মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৫ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
নোয়াখালী-১ আসনে ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের বিজয়ে সুশীল ফোরামের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন রাজউক কর্মকর্তা গ্রেফতার: নারী সাংবাদিক হেনস্তা ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা মাগুরায় সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের স্টেক হোল্ডার বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত মাগুরায় সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের স্টেক হোল্ডার বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত মাগুরায় জামায়াতের উদ্যোগে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ অনুষ্ঠিত Without Classrooms, Education Remains Incomplete* *—-Professor M A Barnik শ্রেণিকক্ষের দরজা বন্ধ করে দিয়ে প্রকৃত মানুষ তৈরি অসম্ভব* *—–অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* A Voice of Principle in Parliament Barrister Nowshad Zamir—Professor M. A. Barnik ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরের এক নতুন রাজনৈতিক বার্তা –অধ্যাপক এম এ বার্ণিক*

খুবিতে গবেষণার ফলাফল নিয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত

সংবাদদাতা / ৬৬ বার ভিউ
সময়ঃ মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৫ পূর্বাহ্ন

গাভীর দুধ উৎপাদন বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে লাইভ ইস্ট ও তিসি বীজ

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ ২২ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) ‘দুগ্ধজাত গাভীকে নির্দিষ্ট পরিমাণে তিসি বীজ ও ইস্ট খাওয়ানোর মাধ্যমে দুধের উৎপাদন বৃদ্ধি ও এর গুণগতমান উন্নয়ন’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাউথইস্ট ব্যাংক পিএলসি’র অর্থায়নে ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিন কর্তৃক গবেষণা প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়।
বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গবেষণাগারের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হারুনর রশীদ খান। তিনি বলেন, গবেষণার মূল লক্ষ্য হলো গবেষণালব্ধ ফল যেন মানুষের উপকারে আসে এবং দেশ ও জাতির উন্নয়নে বাস্তব ভূমিকা রাখে। কৃষিখাতে অধিক গবেষণা অত্যন্ত জরুরি। দুধের উৎপাদন বৃদ্ধি ও গুণগত মানোন্নয়ন বিষয়ে ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত গবেষণার সুযোগ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় গবেষণাকে গুরুত্ব দিয়ে আসছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গবেষণায় নিয়মিত বরাদ্দের পাশাপাশি এবারই প্রথম কোলাবরেটিভ রিসার্চে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আগামীতে এ বরাদ্দের পরিমাণ আরও বাড়বে। গবেষণার মাধ্যমে মানুষের জীবনমান উন্নয়নের দিকটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ নূরুন্নবী। তিনি বলেন, গবেষণার ফল যেন প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের উপকারে আসে, সেদিকে বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে। প্রায়োগিক গবেষণা উপকারভোগীদের সম্পৃক্ত করে পরিচালনা করা জরুরি। কম খরচে কীভাবে মানুষের কাছে ফলাফল পৌঁছে দেওয়া যায়, সে বিষয়েও নজর দিতে হবে। উৎপাদন পর্যায়ে খরচ কমলে ও মান বাড়লে বাজার পর্যায়েও দামের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এতে কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়বে না। খামারিদের অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা নিশ্চিত না হলে গবেষণা প্রকৃত অর্থে ফলপ্রসূ হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধান প্রফেসর মোঃ রেজাউল ইসলামের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন গবেষণা ও উদ্ভাবনী কেন্দ্রের পরিচালক প্রফেসর ড. কাজী মোহাম্মদ দিদারুল ইসলাম ও খুলনা জেলা ভেটেরিনারি অফিসার ডাঃ সঞ্জয় বিশ্বাস। সূচনা বক্তব্য রাখেন সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের প্রধান গবেষক, এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. সরদার শফিকুল ইসলাম। এ কর্মশালায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রান্তিক কৃষকরা অংশগ্রহণ করেন।
প্রকল্পের প্রধান গবেষক জানান, বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি গ্রামে ছোট-বড় খামার রয়েছে, যেখানে গাভী পালন করে পরিবারগুলো জীবিকা নির্বাহ করে। তবে খামার পর্যায়ে দুধ উৎপাদনের পরিমাণ ও গুণমান এখনও প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। এর প্রধান কারণ পুষ্টিকর ও ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্যের অভাব এবং উন্নত পুষ্টি ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞতার ঘাটতি। পুষ্টিজৈবপ্রযুক্তির প্রয়োগ গবাদিপশুর পুষ্টি ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এ ক্ষেত্রে লাইভ ইস্ট ও তিসি বীজ দুটি প্রাকৃতিক খাদ্য উপাদান হিসেবে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
লাইভ ইস্ট গাভীর পেটের প্রথম অংশ রুমেনে কার্যকরভাবে কাজ করে হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং খাদ্য থেকে সর্বোচ্চ পুষ্টি আহরণে সহায়তা করে। এর ফলে দুধ উৎপাদন ও মান বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নয়ন, বডি কন্ডিশন এবং প্রজনন সক্ষমতা বাড়ে।
তিসি বীজ বাংলাদেশের পরিচিত একটি ফিড উপাদান। এতে রয়েছে উচ্চমানের তেল, প্রোটিন, ফাইবার ও প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান। এটি ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের প্রাকৃতিক উৎস, যা দুধের গুণগত মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন গাভীর খাদ্যে ৪০০-৬০০ গ্রাম তিসি বীজ যোগ করলে দুধ উৎপাদন গড়ে ২০-২৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। খুলনা অঞ্চলে পরিচালিত এক গবেষণায় দুধ উৎপাদন ৮.৫৫ কেজি থেকে বেড়ে ১০.৪৮ কেজিতে উন্নীত হয়েছে। তিসি বীজে থাকা আলফা লিনোলেনিক অ্যাসিড দুধে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের মাত্রা বাড়ায়, যা মানুষের হৃদরোগ প্রতিরোধ, মস্তিষ্কের বিকাশ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক। একই সঙ্গে দুধে প্রোটিন, ফ্যাট ও টোটাল সলিডসের পরিমাণ বাড়ায়, ফলে দুধের বাজারমূল্যও বৃদ্ধি পায়।

মালিহা জান্নাত মিশা
খুবি প্রতিনিধি


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]