শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ০৩:১১ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
ক্রীড়াঙ্গনে কাজের প্রস্তাব ফেনীর সেই শিক্ষিকাকে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে খোঁজ নিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী: ঈদের জামাতে হাজারো মুসল্লির সঙ্গে নামাজ আদায় করলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বাউনিয়াবাদে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ২০০ পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা, পুনর্বাসনের আশ্বাস দিলেন আমিনুল হক মাগুরায় নতুন কুড়ি স্বর্ণপদক জয়ী অ্যাথলেট ইয়াসমিনকে শ্রীপুরে জমকালো সংবর্ধনা ধর্ষক জনতার হাতে আটক ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল নবীগঞ্জে ৩য় শ্রেণীর ছাত্রী ধর্ষিত মাগুরায় ট্রাক ড্রাইভারের হত্যার ঘটনায় পুলিশ সুপারের সংবাদ সম্মেলন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সেই সংগীতশিল্পী পরিবারকে অর্থ সহায়তা দিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। মাগুরায় অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত মাগুরায় ব্যাংক লুটেরা এস আলমের প্রত্যাবর্তনের চক্রান্তের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সমাবেশঅনুষ্ঠিত

*জ্বালানি তেলের অগ্নিপরীক্ষায় বাংলাদেশ* —-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক

সংবাদদাতা / ১৩৮ বার ভিউ
সময়ঃ শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ০৩:১১ পূর্বাহ্ন

১. এক সিস্টেমিক শকের মুখোমুখি

বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট—বিশেষত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা—বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতিকে গভীর ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। জ্বালানি তেল, LNG এবং বিদ্যুৎ খাতে চাপ একযোগে বাড়ায় অর্থনীতি, রাজনীতি এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা—সবকিছুই এক ধরনের “সিস্টেমিক শক”-এর মুখে দাঁড়িয়ে।

*২. জ্বালানি নির্ভরতার কঠিন চিত্র*:
(১) আমদানিনির্ভরতা হেতু
বাংলাদেশ তার মোট জ্বালানির প্রায় ৯৫% আমদানি করে।

(২) বিদ্যুৎ খাতে ৬৫% পর্যন্ত জ্বালানি/বিদ্যুৎ আমদানি নির্ভর।
(৩) তেল ও গ্যাস ব্যবহারের কারণে দৈনিক প্রায় ২.৬ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেলের দরকার হয়।

(৪) বছরে ৬–৭ মিলিয়ন টন জ্বালানি তেল আমদানি করা লাগে।
(৫) শিল্প খাতে জ্বালানি তেল বাবদ বার্ষিক ব্যয় ৬০০–৬৫০ বিলিয়ন টাকা।
(৬) LNG নির্ভরতার কারণে
গ্যাসের চাহিদার ৩০% পর্যন্ত LNG দিয়ে পূরণ করা লাগে।
(৭) ২০২৫ সালে LNG আমদানি ব্যয় প্রায় $৩.৮৮ বিলিয়ন।

*৩. বৈশ্বিক সংকটের সরাসরি প্রভাব*
(১) মূল্য বৃদ্ধির কারণে
প্রতি $১০ তেলের দাম বাড়লে মাসে অতিরিক্ত $৮০ মিলিয়ন ব্যয়।

(২) মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালী নির্ভরতা হেতু
যুদ্ধের কারণে LNG সরবরাহ ব্যাহত ও দাম দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি।

(৩) বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে বিধায় সার কারখানা চালু রাখা কঠিন।

*৪. অর্থনীতি ও সমাজে প্রভাব*:
(১) মুদ্রাস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি।
(২) পরিবহন খরচ বৃদ্ধি। খাদ্যদ্রব্যের দাম বৃদ্ধি।
(৩) শিল্প উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি।
(৪) বাজারে মূল্যস্ফীতি।
(৫) গার্মেন্টস শিল্প ডিজেল জেনারেটরের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার কারণে উৎপাদন ব্যাহত।
(৬) বৈদেশিক মুদ্রার চাপে
জ্বালানি আমদানিতে ডলার ব্যয় বৃদ্ধি।
(৭)রিজার্ভ সংকট তীব্রতর।

*৫. সামাজিক ও রাজনৈতিক চাপ*:
(১)জ্বালানি সংকটে জনঅসন্তোষ তীব্রভাবে বাড়ছে।
(২)বাজারে অস্থিরতা ও মজুতদারি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।

*৬. সরকারের টিকে থাকার মূল চ্যালেঞ্জ*:
(১) অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছেনা।
(২) জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছেনা।
(৩) জনঅসন্তোষ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হওয়ার আশঙ্কা।
(৪) গণভোট নিয়ে জটিলতার মুখে রাজনৈতিক বৈধতা ধরে রাখা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

*৭. টিকে থাকার কৌশল কি হতে পারে*:
(১) মধ্যপ্রাচ্য নির্ভরতা কমিয়ে
সিঙ্গাপুর, ভারত, চীন থেকে তেল সংগ্রহ বৃদ্ধি।

(২) কয়লা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি বাড়ানো।
(৩) স্পট LNG বেশি ব্যয়বহুল বিধায়
দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আশ্রয় গ্রহণ।
(৪) BPC-এর মুনাফা কমিয়ে মূল্য নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা।
(৫) বিদ্যুৎ অপচয় কমানো।
(৬) অফিস সময় পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে সাশ্রয়ের ভাবনা।
(৭) বিশ্বব্যাংক থেকে সাহায্য নিয়ে পরস্থিতি মোকাবেলার চেষ্টা।তাই ২০২৬ সালে $২ বিলিয়ন সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
(৮) জ্বালানি আমদানি কমাতে সহায়ক
নবায়নযোগ্য শক্তি (সৌর, বায়ু) উপর জোর দেয়া।

(৯) জনগণকে বাস্তব পরিস্থিতি জানানো।
(১০) কার্যকর যোগাযোগ
সংকট মোকাবেলার পরিকল্পনা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা।

*৮. স্বনির্ভর জ্বালানি নীতি অনুসন্ধান*:
বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট শুধু একটি অর্থনৈতিক সমস্যা নয়—এটি একটি স্ট্রাকচারাল দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ।
যদি সরকার—
আমদানিনির্ভরতা কমাতে পারে,
দক্ষতা ও বিকল্প জ্বালানিতে বিনিয়োগ করে,
এবং রাজনৈতিকভাবে স্বচ্ছ ও বাস্তবমুখী থাকে,
তবে এই সংকটই হতে পারে একটি নতুন স্বনির্ভর জ্বালানি নীতির সূচনা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]