বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৫০ অপরাহ্ন

শিরোনাম
মাগুরায় জেলা পর্যায়ে ৩ দিনব্যাপী জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন মাগুরার খামারপাড়া এস এ আই সিনিয়র মাদ্রাসায় বিদায় সংর্বধণা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত মাগুরায় সুমন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন! বিস্তারিত জানালেন পুলিশ সুপার মাগুরায় লক্ষাধিক শিশুকে হাম রুবেলার টিকা দেয়া হবে ইরানে ট্রাম্পের নৌ-অবরোধের ব্যর্থতা ও ইসলামাবাদে নতুন কূটনৈতিক অধ্যায়* *—-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* মাগুরায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাসহ নানা আয়োজনে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন মাগুরার শ্রীপুরে জামায়াতে ইসলামীর দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত যুবদল নেতা ফয়েজ মোল্লার, ঢামেকে খোঁজ নিলেন ব্যারিস্টার মাহাবুব উদ্দিন খোকন এমপি বাংলাদেশের জনপ্রিয় টিভি চ্যানেল একুশে টিভি’র ২৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সুশীল ফোরামের শুভেচ্ছা In Reverence and Remembrance ‘Abdul Hye—Professor M A Barnik

স্বচ্ছ নির্বাচনের পথে অদৃশ্য চাপের শৃঙ্খল —-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক

সংবাদদাতা / ১০৬ বার ভিউ
সময়ঃ বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৫০ অপরাহ্ন

১. গণতন্ত্র মঞ্চে আশার কাব্য :

স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলা যায় যে, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, অনুষ্ঠিত
ডাকসু নির্বাচন ছিলো এক নির্মল ভোরের মতো—দীর্ঘ অন্ধকারের পর সূর্যের প্রথম কিরণ। কোনো প্রশাসনিক রোষানল, কোনো পেশিশক্তির দাপট বা কারচুপির কালো ছায়া ছাড়াই অনুষ্ঠিত এ নির্বাচন দেশবাসীর মনে জাগিয়েছে স্বচ্ছতার আস্থা। মনে হচ্ছিল, এ যেন গণতন্ত্রের মঞ্চে নূতন করে রচিত হচ্ছে আশার কাব্য।

কিন্তু সেই আলো দীর্ঘস্থায়ী হলো না। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জাকসু নির্বাচন সামনে আসতেই স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার আকাশে জমল ঘন কালো মেঘ। ডাকসুর স্বচ্ছতার আলো যেখানে জাতীয় নির্বাচনের পথ আলোকিত করার কথা, সেখানে জাকসুর অভিজ্ঞতা যেন সেই আলোকে ঢেকে দিলো এক অদৃশ্য চাপের শৃঙ্খলে।

২. জাহাঙ্গীরনগরে অদৃশ্য নাটকের মঞ্চায়ন :

অভিযোগ উঠেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য থেকে শুরু করে নির্বাচন কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরা বিএনপির প্রভাবাধীন। এমনকি নির্বাচনের দিন ক্যাম্পাসে ঝাঁকে ঝাঁকে প্রবেশ করেছে বহিরাগত অনুপ্রবেশকারীরা—তাদের চেহারায় দলীয় ছাপ স্পষ্ট। মনে হচ্ছিল, এটি আর বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন নয়; বরং এক অদৃশ্য নাটকের মঞ্চায়ন, যেখানে প্রতিটি চরিত্র একই দলের নির্দেশনায় অভিনয় করছে।

তবুও সবকিছু অগ্রাহ্য করে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির। এখানে যেনো এক নীরব বার্তা উচ্চারিত হয়েছে—সত্যকে বাঁধা দেওয়া যায়, কিন্তু তাকে চিরকাল দমিয়ে রাখা যায় না।

৩. ফল পাল্টাতে না-পেরে চাপের খেলা :

ফলাফল বদলানো সম্ভব না বুঝেই শুরু হয় নতুন খেলা। নির্বাচন কমিশনের ভেতরে একের পর এক পদত্যাগ যেনো রাজনৈতিক চাপের কাছে আত্মসমর্পণের প্রতীক হয়ে ওঠে। পদত্যাগগুলো ছিল না বিবেকের স্বাধীন সিদ্ধান্ত; বরং ছিল রাজনৈতিক স্রোতের টানে ভেসে যাওয়া শুকনো পাতার মতো—যারা প্রবল হাওয়ার কাছে টিকতে পারে না।

এই অদৃশ্য চাপের খেলা প্রথমে সূক্ষ্মভাবে দেখা গেল ডাকসুতে, কিন্তু জাকসুতে এসে তা নগ্ন ও দৃষ্টিকটু আকারে প্রকাশ পেলো।

 

৪. জাতির জন্য অশনি সংকেত :

ডাকসু নির্বাচনের অভিজ্ঞতা ছিল এক আলোকবর্তিকা—যা জাতীয় নির্বাচনকে স্বচ্ছতার পথে পরিচালিত করতে পারত। কিন্তু জাহাঙ্গীরনগরের অভিজ্ঞতা সেই আলোর বাতিকে নিভিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের মতো। যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই নির্বাচনী প্রক্রিয়া রাজনৈতিক চাপের শৃঙ্খলে আবদ্ধ থাকে, তবে জাতীয় নির্বাচনও যে একই পথে জড়িয়ে পড়বে, তা অনুমান করাই যায়।

এ যেন নদীর উজানে বিষ ঢেলে দেওয়া—যেখানে অম্লজল একবার মিশে গেলে নিম্নস্রোতও আর বিশুদ্ধ থাকে না।

 

৫. সত্যের জয় অবিসম্ভাবী :

ডাকসুর স্বচ্ছ নির্বাচন প্রমাণ করেছে—বাংলাদেশের মানুষ সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়াকে আপন করে নিতে প্রস্তুত। জাকসুর অভিজ্ঞতা যদিও রাজনৈতিক চাপে বিপর্যস্ত, তবুও এ লড়াই শেষ নয়।

স্বচ্ছ প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করার এই অন্ধ প্রচেষ্টা যত গভীর হোক না কেন, সত্যের সূর্য একদিন উদিত হবেই। কারণ ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—অন্যায় যত বড়ই হোক, তার পতন অনিবার্য। আর সত্য, যদিও ক্ষণিকের জন্য আড়াল হয়, শেষ পর্যন্ত সে-ই জয়ী হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]