মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৩ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
মাগুরায় শ্রীপুর উপজেলায় জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালি বিজ্ঞানের জয়যাত্রা: মিরপুরে প্যারাডাইজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে বিজ্ঞান মেলা ২০২৬ অনুষ্ঠিত মাগুরায় চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারা চুক্তি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত মাগুরার শ্রীপুরে নবাগত ইউএনও’র সাথে প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকদের মতবিনিময় অনুষ্ঠিত জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের প্রধান আইন বিষয়ক উপদেষ্টা হলেন মাগুরার অ্যাড. কাজী আব্দুর রশিদ Five Historic Challenges Facing Tarique Rahman* *— Professor M. A. Barnik তারেক রহমানের পাঁচটি ঐতিহাসিক চ্যালেঞ্জ* *— অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* মাগুরায় শিশু একাডেমির আয়োজনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন   মাগুরায় আর্দশ শিক্ষক ফেডারেশনের আয়োজনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত মাগুরায় ৮ হাজার ইয়াবা ও নারীসহ ৩ মাদক কারবারি আচক! টাকা ও বাইক জব্দ!

স্বচ্ছ নির্বাচনের পথে অদৃশ্য চাপের শৃঙ্খল —-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক

সংবাদদাতা / ১৯৩ বার ভিউ
সময়ঃ মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৩ পূর্বাহ্ন

১. গণতন্ত্র মঞ্চে আশার কাব্য :

স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলা যায় যে, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, অনুষ্ঠিত
ডাকসু নির্বাচন ছিলো এক নির্মল ভোরের মতো—দীর্ঘ অন্ধকারের পর সূর্যের প্রথম কিরণ। কোনো প্রশাসনিক রোষানল, কোনো পেশিশক্তির দাপট বা কারচুপির কালো ছায়া ছাড়াই অনুষ্ঠিত এ নির্বাচন দেশবাসীর মনে জাগিয়েছে স্বচ্ছতার আস্থা। মনে হচ্ছিল, এ যেন গণতন্ত্রের মঞ্চে নূতন করে রচিত হচ্ছে আশার কাব্য।

কিন্তু সেই আলো দীর্ঘস্থায়ী হলো না। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জাকসু নির্বাচন সামনে আসতেই স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার আকাশে জমল ঘন কালো মেঘ। ডাকসুর স্বচ্ছতার আলো যেখানে জাতীয় নির্বাচনের পথ আলোকিত করার কথা, সেখানে জাকসুর অভিজ্ঞতা যেন সেই আলোকে ঢেকে দিলো এক অদৃশ্য চাপের শৃঙ্খলে।

২. জাহাঙ্গীরনগরে অদৃশ্য নাটকের মঞ্চায়ন :

অভিযোগ উঠেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য থেকে শুরু করে নির্বাচন কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরা বিএনপির প্রভাবাধীন। এমনকি নির্বাচনের দিন ক্যাম্পাসে ঝাঁকে ঝাঁকে প্রবেশ করেছে বহিরাগত অনুপ্রবেশকারীরা—তাদের চেহারায় দলীয় ছাপ স্পষ্ট। মনে হচ্ছিল, এটি আর বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন নয়; বরং এক অদৃশ্য নাটকের মঞ্চায়ন, যেখানে প্রতিটি চরিত্র একই দলের নির্দেশনায় অভিনয় করছে।

তবুও সবকিছু অগ্রাহ্য করে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির। এখানে যেনো এক নীরব বার্তা উচ্চারিত হয়েছে—সত্যকে বাঁধা দেওয়া যায়, কিন্তু তাকে চিরকাল দমিয়ে রাখা যায় না।

৩. ফল পাল্টাতে না-পেরে চাপের খেলা :

ফলাফল বদলানো সম্ভব না বুঝেই শুরু হয় নতুন খেলা। নির্বাচন কমিশনের ভেতরে একের পর এক পদত্যাগ যেনো রাজনৈতিক চাপের কাছে আত্মসমর্পণের প্রতীক হয়ে ওঠে। পদত্যাগগুলো ছিল না বিবেকের স্বাধীন সিদ্ধান্ত; বরং ছিল রাজনৈতিক স্রোতের টানে ভেসে যাওয়া শুকনো পাতার মতো—যারা প্রবল হাওয়ার কাছে টিকতে পারে না।

এই অদৃশ্য চাপের খেলা প্রথমে সূক্ষ্মভাবে দেখা গেল ডাকসুতে, কিন্তু জাকসুতে এসে তা নগ্ন ও দৃষ্টিকটু আকারে প্রকাশ পেলো।

 

৪. জাতির জন্য অশনি সংকেত :

ডাকসু নির্বাচনের অভিজ্ঞতা ছিল এক আলোকবর্তিকা—যা জাতীয় নির্বাচনকে স্বচ্ছতার পথে পরিচালিত করতে পারত। কিন্তু জাহাঙ্গীরনগরের অভিজ্ঞতা সেই আলোর বাতিকে নিভিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের মতো। যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই নির্বাচনী প্রক্রিয়া রাজনৈতিক চাপের শৃঙ্খলে আবদ্ধ থাকে, তবে জাতীয় নির্বাচনও যে একই পথে জড়িয়ে পড়বে, তা অনুমান করাই যায়।

এ যেন নদীর উজানে বিষ ঢেলে দেওয়া—যেখানে অম্লজল একবার মিশে গেলে নিম্নস্রোতও আর বিশুদ্ধ থাকে না।

 

৫. সত্যের জয় অবিসম্ভাবী :

ডাকসুর স্বচ্ছ নির্বাচন প্রমাণ করেছে—বাংলাদেশের মানুষ সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়াকে আপন করে নিতে প্রস্তুত। জাকসুর অভিজ্ঞতা যদিও রাজনৈতিক চাপে বিপর্যস্ত, তবুও এ লড়াই শেষ নয়।

স্বচ্ছ প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করার এই অন্ধ প্রচেষ্টা যত গভীর হোক না কেন, সত্যের সূর্য একদিন উদিত হবেই। কারণ ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—অন্যায় যত বড়ই হোক, তার পতন অনিবার্য। আর সত্য, যদিও ক্ষণিকের জন্য আড়াল হয়, শেষ পর্যন্ত সে-ই জয়ী হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]