মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
35 Thermonuclear Bombs in Iran’s Possession: Russia’s Claim Sends Shockwaves Through Global Politics— Professor M. A. Barnik ব্যাংক ম্যানেজারের উপর হামলা ও হত্যার প্রতিবাদে নবীনগরে মানববন্ধন  মাগুরার শ্রীপুরে রাস্তার বেহাল দশা, জনদুর্ভোগ চরমে! ইরানের হাতে ৩৫টি থার্মোনিউক্লিয়ার বোমা: রাশিয়ার দাবিতে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন ভূমিকম্প—অধ্যাপক এম এ বার্ণিক মাগুরায় অনলাইন জুয়া চক্রের মাস্টার মাইন্ড আমিনুল গ্রেফতার! মাগুরায় কৃষি কর্মকর্তাকে ঝুলিয়ে পেটানোর হুমকি! যুবদল নেতা বহিস্কার! বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে বাংলাদেশ সুশীল ফোরামের শোক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই-(ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।) সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের ইন্তেকাল( ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)” বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাইবার ইউজার দল (বিএনসিইউপি) শোক মাগুরায় জামায়াত মনোনীত উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো: আজমত হোসাইনের নির্বাচনী বিলবোর্ড চুরির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

শ্রেণিকক্ষের দরজা বন্ধ করে দিয়ে প্রকৃত মানুষ তৈরি অসম্ভব* *—–অধ্যাপক এম এ বার্ণিক*

সংবাদদাতা / ২৫৫ বার ভিউ
সময়ঃ মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন

১. অজানার শূন্যতায় অসার শিক্ষা*:

একটি ঘর। জানালার ফাঁক দিয়ে সকালের আলো ঢুকে পড়ে, কিন্তু সেই আলো যেন আর প্রাণ জাগায় না। টেবিলের উপর একটি মোবাইল ফোন, আর তার সামনে বসে থাকা এক কিশোর—চোখে স্ক্রিনের নীল আভা, কিন্তু অন্তরে যেন অজানা শূন্যতা। শিক্ষক কথা বলছেন, পাঠ চলছে, কিন্তু কোথায় সেই শ্রেণিকক্ষের কোলাহল, কোথায় সেই সহপাঠীর কাঁধে হাত রাখার উষ্ণতা?
এই দৃশ্য শুধু একটি পরিবারের নয়—এটি আজকের এক প্রজন্মের প্রতিচ্ছবি।

*২. জ্ঞানের আলো, নাকি নীল পর্দার বিভ্রম*
বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত যে দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে নিমগ্ন থাকা শিক্ষার্থীদের মনোযোগ বিচ্ছিন্ন করে। “Attention Fragmentation”—এই মনস্তাত্ত্বিক বাস্তবতায় শিক্ষার্থী একদিকে ক্লাস শুনছে, অন্যদিকে অদৃশ্য বিভ্রান্তির জালে আটকে যাচ্ছে।
ফলে জ্ঞান আর নদীর মতো প্রবাহিত হয় না; বরং খণ্ড খণ্ড পাথরের মতো জমা হয়—যা দিয়ে ভবিষ্যতের সেতু নির্মাণ কঠিন।

*৩. ‘শ্রেণকক্ষ’ চরিত্রের নির্মাণশালা*:
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কেবল বই শেখানোর স্থান নয়—এটি একটি জীবন্ত কর্মশালা, যেখানে মানুষ তৈরি হয়।
একটি বিদ্যালয় হলো শৃঙ্খলার প্রথম পাঠশালা। সময়মতো উপস্থিত হওয়া, নির্দিষ্ট পোশাক পরা, নিয়ম মেনে চলা—এসবই শিশুর মনে এক অদৃশ্য কাঠামো গড়ে তোলে। এটি ঠিক যেন একটি বৃক্ষের কাণ্ড—যা শক্ত না হলে ডালপালা যতই ছড়াক, স্থায়িত্ব পায় না।
কিন্তু ঘরে বসে অনলাইন ক্লাসে কি এই শৃঙ্খলা তৈরি হয়?
বাস্তবতা বলছে—খুব সীমিতভাবে।
বিছানায় বসে ক্লাস করা, মাঝপথে উঠে যাওয়া, কিংবা ক্যামেরা বন্ধ রেখে অনুপস্থিত থাকা—এসব আচরণ ধীরে ধীরে শৃঙ্খলার বোধকে ক্ষয় করে।

*৪. পারষ্পরিক আচরণ— জীবনের অদৃশ্য পাঠ*:
একটি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থী শুধু শিক্ষক নয়, সহপাঠীদের কাছ থেকেও শেখে—
কিভাবে সম্মান দেখাতে হয়
কিভাবে মতবিরোধ সামলাতে হয়
কিভাবে দলগতভাবে কাজ করতে হয়
এই সামাজিক শিক্ষাই ভবিষ্যতের নেতৃত্ব গড়ে তোলে।
অনলাইন ক্লাসে সেই বাস্তব অভিজ্ঞতা রূপ নেয় ভার্চুয়াল সংকেতে—একটি “mute” বাটন, একটি “raise hand” আইকন। এখানে অনুভূতির জায়গা সীমিত, সম্পর্কের গভীরতা ক্ষীণ।
মনোবিজ্ঞানের গবেষণা বলছে, শিশুদের সামাজিক দক্ষতা (social competence) বিকাশের জন্য সরাসরি মানবিক মিথস্ক্রিয়া অপরিহার্য। ভার্চুয়াল মাধ্যম সেই গভীরতা পুরোপুরি দিতে পারে না।

*৫. চরিত্র গঠন– অনুকরণের নীরব শিক্ষা*:
চরিত্র গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো “observational learning”—অন্যকে দেখে শেখা।
শিক্ষক যখন শ্রেণিকক্ষে সততা, ধৈর্য, বা নৈতিকতা প্রদর্শন করেন, তখন শিক্ষার্থীরা তা অজান্তেই আত্মস্থ করে। সহপাঠীর সাহায্য করা, ভুল স্বীকার করা—এসবই চরিত্র নির্মাণের ইট।
কিন্তু ঘরে একা বসে থাকা শিক্ষার্থী কার কাছ থেকে এই অনুকরণ শিখবে?
স্ক্রিনে দেখা শিক্ষক একটি ধারণা দিতে পারেন, কিন্তু জীবন্ত উপস্থিতির মতো গভীর প্রভাব ফেলতে পারেন না। ফলে চরিত্র গঠনের প্রক্রিয়াটি হয়ে পড়ে অসম্পূর্ণ।

*৬. সামাজিক ও মানসিক বিকাশের সংকট*
দীর্ঘদিন একাকী অনলাইন শিক্ষায় শিক্ষার্থীরা সামাজিক বিচ্ছিন্নতায় ভুগতে পারে। তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি, উদ্বেগ, এমনকি বিষণ্নতার প্রবণতাও বাড়তে পারে।
একটি শিশু যখন খেলাধুলা, বন্ধুত্ব, কিংবা ছোট ছোট দ্বন্দ্বের মাধ্যমে নিজেকে গড়ে তুলতে পারে না, তখন তার মানসিক বিকাশে একটি শূন্যতা থেকে যায়—যা ভবিষ্যতে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

*৭. প্রযুক্তিগত বৈষম্য—অসম ভবিষ্যতের বীজ*:
সব পরিবারে সমান সুযোগ নেই। কারও কাছে উন্নত ডিভাইস ও দ্রুত ইন্টারনেট, আবার কারও কাছে তা স্বপ্নের মতো। ফলে অনলাইন শিক্ষা একটি নতুন বৈষম্য তৈরি করছে—যেখানে কিছু শিক্ষার্থী এগিয়ে যাচ্ছে, আর অনেকেই পিছিয়ে পড়ছে।

*৮. বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে, অথচ আমরা…*:
বিশ্বের উন্নত দেশগুলো প্রযুক্তিকে ব্যবহার করছে সহায়ক শক্তি হিসেবে—“Blended Learning” পদ্ধতিতে। সেখানে শিক্ষার্থীরা সরাসরি ক্লাসে অংশ নেয়, আবার প্রযুক্তির মাধ্যমে তা আরও সমৃদ্ধ করে।
কিন্তু যদি আমরা বাস্তব শ্রেণিকক্ষের সুযোগই সংকুচিত করে ফেলি, তবে আমাদের শিক্ষার্থীরা সেই বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে—এটাই স্বাভাবিক।
*৯. সমাধান কোথায়*:
সমাধান একমাত্রিক নয়, বরং সমন্বিত—
অনলাইন ও অফলাইন শিক্ষার ভারসাম্য
পরিবারে শৃঙ্খলা ও আচরণ শেখানোর পরিবেশ তৈরি
শিক্ষক-শিক্ষার্থী সরাসরি যোগাযোগ বৃদ্ধি
প্রযুক্তিকে সহায়ক হিসেবে ব্যবহার, বিকল্প নয়।
আজকের এই নীরব ঘরে বসে থাকা কিশোরই আগামী দিনের কর্ণধার। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—সে কি কেবল একটি স্ক্রিনের আলোয় বড় হবে, নাকি জীবনের বাস্তব আলোয় নিজেকে গড়ে তুলবে?
শিক্ষা যদি হয় একটি বাগান, তবে বিদ্যালয় তার মাটি, আর অনলাইন শিক্ষা তার জলসেচ। মাটি ছাড়া যেমন বৃক্ষ জন্মায় না, তেমনি বাস্তব শিক্ষা ছাড়া একটি পূর্ণ মানুষ তৈরি হয় না।
সময়ের আহ্বান স্পষ্ট—
আমাদের সন্তানদের শুধু শিক্ষিত নয়, মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে, শ্রেণিকক্ষের দরজা আবার উন্মুক্ত করতেই হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]