শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:১৬ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
আজকের মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের সমৃদ্ধ – মাগুরায় কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নূরুল ইসলাম সাদ্দাম Macca Defence Pact: A Severe Setback to India’s Strategic Calculations* *— Professor MA Barnik *মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি : ভারতের স্ট্র্যাটেজিক হিসাব-নিকাশে বড় ধরনের ধাক্কা— অধ্যাপক এম এ বার্ণিক মাগুরার শ্রীপুরে বিদ্যুতায়িত হয়ে এক যুবকের মৃত্যু, আহত আরো -২জন চাটমোহরে তেল-জেলিতে তৈরি হচ্ছিল নকল দুধ, ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড ও জরিমানা The Mecca Defence Pact: India’s Concerns, the Positions of Major Powers, and Bangladesh’s Potential Gains and Losses* *–Professor M. A. Barnik মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি: ভারতের উদ্বেগ, পরাশক্তিদের অবস্থান এবং বাংলাদেশের সম্ভাব্য লাভ-ক্ষতি* *—অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* কেন্দ্রীয় যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি পলের রোগমুক্তিতে এস. আলম ইসরাৎ এর উদ্যোগে দোয়া আন্দালিব রহমান পার্থকে তথ্যমন্ত্রী করায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দকে মিষ্টিমুখ করালো বিজেপি ভাষা সৈনিক অজিত গুহ মহাবিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা:) উদযাপন

ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের মধ্যদিয়ে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের স্বপ্নখতম —-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক

সংবাদদাতা / ৮২ বার ভিউ
সময়ঃ শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:১৬ পূর্বাহ্ন

১. নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের স্বপ্ন হারিয়ে গেল:
বাংলাদেশের রাজনীতির আকাশে মেঘের রঙ বদলেছে, কিন্তু বৃষ্টির নাম এখনো পুরনো সুরেই বাজে। গণ–অভ্যুত্থানের ঝড়ে শেখ পরিবারের দুর্ভেদ্য দুর্গে ফাটল ধরেছিল—জনতা ভেবেছিল, হয়তো এবার ইতিহাস নতুন প্রভাতের দিকে হাঁটে। কিন্তু এক বছর পার হতেই বোঝা গেল, রাতের অন্ধকার কেটে গেলেও ভোরের সূর্য এখনো কুয়াশায় ঢাকা।

আজ প্রশ্ন উঠেছে—এ নির্বাচন কি এমপি হওয়ার প্রতিযোগিতা, নাকি নতুন বাংলাদেশ রচনার মহাযজ্ঞ? কিন্তু এই প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই কোনো ঘোষণায়, নেই কোনো ইশতেহারে, নেই রাজনৈতিক দল, নির্বাচন কমিশন কিংবা অন্তর্বর্তী সরকারের রাজনৈতিক মানচিত্রে। যেন সবাই পথ হাঁটছেন, কিন্তু গন্তব্যহীন।

২. গণ–অভ্যুত্থানের চেতনা বিদ্যুতের ঝলকের মতোই বিলীন :

গণ–অভ্যুত্থান ছিল গ্রীষ্মের বজ্রপাত—ক্ষণিক, তীব্র, দগদগে। মুহূর্তের আলোকচ্ছটায় দৃশ্যমান হয়েছিল জনতার রক্ত-ঘামে ভেজা আকাঙ্ক্ষা—একটি নতুন রাষ্ট্র, নতুন রাজনৈতিক ভাষা, নতুন সামাজিক চুক্তি। মানুষের কণ্ঠে ছিল আশা, চোখে ছিল বিপ্লবের আগুন।

কিন্তু সেই আগুন আজ নিভু নিভু বাতির মতো; এর আলো আছে, তাপ নেই। অভ্যুত্থানের রাজনৈতিক চেতনা একটি ডানা মেলা পাখি হলেও, তাকে আকাশে উড়ানোর রানওয়ে তৈরি হয়নি। নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন এখনো স্লোগানের দেয়ালে বন্দি—রাজনীতির দরবারে তার প্রবেশাধিকার মেলেনি।

৩. নির্বাচন শুধুই ক্ষমতা বদলের খেলা :

নির্বাচন কমিশনের ক্যালেন্ডারে দিন আছে, কিন্তু দৃষ্টিতে দিশা নেই। দলগুলোর বক্তব্যে কৌশল আছে, কিন্তু আদর্শ নেই। অন্তর্বর্তী সরকারের উচ্চারণে আশ্বাস আছে, কিন্তু রোডম্যাপ নেই।

ফলে যা হচ্ছে, তা যেন রূপকথার মঞ্চ—রাজা পাল্টাচ্ছে, রাজ্য নয়; মুকুট বদলাচ্ছে, নীতি নয়। জনগণ দাঁড়িয়ে আছে সেই মঞ্চের সামনে, মেকি আলোর রঙ্গমালা দেখছে, কিন্তু দিন বদলের সূর্য দেখছে না।

৪. নতুন বাংলাদেশ গড়ার ইশতেহার বাস্তবায়নের পথ বন্ধ :

জাতীয় নাগরিক কমিটি নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার পাঠ করেছিল—কণ্ঠে দৃঢ়তা, শব্দে উত্তাপ, বাক্যে ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি। জাতি শুনেছিল মনোযোগ দিয়ে, যেন কবির কণ্ঠে জাতীয় মহাকাব্য পাঠ হচ্ছে।

কিন্তু শব্দের স্রোত থেমে গেল, যাত্রা শুরু হলো না। ইশতেহার যেন শীতের ভোরের কাগজের নৌকা—দূর থেকে সুন্দর, কিন্তু পানিতে নামলেই ভিজে বিস্মৃত হয়ে যায়।

পরিকল্পনার মানচিত্র নেই, কর্মসূচির পদচিহ্ন নেই, রাজনৈতিক মাঠে দৃশ্যমান রোডম্যাপ নেই। ফলে “নতুন বাংলাদেশ” এখনো শ্লোগানের গহ্বরে আটকে থাকা এক স্বপ্নকথা।

৫. আধিপত্যের শিকল ভাঙলেও দরজা বন্ধ :

শেখ পরিবারের দীর্ঘ প্রভাবের সূর্য অস্তমিত—এ এক ঐতিহাসিক সত্য। কিন্তু জাতি যখন ভেবেছিল “এক পরিবারের যুগ” শেষ হলো, তখন দেখা গেল আরেক পরিবারের রাজনৈতিক ছায়া আরও দীর্ঘ হচ্ছে।

বাংলাদেশের রাজনীতি যেন সেই নদী—গতি আছে, কিন্তু স্রোতের দিক বদলায় না। নৌকার মাঝি বদলায়, কিন্তু গন্তব্যের ঘাট বদলায় না। জনগণ তাই হতাশ—কারণ তারা চেয়েছিল মাথার উপর থাকা ছাউনির বদলে আকাশ, কিন্তু পেল কেবল ছাদ বদলানোর নাটক।

৬. জাতির আশা আহত :

গণ–অভ্যুত্থানের এক বছর পর জাতির হৃদয়ে প্রত্যাশার ক্ষত এখন স্পষ্ট। মানুষ দেখছে:

চেতনা জন্মেছে, কাঠামো জন্মায়নি

স্বপ্ন বলা হয়েছে, পথ দেখানো হয়নি

পরিবর্তন শোনা গেছে, কিন্তু দেখা যায়নি

আধিপত্য সরেছে, বিকল্প প্রতিষ্ঠা পায়নি

জাতি এখন দাঁড়িয়ে আছে হতাশার বারান্দায়, কিন্তু হাত ছড়ানো আশা এখনো আকাশের দিকে—যদি সত্যিকারের ভোর আসে, যদি সত্যিকারের রাজনৈতিক নবজন্ম ঘটে।

৭. “নতুন বাংলাদেশ” শুধুই কথার কথা :

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতি এক অসমাপ্ত উপন্যাস—যার প্লট বদলানোর কথা ছিল, কিন্তু কেবল চরিত্র বদলায়। গল্পের নায়ক পরিবর্তিত, কিন্তু গল্পের ভাগ্য আগের মতোই পূর্বনির্ধারিত।

নতুন বাংলাদেশের প্রশ্ন এখন তাই আর আবেগের নয়—এটি রাজনৈতিক প্রযুক্তির, সংগঠিত নেতৃত্বের ও দৃশ্যমান কর্মপরিকল্পনার। স্লোগান দিয়ে রাষ্ট্র গড়া যায় না, ইশতেহার পড়ে দেশ বদলানো যায় না, এবং অভ্যুত্থানের উত্তাপ কর্মসূচিতে রূপ না নিলে ইতিহাস স্মৃতিফলকের বেশি কিছু হয় না।

জাতি আর কবিতা শুনতে চায় না, বাস্তবতা দেখতে চায়।
স্বপ্ন আর পড়তে চায় না, বাস্তবায়ন দেখতে চায়।
বিপ্লব আবার চাইছে না, বিপ্লবের ফল চায়।

কারণ বাংলাদেশ এবার আর শুধু নির্বাচন চায় না—
চায় নতুন দিশার জন্ম,
চায় নতুন রাষ্ট্রচুক্তির বাস্তবতা,
চায় সত্যিকারের রাজনৈতিক রূপান্তর।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]