সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০২:২৩ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রামঃ
চট্টগ্রামের নোমান কলেজ রোডের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ‘আমজাদ এন্টারপ্রাইজ’-এর বিরুদ্ধে বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থের ড্রাম সংরক্ষণ ও বেচাকেনার অভিযোগ উঠেছে। আবাসিক এলাকার মধ্যে এ ধরনের রাসায়নিক পদার্থের ড্রাম মজুত ও ব্যবসা পরিচালনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে এসব রাসায়নিক বর্জ্য নালার মাধ্যমে কর্ণফুলী নদীতে গিয়ে পড়ায় নদীর পরিবেশ দূষণের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জনবসতিপূর্ণ এলাকার আশপাশে রাসায়নিক পদার্থভর্তি ড্রাম সংরক্ষণ ও কেনাবেচার ফলে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। ড্রাম থেকে রাসায়নিক পদার্থ ছড়িয়ে পড়া, তীব্র দুর্গন্ধ, অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন তাঁরা। বিশেষ করে শিশু, শিক্ষার্থী, বয়স্ক ব্যক্তি ও আশপাশের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ রয়েছে, এসব রাসায়নিক পদার্থের বর্জ্য ও দূষিত পানি স্থানীয় নালার মাধ্যমে কর্ণফুলী নদীতে গিয়ে পড়ছে। এতে নদীর পানির গুণগত মান ও জলজ পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি পরিবেশ সুরক্ষা ও জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে আমজাদ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আমজাদের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানটির এ ধরনের ব্যবসা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় কোনো অনুমোদন নেই। এমন ব্যবসার ক্ষেত্রে অনুমোদন নিতে হয়, সে বিষয়েও তিনি অবগত নন বলে জানান। তাঁর এই বক্তব্যের পর প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক কার্যক্রমের বৈধতা, রাসায়নিক পদার্থের ধরন এবং সংরক্ষণব্যবস্থা নিয়ে আরও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক কার্যক্রম, ব্যবহৃত রাসায়নিক পদার্থের প্রকৃতি, ড্রাম সংরক্ষণের পরিবেশ এবং প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন রয়েছে কি না, তা দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত করা হোক। একই সঙ্গে পরিবেশ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস, বিস্ফোরক পরিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আমজাদ এন্টারপ্রাইজের নামে পরিবেশগত কোনো অনুমোদন নেই। বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তাঁরা জানান।
পরিবেশ ও জননিরাপত্তা সংশ্লিষ্টদের মতে, রাসায়নিক পদার্থ সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় যথাযথ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। কোনো দুর্ঘটনা বা বড় ধরনের পরিবেশগত ক্ষতি ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে আগেই ঝুঁকি চিহ্নিত করে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
এ অবস্থায় নোমান কলেজ রোডের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কর্ণফুলী নদীর দূষণ রোধ এবং পরিবেশ সংরক্ষণের স্বার্থে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে। ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক পদার্থের অনিরাপদ সংরক্ষণ ও ব্যবসা পরিচালনা বন্ধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।