মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪০ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
নোয়াখালী-১ আসনে ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের বিজয়ে সুশীল ফোরামের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন রাজউক কর্মকর্তা গ্রেফতার: নারী সাংবাদিক হেনস্তা ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা মাগুরায় সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের স্টেক হোল্ডার বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত মাগুরায় সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের স্টেক হোল্ডার বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত মাগুরায় জামায়াতের উদ্যোগে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ অনুষ্ঠিত Without Classrooms, Education Remains Incomplete* *—-Professor M A Barnik শ্রেণিকক্ষের দরজা বন্ধ করে দিয়ে প্রকৃত মানুষ তৈরি অসম্ভব* *—–অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* A Voice of Principle in Parliament Barrister Nowshad Zamir—Professor M. A. Barnik ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরের এক নতুন রাজনৈতিক বার্তা –অধ্যাপক এম এ বার্ণিক*

বঙ্গবন্ধু পরিষদ নিয়ন্ত্রণ করছে বিআরডিবি”!

সংবাদদাতা / ৮০০ বার ভিউ
সময়ঃ মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪০ পূর্বাহ্ন

 নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

৫ আগস্ট ২০২৪ সালে ছাত্র শ্রমিক জনতার গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী আওয়ামিলীগ সরকারের পতনের পরে সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে আওয়ামী দোসরদের দৌরাত্ম কমলেও বিআরডিবি প্রতিষ্ঠানটি এখনো নিয়ন্ত্রণ করে যাচ্ছে তাদের বঙ্গবন্ধু পরিষদের কর্মকর্তারা। ২০২১ সালে বিআরডিবিতে গঠিত বঙ্গবন্ধু পরিষদের সর্বশেষ কমিটি এখনো নিয়ন্ত্রণ করে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির বেশিরভাগ নীতি নির্ধারনী কার্যক্রম।১০১ সদস্য বিশিষ্ট কার্যকরী কমিটি ও ১৩ সদস্যের গঠিত উপদেষ্টা কমিটি থেকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয় বিআরডিবিতে বঙ্গবন্ধু পরিষদের অনুমতি ছাড়া কোনো অনুষ্ঠান আয়োজন করা যাবেনা।৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর এখনো বিআরডিবির সেই বঙ্গবন্ধু পরিষদের অধিকাংশ কর্মকর্তা কর্মচারী সদর দপ্তর সহ নিজ পদে বহাল তবিয়তে আছেন।ফলে কার্যত অদৃশ্য ভাবে বঙ্গবন্ধু পরিষদই নিয়ন্ত্রণ করে যাচ্ছে বিআরডিবির সার্বিক কার্যক্রম।
২০০৯ সালে আওয়ামিলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বদলী,নিয়োগ বানিজ্য,দুর্নীতি,লুটপাট আর বিরোধী দলমতের কর্মকর্তা কর্মচারীদের উপর চরম হয়রানি নির্যাতন করে পুরো বিআরডিবিতে আওয়ামী ফ্যাসিজমের রাজত্ব কায়েম করা হয়।বিগত পনেরো বছর শেখ মুজিবকে কটুক্তি করা,ছবি ছেঁড়া,ছবি পাড়ানো সহ বিভিন্ন নোংরা ও মিথ্যা ট্যাগ দিয়ে আওয়ামী বিরোধী পন্থী কর্মকর্তা কর্মচারীদের উপর সকল প্রকার হয়রানি নির্যাতন চালিয়ে বঞ্চিত করা হয় নায্য অধিকার থেকে।
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের ব্যাপক অনিয়ম ও হরিলুটের প্রজেক্ট একটি বাড়ি একটি খামার বিআরডিবিকে দিয়ে বাস্তবায়নের জন্য ঢোল পিটিয়ে দুর্বল করে দেওয়া হয় বিআরডিবির বাস্তবায়নাধীন অন্যান্য প্রকল্প সহ পুরো বিআরডিবিকে।এই প্রকল্পে আওয়ামী পন্থী কর্মকর্তা ও নেতাকর্মীদের ব্যাপক দুর্নীতি লুটপাটের কারনে বিতর্কিত হয় বিআরডিবির সার্বিক কার্যক্রম।বিগত সরকারের সময় সকল অনিয়ম দুর্নীতির অংশীদার হয় বিআরডিবির আওয়ামী পন্থী অফিসার্স এসোসিয়েশন ও জাতীয় শ্রমিক লীগের দোসর বিআরডিবি কর্মচারী সংসদের নেতাকর্মীরা।২০০৫ সালের পর সিবিএর কোনো নির্বাচন না হলেও কর্মচারী সংসদ ফ্যাসিস্টদের মতোই নিজেদেরকে সিবিএ পরিচয় দিয়ে বিআরডিবির বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাথে হাত মিলিয়ে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা।কর্মচারীদের দাবী আদায়ের আন্দোলনের নাটক করে প্রকল্পের লোকদের থেকে সিবিএ নামধারীরা বিপুল অর্থ আদায় করেও বঙ্গবন্ধু পরিষদ আর প্রশাসনের সাথে আতাত করে সব আন্দোলন ব্যর্থতায় পরিনত করে।এছাড়াও এরা বঙ্গবন্ধু পরিষদের যোগসাজশে ১৫ বছরে নিয়োগ বানিজ্য করেও বিপুল সম্পদ গড়েছে।এসময়ে নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে বর্তমানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের বিপুল সংখ্যক ক্যাডারকে বিআরডিবিতে নিয়োগ দেওয়া হয় যারা এখন সরকার বিরোধী বিভিন্ন কর্মকান্ডে সহযোগিতা করছে বলে জানা যাচ্ছে।বিআরডিবির ফ্যাসিস্ট আওয়ামী পন্থী এসব সংগঠনের নেতাকর্মীরা বঙ্গবন্ধু পরিষদের ব্যানারে পুরো বিআরডিবিকে জিম্মি করে রাখে।মন্ত্রণালয় থেকে প্রেষণে বিআরডিবিতে আসা অতিরিক্ত সচিব,যুগ্মসচিব পদমর্যাদার মহাপরিচালক ও অন্যান্য পরিচালকরাও এই বঙ্গবন্ধু পরিষদের কাছে জিম্মি থাকতে হতো।নাহলে তাদের দোসর হয়ে কাজ করতে হতো।
৫ আগস্টের ছাত্র-জনতা-শ্রমিকদের জীবন উৎসর্গ করা বিপ্লব ও গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের পতন হলে সারাদেশের মানুষ ষোলো বছরের গুম,খুন,নির্যাতন থেকে মুক্তি পায়।পাশাপাশি দেশের বেশিরভাগ সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান স্বৈরাচারী আওয়ামিলীগের দুর্বৃত্তদের দখলদারির কবল থেকে মুক্ত হলেও বিআরডিবি প্রতিষ্ঠানটি এখনো নিয়ন্ত্রণ করছে সেই বঙ্গবন্ধু পরিষদের আওয়ামী দোসররা।ফলে ষোলো বছর যাবত এই প্রতিষ্ঠানের নির্যাতিত কর্মকর্তা কর্মচারীরা এখনো অবহেলিত রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়,বিআরডিবিতে বঙ্গবন্ধু পরিষদের ১০১ সদস্য বিশিষ্ট কার্যকরী কমিটির ১৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি শক্তিশালী উপদেষ্টা কমিটি রয়েছে যার প্রায় ১১ উপদেষ্টা এখনো বিআরডিবি সদর দপ্তরে গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল আছে।এরমধ্যে বঙ্গবন্ধু পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা আলমগীর হোসেন আল নেওয়াজ সদর দপ্তরে বিশেষভাবে সংযুক্ত আছেন।অন্যান্য উপদেষ্টাদের মধ্যে রাশেদুল আলম ইরেসপো প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকের পাশাপাশি নির্মাণ শাখারও যুগ্ম পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছে।উপদেষ্টা মোরশেদ আলম পদাবিকের প্রকল্প পরিচালক,আলাউদ্দিন সরকার পজীপ ও পজীকের প্রকল্প পরিচালক,তপন কুমার মন্ডল পিআরডিপি-৪ এর প্রকল্প পরিচালক,ছাত্রলীগ ক্যাডার শহিদুল ইসলাম মউ এর উপপরিচালক,সাদেকুর রহমান বিশেষ প্রকল্পের উপপরিচালক,নুরুজ্জামান জনসংযোগ শাখার উপপরিচালক,হাবিবুল্লাহ সম্প্রসারণ শাখার উপপরিচালকের দায়িত্বে আছেন।এছাড়াও উপদেষ্টা আক্কাস আলী ও বকুল চন্দ্র রায় সিলেট বিআরডিটিআই,ভবেশ রঞ্জন চৌধুরী ময়মনসিংহ ও দিনেশ চন্দ্র মন্ডল কুষ্টিয়া জেলার উপপরিচালকের দায়িত্ব পালন করছে।বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি আসাদুজ্জামান নোয়াখালী ট্রেনিং সেন্টার,সাধারণ সম্পাদক শরিয়াতুল্লাহ সদর দপ্তর ট্রেনিং শাখার সহকারী পরিচালকের পদে এবং শ্রমিক লীগের অন্তর্ভুক্ত কর্মচারী সংসদের সভাপতি আবদুর রাজ্জাক বিআরডিবি সদর দপ্তরে ও সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম(যুব শ্রমিক লীগের সেক্রেটারি) মানিকগঞ্জ জেলায় কর্মরত আছেন।বর্তমান সরকার আওয়ামিলীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও দলের উচ্চ পর্যায়ের নেতারা গেরিলা বাহিনী তৈরি করে সরকারের বিরুদ্ধে দেশকে অস্থিতিশীল করতে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকান্ডের মাধ্যমে নাশকতা তৈরির চেষ্টা করছে।বিআরডিবির আওয়ামী পন্থী এসব কর্মকর্তারা আওয়ামীলীগের অনেক নেতার সাথে এখনো গোপনে যোগাযোগ রেখে সহযোগিতা করার কথাও শোনা যাচ্ছে।এছাড়া বঙ্গবন্ধু পরিষদের উপদেষ্টারা বিআরডিবি সদর দপ্তরে গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থেকে তাদের আওয়ামী পন্থী কর্মকর্তা কর্মচারীদেরকে রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত রাখতে সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছে।তবে ৫ আগস্টের পরে এদের অনেকে আবার ভোল পাল্টিয়ে নিজেদেরকে বিএনপি জামায়াত ও এনসিপির নেতাদের আত্মীয় স্বজন পরিচয় দিয়ে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে।
এ বিষয়ে বিআরডিবির মহাপরিচালক অতিরিক্ত সচিব সরদার কেরামত আলীর সাথে তার সরকারি ও ব্যক্তিগত নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
বিআরডিবির জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের অন্তর্ভুক্ত কর্মচারী ইউনিয়ন বি-১৯২৫ এর সভাপতি মনিরুল ইসলামের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,বিআরডিবির বিভিন্ন প্রকল্পের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা কর্মচারীরা বেতন ভাতা না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।ষোলো বছর যাবত আমাদের নেতাকর্মীরা হয়রানি নির্যাতনের শিকার হয়েছে।অথচ বিআরডিবির বঙ্গবন্ধু পরিষদের পরিচয়ধারীরা এখনো সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা নিয়ে বহাল তবিয়তে আছে।আওয়ামী ফ্যাসিবাদীর সুবিধাভোগী ও আমাদের উপর নির্যাতনকারী দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ডিজি মহোদয়কে একাধিকবার অনুরোধ জানানো হয়েছে।আমরা সহনশীলতায় বিশ্বাসী।তবে কেউ যদি নিষিদ্ধ হওয়া দলের কার্যক্রমে এখনো সহযোগিতা করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে বিআরডিবির সর্বস্তরের কর্মচারীদের নিয়ে বৃহৎ আন্দোলন করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]