মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪০ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
নোয়াখালী-১ আসনে ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের বিজয়ে সুশীল ফোরামের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন রাজউক কর্মকর্তা গ্রেফতার: নারী সাংবাদিক হেনস্তা ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা মাগুরায় সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের স্টেক হোল্ডার বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত মাগুরায় সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের স্টেক হোল্ডার বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত মাগুরায় জামায়াতের উদ্যোগে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ অনুষ্ঠিত Without Classrooms, Education Remains Incomplete* *—-Professor M A Barnik শ্রেণিকক্ষের দরজা বন্ধ করে দিয়ে প্রকৃত মানুষ তৈরি অসম্ভব* *—–অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* A Voice of Principle in Parliament Barrister Nowshad Zamir—Professor M. A. Barnik ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরের এক নতুন রাজনৈতিক বার্তা –অধ্যাপক এম এ বার্ণিক*

রেজওয়ানের শতাধিক ভাসমান স্কুল: প্রযুক্তির ছোঁয়া, বিশ্বে অনুকরণ —- অধ্যাপক এম এ বার্ণিক

সংবাদদাতা / ১১৮ বার ভিউ
সময়ঃ মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪০ পূর্বাহ্ন

১. রেদোয়ানের আদর্শ ভাসমান স্কুল :

নদীর কোলাহলে যখন গ্রাম-গঞ্জের পথ হিন্দোলায় ঝুলে যায়, তখন ইট-কাঠের ক্লাসরুমের জানালা আঁটকে পড়ে—শিশুদের স্বপ্ন ছেঁড়া চাদরের নিচে ঠেকে থাকে। ঠিক সেই সময়—একজন স্থপতির ছোট একটি নৌকা থেকে জেগে ওঠে এক আলোকবর্তিকা: ভাসমান স্কুল। ২০০২ সালে সাদামাটা একটি উদ্যোগ থেকে যে-যাত্রা শুর হয়, সেটি আজ শতাধিক বিদ্যালয়, গ্রন্থাগার ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র নিয়ে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক মডেলে পরিণত হয়েছে।

২. পানির উপরও শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠার উদাহরণ :

ভাসমান স্কুলগুলো কেবল নৌকা নয়—এরা হলো এক ভেসে চলা পাঠশালা, যেখানে সোলার প্যানেলের ঝিকিমিকি আলো, টেবিলে সাজানো বই, আর ল্যাপটপের নীরব আলো মিলেই জন্ম দেয় নতুন দিনের পাঠদান। বৃষ্টির খামের মতো ঘন অন্ধকার ছাড়িয়ে এই নৌকাগুলো শিক্ষার আলো বাড়িয়ে দেয় গ্রাম্য শিশুদের মনের আকাশে; যেন জলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জ্ঞানের সোনা কুড়ানো হয়। Reuters-এর খবরে বলা হয়েছে, এই স্কুলগুলোতে সৌরশক্তি, কম্পিউটার ও স্থানীয় পাঠ্যক্রম মিশিয়ে বন্যাপ্রবণ অঞ্চলে ক্লাস চালানো হয়।

৩. রেজওয়ান ও SSS– একজন স্থপতি, একটি আন্দোলন :

আর্কিটেক্ট মোহাম্মদ রেজওয়ান একসময় নিজের পকেটের অল্প অর্থ দিয়ে শুরু করেছিলেন—আজ তাঁর সংগঠন Shidhulai Swanirvar Sangstha (SSS) শতাধিক ভেসে চলা বোট পরিচালনা করে, যেখানে স্কুল, গ্রন্থাগার ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মৌলিক কার্যক্রম চলে। এই উদ্যোগ বহুক্ষেত্রে দেশের শিক্ষাকে বাঁচিয়ে রেখেছে এবং আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

৪. বহির্বিশ্বে অনুকরণ: ফিলিপাইন—সমুদ্রের সন্তানদের পাঠশালা :

দক্ষিণ এশিয়ার বাইরে, ফিলিপাইনের নির্দিষ্ট দ্বীপজুড়ে বাস করা সমুদ্র-আশ্রিত উপজাতিগণ—বাজাও ও সামা সম্প্রদায়—তাদের মাতৃভাষায় এবং জীবনের বাইরে-ভিতরের বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ভাসমান স্কুল মডেল গ্রহণ করেছে। স্থানীয় প্রতিবেদনে দেখা যায়, সরকার ও এনজিও উদ্যোগে ওই অঞ্চলে ভাসমান স্কুল চালু করে শিশুদের ধারাবাহিক শিক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে; এখানে ‘স্কুলই এসে পৌঁছায়’—পথ নয়। ফিলিপাইনের বিভিন্ন প্রতিবেদনে এই মডেলকে বাংলাদেশের অনুপ্রেরণায় গড়ে ওঠা বলা হয়েছে।

৫. নাইজেরিয়া: লাগসোর Makoko—শহরের লেগুনে হার না মানা শিক্ষা :

অফ্রিকার আওতাতেও ভাসমান স্কুল ধারণা নতুন নয়। নাইজেরিয়ার লাগসোর Makoko এলাকায় তৈরি ভাসমান ক্লাসরুম-প্রকল্পটি সামাজিক অংশগ্রহণ, পুনর্ব্যবহৃত উপকরণ ও নবায়নযোগ্য শক্তির সমন্বয়ে একটি গ্রিন-এডুকেশন মডেল হিসেবে পরিচিত। সাম্প্রতিক রিপোর্টে দেখা গেছে, Makoko-র ক্লাসরুমগুলো সৌর প্যানেল, পেডাল-জেনারেটর ইত্যাদি ব্যবহার করে অফ-গ্রিড শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করছে—নদীতীরেও যখন বিদ্যুৎ পৌঁছায় না, তখনও সেখানে শিক্ষার আলো জ্বলছে। এই উদাহরণ দেখায়—শহুরে জলাভূমিতেও ভাসমান শিক্ষা প্রযুক্তি ও কমিউনিটি-চালিত উদ্যমে শক্তিশালীভাবে কাজ করতে পারে।

৬. ভাসমান মডেলের ৩টি বিশেষত্ব :

ভাসমান স্কুল মডেল তিনটি কারণে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে—(১) প্রবেশযোগ্যতা: স্কুলই পরিবারে গিয়ে পৌঁছে; (২) টেকসই প্রযুক্তি ব্যবহার: সোলার প্যানেল, কম্পিউটার ও সহজ রক্ষণাবেক্ষণ; (৩) কমিউনিটি-ভিত্তিক পরিচালনা: স্থানীয় শিক্ষক, স্বেচ্ছাসেবক ও সমাজ অংশীদার। ফিলিপাইন ও নাইজেরিয়ার মতো পরিবেশেও একই ধারণা প্রয়োগযোগ্য হওয়ায় এটি এক বৈশ্বিক পাঠশালা-মডেলে পরিণত হচ্ছে।

৭. চ্যালেঞ্জ– মডেলের বাস্তবতা পরীক্ষা:

কিন্তু প্রতিটি সাফল্যের পেছনে আছে বাস্তব চ্যালেঞ্জ—আর্থিক স্থিতিশীলতা, যান্ত্রিক মেরামত, এবং শিক্ষক ধরে রাখার সমস্যা। যেমন-সোলার সিস্টেম ও ব্যাটারির রক্ষণাবেক্ষণ, ভেজা পরিবেশে কাঠামোর ক্ষয়, ও দীর্ঘমেয়াদি তহবিল সংগ্রহ—এসব সমাধান না পেলে মডেল শুদ্ধাচারের মতো দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। এই সীমাবদ্ধতাগুলোকে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় মোকাবিলা করতে হবে।

৮. জলরাশির উপরেও উঠতে পারে জ্ঞানের পতাকা:

রেজওয়ানের ভাসমান স্কুল আজ কেবল একটি প্রয়াস নয়—এটি একটি সংকেত যে, প্রযুক্তি ও স্থানীয় উদ্যম মিশে যখন সঠিক নকশা পায়, তখন সীমাবদ্ধতাই হয়ে ওঠে সম্ভাবনার দোলনা। ফিলিপাইন, নাইজেরিয়া ও অন্যান্য দেশের অনুকরণই প্রমাণ করে—জলের বুকেও দাঁড়াতে পারে শিক্ষা; কেবল প্রয়োজন সাহস, পরিকল্পনা ও সম্প্রদায়ের বিশ্বাস। বিশ্বের অনেক অংশে যখন জলবায়ু ঝুঁকি বাড়ছে, তখন এই মডেল আমাদের শেখায়—অবস্থান বদলে গেলেই শিক্ষা থামবে না; বরং প্ল্যাটফর্ম বদলে শিক্ষাই ভাসমান থাকবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]