শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ০২:৩৩ পূর্বাহ্ন
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী আরও ১০৭ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, যে কোনো সময় এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।
পুলিশ সদরদপ্তরের একাধিক সূত্র জানায়, তালিকাভুক্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে ১০৬ জন সে সময় জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) এবং একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত এসপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তারা ১৮, ২০, ২১, ২২ ও ২৪তম বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তা।
পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, তালিকাভুক্ত ১০৭ কর্মকর্তাকে ‘ভোট ডাকাতির সমন্বয় কমিটি’র সদস্য এবং ২০২৪ সালের জুলাইয়ের সহিংস ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এর আগে গত ৫ জুলাই একই অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ৩৩ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে ছিলেন ১৪ জন ডিআইজি, ১৮ জন অতিরিক্ত ডিআইজি এবং একজন পুলিশ সুপার। এরও আগে ৩ মে ১৭ জন এবং ২২ এপ্রিল আরও ১৩ জন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাকে একইভাবে অবসরে পাঠানো হয়।
সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারীর চাকরির ২৫ বছর পূর্ণ হলে সরকার জনস্বার্থে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী যেসব পুলিশ কর্মকর্তা পক্ষপাতমূলক ভূমিকা পালন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
সূত্র জানায়, সম্ভাব্য তালিকায় থাকা কয়েকজন কর্মকর্তার নামের পাশে ‘ভোট ডাকাতির সমন্বয় কমিটির সদস্য’, ‘জুলাই হত্যাকাণ্ডে জড়িত’ এবং বিশেষ কিছু আলোচিত ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার মন্তব্যও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অনেক কর্মকর্তার ক্ষেত্রে শুধু দায়িত্বকালীন পদবিই উল্লেখ রয়েছে।
পুলিশের আরেকটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, শুধু ক্যাডার কর্মকর্তাই নন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে পেশাগত নিরপেক্ষতা লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত ইন্সপেক্টর ও সাব-ইন্সপেক্টরদেরও পৃথক তালিকা প্রায় চূড়ান্ত। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
তবে এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা পুলিশ সদরদপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।