রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:০৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম
আইএমএফের কাঠগড়ায় ‘ফ্যামিলি কার্ড —-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক War or Peace : The Entire World Looks to the Face of a Field Marshal* *—-Professor M A Barnik মাগুরায় সেলুনে আগে চুল কাটানোকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে! আহত-৬ *যুদ্ধ-না-শান্তি : এক ফিল্ড মার্শালের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে সারাবিশ্ব* *—-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* *১. অস্থিরতার প্রেক্ষাপট— এক অগ্নিগোলকের পৃথিবী*: সময়ের এই অধ্যায়ে পৃথিবী যেন আগ্নেয়গিরির কিনারায় দাঁড়িয়ে— যেখানে প্রতিটি রাষ্ট্র, প্রতিটি জোট, প্রতিটি সিদ্ধান্ত একটি সম্ভাব্য বিস্ফোরণের পূর্বাভাস বহন করছে। যুক্তরাষ্ট্র-এর কৌশলগত আধিপত্য, ইসরায়েল-এর নিরাপত্তা-কেন্দ্রিক অবস্থান, ইরান-এর প্রতিরোধী মনোভাব— সব মিলিয়ে বিশ্ব এখন এক জটিল দ্বন্দ্বের গোলকধাঁধায় বন্দি। এই অস্থির সময়েই বিশ্বমানবতার দৃষ্টি গিয়ে থামে এক ব্যক্তির উপর— ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। *২. একজন মানুষের উত্থান*: সেনাপ্রধান থেকে বৈশ্বিক মধ্যস্থতাকারী ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির— নামটি এখন শুধু একটি দেশের সামরিক নেতৃত্বের প্রতীক নয়, বরং একটি সম্ভাব্য বৈশ্বিক সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু। পাকিস্তান-এর সেনাপ্রধান হয়েও তিনি নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। তিনি হয়ে উঠেছেন এক অদৃশ্য সেতু— যেখানে বিরোধী শক্তিগুলো অন্তত কথোপকথনের টেবিলে বসতে রাজি হয়। *৩. ব্যর্থতার ভেতর সম্ভাবনার বীজ*: গত ১১–১২ এপ্রিলের শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে— এটি নিঃসন্দেহে বাস্তবতা। কিন্তু এই ব্যর্থতা কি শেষ? নাকি এটি একটি বৃহত্তর সফলতার প্রস্তুতি? বিশ্লেষণ বলছে— এই প্রথম দফার আলোচনা ছিল অবস্থান যাচাইয়ের মঞ্চ। যুক্তরাষ্ট্র তার সীমা দেখিয়েছে, ইরান তার শর্ত স্পষ্ট করেছে, ইসরায়েল তার নিরাপত্তা-রেখা টেনে দিয়েছে। আর এই সবকিছুই ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির-এর জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ কৌশল তৈরির উপাদান হয়ে উঠেছে। *৪. কূটনৈতিক কৌশল– যুক্তির ছুরিতে শর্তের অবসান* তার সবচেয়ে বড় শক্তি— তিনি চাপ প্রয়োগ করেন না, তিনি পরিস্থিতিকে এমনভাবে সাজান, যাতে প্রতিপক্ষ নিজের অবস্থান থেকেই নরম হতে বাধ্য হয়। ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য— এই ইউরোপীয় শক্তিগুলোর সাথে তার সমঝোতা তৈরি করছে একটি সমর্থন কাঠামো। অন্যদিকে চীন ও রাশিয়া— তাদের সাথে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক তাকে দিয়েছে কৌশলগত গভীরতা। এই বহুমাত্রিক কূটনীতি তার প্রচেষ্টাকে করেছে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর। ৫. সম্ভাবনার দিগন্ত: কেন সফল হতে পারেন? এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন— ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির কি সত্যিই সফল হতে পারেন? বিশ্লেষণে কয়েকটি কারণ স্পষ্ট হয়ে ওঠে— (১) *নিরপেক্ষতার সুবিধা*: পাকিস্তান সরাসরি এই সংঘাতের মূল পক্ষ নয়, তাই তার মধ্যস্থতা তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য। (২) *বহুমুখী সম্পর্ক*: পূর্ব ও পশ্চিম—দুই ব্লকের সাথেই যোগাযোগ রক্ষা করার সক্ষমতা তাকে একটি অনন্য অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে। (৩) *সামরিক ও কূটনৈতিক ভারসাম্য*: তিনি শুধু কূটনীতিক নন, একজন সামরিক কৌশলবিদও— যা তাকে বাস্তবতার মাটিতে দাঁড়িয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। (৪) *ব্যর্থতা থেকে শেখার সক্ষমতা*: প্রথম দফার ব্যর্থতা তাকে দুর্বল করেনি, বরং আরও প্রস্তুত করেছে। *৬. ঝুঁকি ও সীমাবদ্ধতা*: পথ এত সহজ নয়; তবে বাস্তবতা কঠিন— যুক্তরাষ্ট্র তার বৈশ্বিক প্রভাব ছাড়তে চাইবে না, ইরান নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ছাড়া আপস করবে না, ইসরায়েল অস্তিত্বের প্রশ্নে আপসহীন। এই ত্রিমুখী জটিলতা যেকোনো উদ্যোগকেই ব্যর্থ করে দিতে পারে। *৭. বিশ্বমানবতার প্রত্যাশা ও শেষ আশ্রয়* আজ পৃথিবী এক অদ্ভুত বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে— যেখানে একটি মানুষের প্রচেষ্টাকে “শেষ আশার আলো” হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির সফল হলে— একটি নতুন শান্তির অধ্যায় শুরু হতে পারে। ব্যর্থ হলে— পারমাণবিক সংঘাতের সম্ভাবনা আর কল্পনা থাকবে না, তা হয়ে উঠতে পারে নির্মম বাস্তবতা। *৮. বিশ্ববর্বতার ধ্বংসস্তুপে একটি মানুষ দাঁড়িয়ে* ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নগুলো সবসময় সহজ মানুষের কাছে আসে না— এসে পড়ে সেই মানুষের কাঁধে, যিনি তা বহন করতে সক্ষম। ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এখন সেই অবস্থানে— যেখানে তার প্রতিটি পদক্ষেপ মানবতার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে। ধ্বংসস্তুপের মধ্যেই আজ যেন পৃথিবী অপেক্ষা করছে, পারমাণবিক অস্ত্রের বীভিষিকায় কী সব ধ্বংস হয়ে যাবে, নাকি পৃথিবী শান্তির পথে হাঁটবে? শান্তি অন্বেষার সেই প্রশ্নের সমাধানে ভার নিজের কাঁধে নিয়ে সাঁতারি যাচ্ছেন, বিপদগ্রস্ত মানুষের এক ত্রাণকর্তা, ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। শান্তির নিশান তাঁর হাতেই হয়তো পতপত করে উড়ার অপেক্ষায় আছে, আর অপেক্ষায় আছে বিশ্বের তাবৎ প্রাণীকুল ও মানবতা… মাগুরার শ্রীপুরে পাম্পে ড্রামে তেল দেওয়ার ভিডিও ধারণ,সাংবাদিককে মারধর করলো পুলিশ! উক্ত পুলিশ ক্লোজ! *ফিল্ড মার্শালের ইটে-ইটে গড়া শান্তির দেয়াল* *—-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* মাগুরায় জেলা পর্যায়ে ৩ দিনব্যাপী জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন মাগুরার খামারপাড়া এস এ আই সিনিয়র মাদ্রাসায় বিদায় সংর্বধণা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত মাগুরায় সুমন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন! বিস্তারিত জানালেন পুলিশ সুপার

জুলাই সনদের অনিশ্চয়তা ও নতুন সংবিধানের পূর্বাভাসে রাজনৈতিক ভূচিত্রের রূপান্তর ——অধ্যাপক এম এ বার্ণিক

সংবাদদাতা / ২৪৪ বার ভিউ
সময়ঃ রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:০৭ অপরাহ্ন

  1. ১. আশা- নিরাশার দ্বন্দ্বে বিক্ষত জুলাই সনদ:

বাংলাদেশের ইতিহাসে তৃতীয় বৃহৎ রাজনৈতিক রূপান্তর হিসেবে বিবেচিত ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব পরবর্তী সময়ের সবচেয়ে আলোচিত রাজনৈতিক দলিল হতে চলেছে ‘জুলাই সনদ’। তবে ২৯ জুলাই পর্যন্ত এ সনদের সাতটি মৌলিক বিষয় অনিষ্পন্ন রয়ে যাওয়ায়, রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মিলিত স্বাক্ষরে একটি চূড়ান্ত সনদ ঘোষণার সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে উঠেছে।
এই অনিশ্চয়তা দেশের রাজনীতিকে এক গভীর মোড় ঘোরানো অবস্থায় এনে দাঁড় করিয়েছে, যেখানে নতুন সংবিধান ও বিকল্প রাজনৈতিক ব্যবস্থার আয়োজন এখন কেবল সম্ভাবনা নয়—ঘোষণার দ্বারপ্রান্তে।

২. সাতটি অনিষ্পন্ন প্রশ্ন: কেন রাজনৈতিক দলগুলো পিছিয়ে?

জুলাই সনদের খসড়া সাতটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতৈক্য প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই বিষয়গুলো হলো:

(১) নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থা

(২) বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুমের বিচারের নীতিমালা

(৩) নাগরিক অধিকার ও আইনের শাসনের নিশ্চয়তা

(৪) প্রশাসনের দলনিরপেক্ষ পুনর্গঠন

(৫) ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি ও আঞ্চলিক নিরপেক্ষতা

(৬) গণমাধ্যম ও তথ্যপ্রযুক্তিতে স্বাধীনতা ও ন্যায়নীতি

(৭) অর্থনৈতিক দুর্নীতি ও লুটপাটের তদন্ত ও দায়বদ্ধতা

 

এই সাত দফা বিষয়ে কিছু দল নীতিগত আপত্তি জানিয়েছে, কিছু দল আবার সময়ক্ষেপণের কৌশল নিয়েছে। ফলে ২৯ জুলাই সনদের খসড়া পাঠানো হলেও কেউই এখনো স্বাক্ষরের ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মতি দেয়নি।

৩. নাগরিক কমিটির পদক্ষেপ: রাজনীতিকে উপেক্ষা করে গণচাপ:

এই স্থবিরতায় মুখ থুবড়ে না পড়ে, জাতীয় নাগরিক কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে—তারা নিজেরাই ৩১ জুলাই থেকে রাজপথে আন্দোলন শুরু করবে, এবং ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে বিশাল সমাবেশের মাধ্যমে জনগণের পক্ষ থেকে ‘জুলাই সনদ’ ঘোষণা করবে।

জাতীয় নাগরিক পার্টি মনে করে,

> “আমরা সনদে দেরি করতে পারি না। দলগুলো সময় নিক, কিন্তু জনগণ প্রস্তুত। আমরাই এবার সনদ দেব।”

এই ঘোষণায় স্পষ্ট যে নাগরিক সমাজ আর রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি নির্ভর করে নয়, বরং নিজেদের রাজনৈতিক প্রস্তাব নিয়ে সামনে এগোতে চায়।

৪. সংবিধান বিলুপ্তির প্রস্তাব ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের রূপরেখা :

বিশ্লেষকদের মতে,

> “জুলাই সনদ ঘোষণা হওয়ার সাথে সাথে সংবিধান বিলুপ্ত করে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের আয়োজন করতে হবে। তাই পরিস্থিতি কোন দিকে এগোচ্ছে তা এখনই অনুমান করা কঠিন।”

এই বক্তব্য শুধু একটি মতামত নয়; এটি বাংলাদেশে বিদ্যমান রাষ্ট্র কাঠামোর সম্পূর্ণ পুনর্লিখনের প্রস্তুতির স্পষ্ট ইঙ্গিত। অর্থাৎ জুলাই সনদ কেবল একটি রাজনৈতিক দলিল নয়, বরং এটি একটি বিকল্প রাষ্ট্রীয় সমাজচুক্তি (social contract) রূপে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে।

৫. রাজনীতির গতিপথ এখন জনগণের হাতে :

রাজনীতির ক্ষমতা-ভিত্তিক কেন্দ্র এখন ‘জনগণের আকাঙ্ক্ষাভিত্তিক’ কেন্দ্রের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছে। রাজনৈতিক দলগুলো হয়তো বুঝে উঠতে পারেনি—এই সনদ কেবল একটি মিটিং নয়, এটি একটি আন্দোলনের দিকনির্দেশনা।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি ৩ আগস্ট নাগরিক কমিটি ঘোষিত সনদটি গণসমর্থন পায়, তবে তা বর্তমান সংবিধান ও সংসদীয় কাঠামোর উপর এক মৌলিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে। এক্ষেত্রে একটি অস্থায়ী সংবিধান পরিষদ, গণভোট অথবা বিকল্প শাসনব্যবস্থার দাবি জোরালো হতে পারে।

৬. পরিস্থিতি বলে দিচ্ছে :

এই মুহূর্তে রাজনৈতিক দলগুলোর নীরবতা আর বিলম্ব কেবল তাদের জনবিচ্ছিন্নতা বাড়াবে। ৩ আগস্টের ঘোষণার পরে যদি জনগণ তার পক্ষে রাস্তায় নামে, তবে ইতিহাসের নতুন অধ্যায় শুরু হবে রাজনীতি-বহির্ভূত জনগণকেন্দ্রিক সংবিধান প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে।

এই রূপান্তরের ফলাফল যে কতটা সুদূরপ্রসারী হতে পারে—তা ১৯৭৫, ১৯৯০ বা ২০২৪ সালেও অনুমান করা যায়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]

*যুদ্ধ-না-শান্তি : এক ফিল্ড মার্শালের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে সারাবিশ্ব* *—-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* *১. অস্থিরতার প্রেক্ষাপট— এক অগ্নিগোলকের পৃথিবী*: সময়ের এই অধ্যায়ে পৃথিবী যেন আগ্নেয়গিরির কিনারায় দাঁড়িয়ে— যেখানে প্রতিটি রাষ্ট্র, প্রতিটি জোট, প্রতিটি সিদ্ধান্ত একটি সম্ভাব্য বিস্ফোরণের পূর্বাভাস বহন করছে। যুক্তরাষ্ট্র-এর কৌশলগত আধিপত্য, ইসরায়েল-এর নিরাপত্তা-কেন্দ্রিক অবস্থান, ইরান-এর প্রতিরোধী মনোভাব— সব মিলিয়ে বিশ্ব এখন এক জটিল দ্বন্দ্বের গোলকধাঁধায় বন্দি। এই অস্থির সময়েই বিশ্বমানবতার দৃষ্টি গিয়ে থামে এক ব্যক্তির উপর— ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। *২. একজন মানুষের উত্থান*: সেনাপ্রধান থেকে বৈশ্বিক মধ্যস্থতাকারী ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির— নামটি এখন শুধু একটি দেশের সামরিক নেতৃত্বের প্রতীক নয়, বরং একটি সম্ভাব্য বৈশ্বিক সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু। পাকিস্তান-এর সেনাপ্রধান হয়েও তিনি নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। তিনি হয়ে উঠেছেন এক অদৃশ্য সেতু— যেখানে বিরোধী শক্তিগুলো অন্তত কথোপকথনের টেবিলে বসতে রাজি হয়। *৩. ব্যর্থতার ভেতর সম্ভাবনার বীজ*: গত ১১–১২ এপ্রিলের শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে— এটি নিঃসন্দেহে বাস্তবতা। কিন্তু এই ব্যর্থতা কি শেষ? নাকি এটি একটি বৃহত্তর সফলতার প্রস্তুতি? বিশ্লেষণ বলছে— এই প্রথম দফার আলোচনা ছিল অবস্থান যাচাইয়ের মঞ্চ। যুক্তরাষ্ট্র তার সীমা দেখিয়েছে, ইরান তার শর্ত স্পষ্ট করেছে, ইসরায়েল তার নিরাপত্তা-রেখা টেনে দিয়েছে। আর এই সবকিছুই ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির-এর জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ কৌশল তৈরির উপাদান হয়ে উঠেছে। *৪. কূটনৈতিক কৌশল– যুক্তির ছুরিতে শর্তের অবসান* তার সবচেয়ে বড় শক্তি— তিনি চাপ প্রয়োগ করেন না, তিনি পরিস্থিতিকে এমনভাবে সাজান, যাতে প্রতিপক্ষ নিজের অবস্থান থেকেই নরম হতে বাধ্য হয়। ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য— এই ইউরোপীয় শক্তিগুলোর সাথে তার সমঝোতা তৈরি করছে একটি সমর্থন কাঠামো। অন্যদিকে চীন ও রাশিয়া— তাদের সাথে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক তাকে দিয়েছে কৌশলগত গভীরতা। এই বহুমাত্রিক কূটনীতি তার প্রচেষ্টাকে করেছে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর। ৫. সম্ভাবনার দিগন্ত: কেন সফল হতে পারেন? এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন— ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির কি সত্যিই সফল হতে পারেন? বিশ্লেষণে কয়েকটি কারণ স্পষ্ট হয়ে ওঠে— (১) *নিরপেক্ষতার সুবিধা*: পাকিস্তান সরাসরি এই সংঘাতের মূল পক্ষ নয়, তাই তার মধ্যস্থতা তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য। (২) *বহুমুখী সম্পর্ক*: পূর্ব ও পশ্চিম—দুই ব্লকের সাথেই যোগাযোগ রক্ষা করার সক্ষমতা তাকে একটি অনন্য অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে। (৩) *সামরিক ও কূটনৈতিক ভারসাম্য*: তিনি শুধু কূটনীতিক নন, একজন সামরিক কৌশলবিদও— যা তাকে বাস্তবতার মাটিতে দাঁড়িয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। (৪) *ব্যর্থতা থেকে শেখার সক্ষমতা*: প্রথম দফার ব্যর্থতা তাকে দুর্বল করেনি, বরং আরও প্রস্তুত করেছে। *৬. ঝুঁকি ও সীমাবদ্ধতা*: পথ এত সহজ নয়; তবে বাস্তবতা কঠিন— যুক্তরাষ্ট্র তার বৈশ্বিক প্রভাব ছাড়তে চাইবে না, ইরান নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ছাড়া আপস করবে না, ইসরায়েল অস্তিত্বের প্রশ্নে আপসহীন। এই ত্রিমুখী জটিলতা যেকোনো উদ্যোগকেই ব্যর্থ করে দিতে পারে। *৭. বিশ্বমানবতার প্রত্যাশা ও শেষ আশ্রয়* আজ পৃথিবী এক অদ্ভুত বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে— যেখানে একটি মানুষের প্রচেষ্টাকে “শেষ আশার আলো” হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির সফল হলে— একটি নতুন শান্তির অধ্যায় শুরু হতে পারে। ব্যর্থ হলে— পারমাণবিক সংঘাতের সম্ভাবনা আর কল্পনা থাকবে না, তা হয়ে উঠতে পারে নির্মম বাস্তবতা। *৮. বিশ্ববর্বতার ধ্বংসস্তুপে একটি মানুষ দাঁড়িয়ে* ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নগুলো সবসময় সহজ মানুষের কাছে আসে না— এসে পড়ে সেই মানুষের কাঁধে, যিনি তা বহন করতে সক্ষম। ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এখন সেই অবস্থানে— যেখানে তার প্রতিটি পদক্ষেপ মানবতার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে। ধ্বংসস্তুপের মধ্যেই আজ যেন পৃথিবী অপেক্ষা করছে, পারমাণবিক অস্ত্রের বীভিষিকায় কী সব ধ্বংস হয়ে যাবে, নাকি পৃথিবী শান্তির পথে হাঁটবে? শান্তি অন্বেষার সেই প্রশ্নের সমাধানে ভার নিজের কাঁধে নিয়ে সাঁতারি যাচ্ছেন, বিপদগ্রস্ত মানুষের এক ত্রাণকর্তা, ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। শান্তির নিশান তাঁর হাতেই হয়তো পতপত করে উড়ার অপেক্ষায় আছে, আর অপেক্ষায় আছে বিশ্বের তাবৎ প্রাণীকুল ও মানবতা…