মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ১১:৪১ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
35 Thermonuclear Bombs in Iran’s Possession: Russia’s Claim Sends Shockwaves Through Global Politics— Professor M. A. Barnik ব্যাংক ম্যানেজারের উপর হামলা ও হত্যার প্রতিবাদে নবীনগরে মানববন্ধন  মাগুরার শ্রীপুরে রাস্তার বেহাল দশা, জনদুর্ভোগ চরমে! ইরানের হাতে ৩৫টি থার্মোনিউক্লিয়ার বোমা: রাশিয়ার দাবিতে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন ভূমিকম্প—অধ্যাপক এম এ বার্ণিক মাগুরায় অনলাইন জুয়া চক্রের মাস্টার মাইন্ড আমিনুল গ্রেফতার! মাগুরায় কৃষি কর্মকর্তাকে ঝুলিয়ে পেটানোর হুমকি! যুবদল নেতা বহিস্কার! বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে বাংলাদেশ সুশীল ফোরামের শোক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই-(ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।) সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের ইন্তেকাল( ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)” বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাইবার ইউজার দল (বিএনসিইউপি) শোক মাগুরায় জামায়াত মনোনীত উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো: আজমত হোসাইনের নির্বাচনী বিলবোর্ড চুরির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

ফেব্রুয়ারির নির্বাচন: জুলাই শহিদদের রক্তের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা, নাকি, ফ্যাসিবাদে ফিরে আসা? —- অধ্যাপক এম এ বার্ণিক

সংবাদদাতা / ১৪৪ বার ভিউ
সময়ঃ মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ১১:৪১ পূর্বাহ্ন

১. ভূমিকা :

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব ছিল এক অগ্নিঝরা অধ্যায়। সেই আন্দোলনে শহিদ তরুণদের রক্তে যে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও “নতুন বাংলাদেশ” গড়ার স্বপ্ন জন্ম নিয়েছিল, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আয়োজন তা মুছে দিতে উদ্যত। প্রশ্ন উঠছে—এই নির্বাচন কি সত্যিই মুক্ত গণতন্ত্রের পথে নতুন যাত্রা, নাকি আবারও ফ্যাসিবাদের আঁধারে ফেরার আয়োজন?

২. রাজনৈতিক দলগুলোর চাওয়া-পাওয়া :

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান বিভক্ত।

বিএনপি, গণতন্ত্র মঞ্চসহ বেশ কিছু দল দাবি করছে—এই নির্বাচন হবে কেবল তখনই গ্রহণযোগ্য, যদি তা শহিদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষা করে এবং নিরপেক্ষ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।

অপরদিকে, ক্ষমতাসীন মহল ও তাদের সহযোগী অংশ বলছে—“নির্বাচনের মাধ্যমেই স্থিতিশীলতা আসবে”।

ইসলামী দলগুলোর বড় অংশ দাবি করছে, ধর্মীয় নেতৃত্ব ও সমাজের নৈতিক শক্তিকে উপেক্ষা করে কোনো নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না।

৩. অন্তর্বর্তী সরকারের তৎপরতা :

অন্তর্বর্তী সরকার নানা উদ্যোগ নিলেও অনেকের কাছে এগুলো কেবল “সংকট ব্যবস্থাপনার কৌশল” হিসেবে ধরা পড়ছে। স্বাধীন কমিশন, প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ, আন্তর্জাতিক তদারকি—এসব নিয়ে আলোচনা থাকলেও বাস্তবে গণআস্থার সংকট কাটেনি।

৪. নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন ধুলিস্মাৎ হওয়ার শঙ্কা :

জুলাই বিপ্লবের সময় রাজপথে যে শ্লোগান গর্জে উঠেছিল—
“আমরা নতুন বাংলাদেশ চাই, মুক্ত রাষ্ট্র চাই”—
ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আয়োজন তা মুছে দেওয়ার মতো হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদি দলীয় স্বার্থ, ভারতীয় প্রভাব এবং ক্ষমতার দখলদারিত্বই আবার প্রধান হয়ে ওঠে, তবে “নতুন বাংলাদেশ” কেবল স্লোগানেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

৫. শহিদ পরিবারের আবেগময় প্রতিক্রিয়া:

শহিদ পরিবারের চোখে ফেব্রুয়ারির নির্বাচন এক গভীর ক্ষতকে আবারও উন্মুক্ত করছে।

শহিদ রায়হানের মা বলেন:
“আমার ছেলের বুকের রক্ত কিসের জন্য গেল? আমরা ভেবেছিলাম, আর কোনো মা যেন রক্তে ভেজা সন্তানের লাশ না দেখে। অথচ তারা আবার পুরনো খেলা শুরু করেছে।”

শহিদা ফাতেমার ভাইয়ের আর্তনাদ—
“আমাদের ভাই শহিদ হয়ে গেছে এই আশায় যে বাংলাদেশ বদলাবে। কিন্তু ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সেই স্বপ্নকে কবর দিতে চাইছে।”

এই আবেগময় প্রতিক্রিয়া শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য নয়, পুরো জাতির জন্য এক কঠিন প্রশ্ন ছুঁড়ে দিচ্ছে—শহিদদের আত্মত্যাগ কি এভাবেই ভুলে যাওয়া হবে?

৬. উপসংহার :

আজকের বাংলাদেশের /রাজনীতির কেন্দ্রীয় প্রশ্ন হলো—ফেব্রুয়ারির নির্বাচন কি হবে জুলাই শহিদদের স্বপ্নের প্রতিফলন, নাকি আবারও ফ্যাসিবাদের পুনর্জন্ম? যদি এই নির্বাচন রক্তের মর্যাদা অস্বীকার করে কেবল ক্ষমতাকেন্দ্রিক নাটকেই সীমিত থাকে, তবে ইতিহাস একে বলবে—“শহিদদের সাথে নির্মম বিশ্বাসঘাতকতা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]