বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৩ অপরাহ্ন
সারকারে প্রতি জুলাই আন্দোলনের শহীদদের নিয়ে চলচ্চিত্র ও তথ্যচিত্র নির্মাণের আহ্বান
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদসহ সকল শহীদের আত্মত্যাগের চেতনা ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য অধ্যাপক নূর নবী মানিক।
বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরাম খাঁ হলে বাংলাদেশ সুশীল ফোরাম আয়োজিত ‘শহীদ আবু সাঈদ হত্যা ও জুলাই যুদ্ধে নিহত শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা’য় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
এসময় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সুশীল ফোরামের সভাপতি, বিশিষ্ট লেখক, কলামিস্ট ও গবেষক মোহাম্মদ জাহিদ
সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি এস এম শহীদুল্লাহ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক নূর নবী মানিক বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী ঘটনা। তরুণদের নেতৃত্বে সংঘটিত এই আন্দোলনের মাধ্যমে দেশের মানুষ একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছে। অনেকেই এ আন্দোলনকে দেশের ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’ হিসেবে অভিহিত করেন।
তিনি বলেন, “এই আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল এমন একটি রাষ্ট্র গঠন, যেখানে বৈষম্যের স্থান থাকবে না, মানুষ স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারবে, রাজনৈতিক মতভেদের কারণে কাউকে গুম, গ্রেপ্তার বা নির্যাতনের শিকার হতে হবে না। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের সংগ্রামে প্রায় ১,৪০০ মানুষ শহীদ হয়েছেন এবং ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল প্রত্যাশা ছিল তিনটি— অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন, প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সংস্কার এবং শহীদদের হত্যার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।<span;> অতীতের স্বৈরশাসন দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করে দিয়েছে। তাই এমন একটি সংবিধান ও রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তি বা দল ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠার সুযোগ না পায়।
জুলাই সনদের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তির অংশগ্রহণে প্রণীত এ সনদের প্রতি জনগণের ব্যাপক সমর্থন রয়েছে। জনগণের সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়নে বিলম্ব হলে তা শহীদদের আত্মত্যাগের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে।
তিনি বলেন, “জনগণের রায় ও আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে কেউ দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার স্বপ্ন দেখলে তা নতুন করে স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতার জন্ম দিতে পারে। তাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা সমুন্নত রাখতে সবাইকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”
শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে নূর নবী মানিক বলেন, “বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে তাঁর সাহসী অবস্থান পুরো জাতিকে আন্দোলনের নতুন প্রেরণা জুগিয়েছিল। তাঁর আত্মত্যাগ জুলাই আন্দোলনকে বেগবান করেছিল।”
তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শহীদ আবু সাঈদসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহীদকে যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিতে হবে। পাশাপাশি তাঁদের জীবন ও আত্মত্যাগকে দেশের শিক্ষা, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তিনি জুলাই আন্দোলনের শহীদদের নিয়ে চলচ্চিত্র ও তথ্যচিত্র নির্মাণেরও আহ্বান জানান।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাগপার সাবেক সাধারণ সম্পাদক, আসাদুর রহমান বিএনপি ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সহ-সভাপতি আলতাফ উদ্দিন মোল্লা, শহীদ আবু সাঈদের বড় ভাই মো. রমজান আলী, বাংলাদেশ সুশীল ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ডাঃ আল হাসান মোবারক, বাংলাদেশ মুসলিম সমাজের সভাপতি মোঃ মাসুদ হোসেন সহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যরা।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুশীল ফোরামের সহ-সভাপতি ডাঃ আবুল হাসনাত মো. আমিন, ফজলুল করিম শামীম জবা ইসলাম, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং সুধীজন।
বক্তারা শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তাঁদের স্বপ্ন বাস্তবায়নেই প্রতিষ্ঠিত হবে একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ।