মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৩৭ অপরাহ্ন
রিপোর্ট : এইচ.এম.বাবলু
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্রণীত বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) ২০২২–২০৩৫ সংশোধনের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা কমিটি। এর ফলে ঢাকা মহানগরীর প্রায় সব এলাকায় ভবনের উচ্চতার সীমা বাড়ানো হয়েছে।
রোববার (১৯ অক্টোবর) গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার। সভা শেষে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অনুমোদনের ভিত্তিতে সংশোধিত ড্যাপ শিগগিরই গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।
সভায় ড্যাপের ফ্লোর এরিয়া রেশিও (এফএআর), জনঘনত্ব, বন্যাপ্রবাহ অঞ্চল ও কৃষি ভূমি সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিধানসমূহ পর্যালোচনা করা হয়। পরিবেশের সংবেদনশীলতাকে গুরুত্ব দিয়ে সংশোধিত বিধানাবলী অনুমোদন দেওয়া হয়, যার ফলে রাজউকের আওতাধীন প্রায় সব এলাকায় ফ্লোর এরিয়া রেশিও ও জনঘনত্ব বৃদ্ধি পাবে।
বর্তমান সংশোধন অনুযায়ী, আগের পরিকল্পনায় কৃষিজমিতে সীমিত আকারে নাগরিক পরিষেবা স্থাপনের যে অনুমতি ছিল, তা বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে ‘মুখ্য জলস্রোত’ ও ‘সাধারণ জলস্রোত’—এই দুটি শ্রেণিকে একীভূত করে নতুনভাবে ‘বন্যা প্রবাহ অঞ্চল’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
ট্রানজিট–ভিত্তিক উন্নয়ন (টিওডি), পুনরুজ্জীবন ও ব্লক–ভিত্তিক নগরায়ণকে উৎসাহ দিতে ফ্লোর এরিয়া রেশিও প্রণোদনা দেওয়ারও সুপারিশ করা হয়েছে।
এছাড়া, বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড ২০২০–এর সঙ্গে ড্যাপ ২০২২–২০৩৫–এর সমন্বয় করে শহর উন্নয়নকে যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে ইমারত নির্মাণ বিধিমালা সংশোধনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ভবনের নকশায় অতিরিক্ত ফাঁকা জায়গা, সেটব্যাক, ভূমি আচ্ছাদন ও জনঘনত্ব নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধিগুলো সংশোধন ও বিল্ডিং কোডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়েছে।
দুর্যোগ–সহনশীল নগর গড়ে তুলতে নির্মাণকাজ শুরুর আগে কাঠামোগত ও স্থাপত্য নকশার অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এছাড়া বড় বা বিশেষ প্রকল্পের ক্ষেত্রে জনভোগান্তি কমাতে সুপারিশ পাওয়ার পর নির্মাণকাজের জন্য আলাদা অনুমোদন লাগবে না, তবে সংশ্লিষ্ট ফি জমা দিতে হবে।
নতুন বিধানে পাঁচ কাঠা বা তার বেশি আয়তনের প্লটে স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পরিবেশবান্ধব বা গ্রিন বিল্ডিং নির্মাণে প্রণোদনা প্রদান এবং একটি আপিল কমিটি গঠনের প্রস্তাবও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান।
এর আগে গত ১৯ মার্চ ড্যাপ পর্যালোচনা–সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটি প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো আরও নিবিড়ভাবে যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী রাজউক ও মন্ত্রণালয় বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে প্রায় ৩৫টি বৈঠক শেষে রোববারের সভায় চূড়ান্ত খসড়া উপস্থাপন করে।