মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০:২৭ পূর্বাহ্ন
আব্দুল হক :-
বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড বিআরডিবি’র পল্লী জীবিকায়ন কর্মসূচীর জনবল রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে রবিবার বিআরডিবি সদর দপ্তর, পল্লী ভবন, ৫, কাওরান বাজারে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে আন্দোলনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তাদের চাকরি রাজস্ব খাতে অন্তর্ভূক্ত করার জন্য বিআরডিবি’র মহাপরিচালক, সরদার কেরামত আলীকে (অতিরিক্ত সচিব) স্মারকলিপি প্রদান করে। সমাবেশ থেকে জানানো হয়, পল্লী জীবিকায়ন কর্মসূচী ১৯৯৩ সালে ৮২টি উপজেলায় ক্ষুদ্র ঋণ ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দারিদ্র বিমোচনের লক্ষ্যে আরপিসিপি নামে শুরু হয়। এরপর ১৯৯৮ সালে আরও ৭০টি উপজেলা যোগ করে পল্লী জীবিকায়ন প্রকল্প নামে নাম পরিবর্তন করে কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পরবর্তীতে ২০১২ সালে আরও ৩৮টি উপজেলা অন্তর্ভুক্ত করে আরএলপি-২ নামকরণ করা হয় এবং তখন সংশোধিত ডিপিপিতে প্রকল্পের মেয়াদ শেষে জনবল সহ রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত করার কথা উল্লেখ করা হয়। কিন্তু ২০১৭ সালে প্রকল্পের মেয়াদান্তে বিআরডিবি কর্তৃপক্ষ পঞ্জীপের জনবলকে রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্তের বিষয়টি পাশ কাটিয়ে প্রকল্পকে কর্মসূচী হিসেবে পরিচালনা করে। পাশাপাশি ২০২১ সালে নতুন আরও ৩০টি উপজেলা অন্তর্ভুক্ত করে কর্মসূচীর পাশাপাশি পল্লী জীবিকায়ন প্রকল্প (৩য় পর্যায়) নামে প্রকল্প পরিচালনা শুরু হলে প্রকল্পের দুই সহশ্রাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে যায়। দারিদ্র বিমোচনে সরকার তথা বিআরডিবি’র সর্ববৃহৎ এই প্রকল্পে অনেকে ২০-৩০ বছর যাবত চাকরি করে দেশের দারিদ্র বিমোচনে কাজ করে গেলেও আয় থেকে দায়ের এবং সাকুল্য বেতন ভাতার অমানবিক প্রথার কারণে তারা নিজেরাই দরিদ্র হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। তারা জানায় ১৯৯৩ সালে আরপিসিপিতে যোগদানকারীরা জাতীয় বেতন স্কেলে চাকরি শুরু করলেও বিআরডিবি কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত অমানবিকভাবে ১৯৯৮ সালে তাদের বেতন স্কেল বাতিল করে সাকুল্য বেতন চালু করে। ২০১২ সালে মাঠ-সংগঠকদের ১২তম গ্রেড বাতিল করে ১৪তম গ্রেডে বেতন নিতে বাধ্য করার মতো অনেক অমানবিক হয়রানি ও নিয়মনীতি বিআরডিবি কর্তৃপক্ষ পতিত স্বৈরাচারী আওয়ামীলীগের শাসনামলে বাস্তবায়ন করে। প্রকল্পের কয়েক শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী রিট পিটিশনের মাধ্যমে মহামান্য উচ্চ আদালতের রায়ে রাজস্বখাতে অন্তর্ভুক্তির আদেশ পেয়েও বিআরডিবি কর্তৃপক্ষের বিরাধীতা ও ফ্যাসিজম আচারনের কারণে আজও তারা রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেনি। আন্দোলকারীরা জানায় এই প্রকল্পটি ১৯৯৩ সালে বিএনপি সরকারের আমলে শুরু হওয়ায় রাজনৈতিক ট্যাগ লাগিয়ে সকল প্রকার সুযোগ থাকা স্বত্ত্বেও বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের দোসর কর্তৃপক্ষ প্রকল্পের জনবলকে রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত করেনি। সময়মতো বেতন-ভাতা ও ন্যায্য অধিকার বঞ্চিত হয়ে দারিদ্র বিমোচন করতে এসে তারা নিজেরাই এখন হতদরিদ্র হয়ে অসহায় জীবন যাপন করছে। অনেকের চাকরির বয়স শেষ পর্যায়ে। বাকিদেরও অন্যত্র চাকরি পাওয়ার বয়স নাই। এখন তাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে যাওয়ায় তারা বাধ্য হয়েই এই সমাবেশের মাধ্যমে মাননীয় মহাপরিচালককে চাকরি রাজস্বখাতে অন্তর্ভূক্ত করার স্মারকলিপি দিয়েছেন। আগামী পনের কার্য-দিবসের মধ্যে ডিজি মহোদয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে তারা সচিবালয়ের সম্মুখে অবস্থান সহ বৃহৎ কর্মসূচী ঘোষনা
করবে বলে জানায়। পজীকের সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচীতে প্রকল্পের ২২০ উপজেলার সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের অন্তর্ভুক্ত বিআরডিবি কর্মচারী ইউনিয়ন, বি-১৯২৫, সিবিএ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি জনাব এ.কে.এম মনিরুল হক ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল মান্নান শেখ সহ কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ।