মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২৪ অপরাহ্ন
তরুণ শিক্ষানবিশ আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী অর্ক রায় আন্তর্জাতিক হিউম্যান রাইটস পিস অ্যাওয়ার্ড–২০২৫ পাচ্ছেন। মানবাধিকার সুরক্ষা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং প্রান্তিক মানুষের পাশে কাজ করার জন্য তাঁকে এ পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছে এশিয়া হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন ও আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেন্ট হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন।
আগামী ১৩ ডিসেম্বর বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অর্ক রায়ের হাতে পুরস্কারটি তুলে দেওয়া হবে। বিকেল চারটায় শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মোহাম্মদ মীর হাসমত আলী। প্রধান আলোচক হিসেবে থাকবেন বাংলাদেশ মানবাধিকার ব্যারোর চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ শাহজাহান। বিশেষ অতিথি থাকবেন পীরজাদা শহীদুল হারুন, সাবেক অতিরিক্ত সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়। অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করবেন অ্যাডভোকেট এম আর পাঠান জীবন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, এশিয়া হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন।
অর্ক রায় দীর্ঘদিন ধরে দরিদ্র, নির্যাতিত ও অসহায় মানুষদের বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দিয়ে আসছেন। নারী ও শিশু নির্যাতন, ভূমি বিরোধ, নিখোঁজ–নির্যাতন এবং সাইবার অপরাধ–সংক্রান্ত মামলায় ভুক্তভোগীদের সহায়তা করার পাশাপাশি তিনি স্কুল–কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য আইন সচেতনতা ও নিরাপত্তা বিষয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
ফাউন্ডেশনের পাঠানো আমন্ত্রণপত্রে বলা হয়েছে, অর্ক রায়ের মানবাধিকারচর্চা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ তাঁকে এই সম্মাননার জন্য যোগ্য করে তুলেছে। আমন্ত্রণপত্রে আরও বলা হয়, ‘তার কাজ তরুণ সমাজের জন্য অনুপ্রেরণা।’
পুরস্কারপ্রাপ্তি প্রসঙ্গে অর্ক রায় বলেন, “এই স্বীকৃতি আমার নয়; সেই সব মানুষের, যারা ন্যায়বিচারের আশায় প্রতিদিন লড়াই করেন। মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারাটাই আমার সবচেয়ে বড় অর্জন।”
অর্ক রায়ের এই অর্জনে সবচেয়ে বেশি গর্বিত তাঁর মা কল্পনা বণিক, তিনি কাজীর খীল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সন্দ্বীপ এর সাবেক প্রথান শিক্ষিকা।
যাঁকে তিনি নিজের অনুপ্রেরণার মূল উৎস হিসেবে মনে করেন। ছোটবেলা থেকেই ছেলেকে মানবিক হতে শিখিয়েছেন তিনি। অর্কের ভাষায়, “মা-ই আমাকে শিখিয়েছেন ক্ষমতাবান হওয়ার চেয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো বড় কথা। আজকের এই স্বীকৃতি তাঁরই হাতের গড়া।” পরিবার, প্রতিবেশী ও সহকর্মীদের মতে, কল্পনা বণিকের কঠোর পরিশ্রম, ত্যাগ ও নৈতিক শিক্ষাই অর্ক রায়কে আজকের অবস্থানে পৌঁছাতে বড় ভূমিকা রেখেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এমন স্বীকৃতি বাংলাদেশের তরুণ মানবাধিকারকর্মীদের আরও উৎসাহিত করবে এবং ন্যায় ও মানবিকতার চর্চা বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। উল্লেখ্য, অর্ক রায় এই বছর আন্তর্জাতিক শান্তি পুরস্কার ২০২৫–এরও প্রাপক।