফুলিঙ্গ*

ভারতের বিপুল যুবসমাজ দীর্ঘদিন ধরে কর্মসংস্থান সংকট, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার অনিয়ম এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ক্ষুব্ধ।

অনেক তরুণের অভিযোগ, তারা বছরের পর বছর প্রস্তুতি নেয়, কিন্তু দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা তাদের স্বপ্নকে বারবার থামিয়ে দেয়।

এই ক্ষোভ বহুদিন ধরে চাপা আগুনের মতো জমছিল।

তেলাপোকা পার্টি সেই আগুনে হঠাৎ ছুড়ে দেওয়া একটি স্ফুলিঙ্গ।

ফলাফল—এক বিস্ময়কর সামাজিক আলোড়ন।

৫. *হাসির আড়ালে হুঙ্কার*

প্রথমে অনেকে বিষয়টিকে নিছক কৌতুক বলে উড়িয়ে দিয়েছিল।

রাজনীতিতে ব্যঙ্গ নতুন নয়।

কিন্তু যখন লাখ লাখ তরুণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের “তেলাপোকা” পরিচয়ে পরিচিত করতে শুরু করল, তখন বিষয়টি আর কৌতুকের পর্যায়ে রইল না।

এ যেন নতুন যুগের প্রতিবাদ।

এখানে মশাল নেই, কিন্তু মিম আছে।

এখানে বিপ্লবী পোস্টার নেই, কিন্তু ভাইরাল ভিডিও আছে।

এখানে গোপন বৈঠক নেই, কিন্তু কোটি মানুষের ডিজিটাল সংযোগ আছে।

৬. *রাজপথে তেলাপোকার মিছিল*

নয়াদিল্লির রাজপথে যখন তরুণেরা তেলাপোকার মুখোশ পরে হাজির হলো, তখন দৃশ্যটি ছিল একই সঙ্গে হাস্যকর এবং গভীর অর্থবহ।

কেউ সংবিধান হাতে।

কেউ ফুল হাতে।

কেউ চাকরির আবেদনপত্র হাতে।

আর সবার মুখে একটাই বার্তা—

“আমাদের নিয়ে হাসুন, কিন্তু আমাদের কথা শুনুন।”

এই স্লোগানেই যেন আন্দোলনের সারাংশ নিহিত।

৭. *রাজনীতির জন্য সতর্কবার্তা*

তেলাপোকা পার্টির প্রকৃত শক্তি তার সংগঠন নয়, তার প্রতীকী ক্ষমতা।

এটি মনে করিয়ে দিয়েছে যে, আধুনিক যুগে একটি ব্যঙ্গও রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ নিতে পারে।

একটি মিমও আন্দোলনের ভাষা হতে পারে।

একটি উপহাসও জনতার অস্ত্রে পরিণত হতে পারে।

রাজনীতির পুরোনো সমীকরণে যেখানে অর্থ, সংগঠন ও ক্ষমতা ছিল প্রধান উপাদান, সেখানে নতুন সমীকরণটি অনেক সহজ—

অবহেলা + বেকারত্ব + সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম + ব্যঙ্গ = রাজনৈতিক বিস্ফোরণ।

৮. *তেলাপোকার ডানার শব্দেই কেঁপে উঠছে ভারত*

ভারতের তেলাপোকা পার্টি আদৌ কোনো বড় রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হবে কি না, তা সময়ই বলবে।

কিন্তু একটি বিষয় ইতোমধ্যেই স্পষ্ট—

এটি কেবল একটি দলের গল্প নয়; এটি এক প্রজন্মের ক্ষোভ, হতাশা এবং আত্মপরিচয়ের গল্প।

যে তরুণদের দীর্ঘদিন ধরে নীরব, দুর্বল কিংবা গুরুত্বহীন মনে করা হয়েছিল, তারাই আজ ব্যঙ্গের ভাষায় নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে।

রাজনীতির ইতিহাসে বহু বিপ্লব বন্দুক দিয়ে শুরু হয়েছে, বহু আন্দোলন স্লোগানে শুরু হয়েছে।

কিন্তু ভারতের এই নতুন অধ্যায় হয়তো ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে অন্য কারণে—

এখানে প্রতিবাদের প্রতীক হয়েছে একটি তেলাপোকা, আর সেই তেলাপোকার ডানার শব্দেই কেঁপে উঠেছে তরুণ সমাজের নিঃশব্দ পৃথিবী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]