মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪৭ অপরাহ্ন
১. ড. ইউনূস বিতর্ক :
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে এখন দেশি-বিদেশি রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক। সমালোচকদের অভিযোগ—ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার মনোনীত রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিন চুপ্পুর হাতে শপথ নিয়ে তিনি গণ-অভ্যুত্থানের চেতনার ধারক নন; বরং আন্দোলনের একজন ‘সুবিধাভোগী পরগাছা’ মাত্র।
২. গণ-অভ্যুত্থান থেকে বিচ্যুতি :
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর প্রণীত ‘জুলাই সনদ’-এর লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্রের কাঠামোগত পরিবর্তন, গণপরিষদের নির্বাচন এবং নতুন সংবিধান প্রণয়ন। এই সনদের মাধ্যমে বিপ্লবী শক্তিগণ নতুন বাংলাদেশ গঠনের অঙ্গীকার করেছিলেন।
তবে সমালোচকরা বলছেন—প্রধান উপদেষ্টা সেই অঙ্গীকারের পরিবর্তে সরাসরি নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করেছেন, যা ‘জুলাই সনদ’-এর মূল উদ্দেশ্যের বিপরীত। রয়টার্স (৫ আগস্ট ২০২৫) উল্লেখ করেছে, এক বছর পরও ইউনূস সরকারের রাজনৈতিক সংস্কার কার্যক্রম ধীরগতির, এবং নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণার ফলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের গতি থমকে গেছে (Reuters)।
৩. ঐতিহাসিক তুলনা:
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন—এই পদক্ষেপ ১৯৭৫ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর বিপ্লবকে পথহারা করার ঘটনার পুনরাবৃত্তি। তাদের মতে, শুরু থেকেই চুপ্পুর হাতে শপথ নিয়ে ড. ইউনূস মূলধারার পুরনো ধারার রাজনীতিতে ফিরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা পরিবারতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথে ধাবিত করছে। দ্য গার্ডিয়ান (১২ জুন ২০২৫)-এ ড. ইউনূস বলেছেন, “জনগণ সরকারের প্রতি অবিশ্বাসী হয়ে পড়েছে; আমাদের লক্ষ্য সেই আস্থা ফিরিয়ে আনা”—তবে তার কার্যপদ্ধতি নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন (The Guardian)।
৪. আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া :
অ্যাটলান্টিক কাউন্সিল (জুলাই ২০২৫) বিশ্লেষণে বলেছে, ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ ঐতিহাসিক হলেও তা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক ঐক্য জরুরি; অন্যথায় এটি কেবল প্রতীক হয়ে থাকবে। AP News (আগস্ট ২০২৫) সতর্ক করে বলেছে, রাজনৈতিক বিভাজন, ধর্মীয় প্রভাব এবং আইন-শৃঙ্খলার অবনতির কারণে নির্বাচন কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে (AP News)। দ্য টাইমস (আগস্ট ২০২৫) আরও যোগ করেছে, শেখ হাসিনার বিচার প্রক্রিয়া ও ইসলামী দলগুলোর কার্যক্রম নিয়ে চলমান উত্তেজনা ‘জুলাই সনদ’-এর ঐক্যবদ্ধ প্রয়োগে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে (The Times)।
৫. জুলাই সনদের মালিকানা ও ভবিষ্যৎ :
বিশ্লষকেরা বলছেন, ড. ইউনূসের ‘জুলাই সনদ’ স্বাক্ষরের অধিকার নেই; তাই জাতীয় গণ-অভ্যুত্থানের অগ্রসেনানিগণকেই নিজেদের হাতে সনদ উপস্থাপন করতে হবে। তাদের মতে, এর বাইরে কোনো পথ খোলা নেই। যদি ছাত্র-জনতা ড. ইউনূসকে মাইনাস করে ‘জুলাই সনদ’ উপস্থাপনে ব্যর্থ হয়, তবে ১৯৭৫ ও ১৯৯০ সালের মতোই ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানও ইতিহাসের পৃষ্ঠায় হারিয়ে যাবে।
