মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪৪ অপরাহ্ন
নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি।।
নবীগঞ্জে শাহ তাজ উদ্দিন কুরেশী(রঃ) উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস সহকারি সুমনা আক্তারের দায়েরী মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের নিকট হতে অতিরিক্ত রেজিষ্ট্রেশন ফি আদায়ের বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ১৯ অক্টোবর রবিবার ইউএনওর কাছে স্মারকলিপিপ্রদান করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। স্মারকলিপির অভিযোগে জানাযায়, নবীগঞ্জ উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের হরিধরপুর গ্রামে শাহ্ তাজউদ্দিন কোরেশী (রঃ) উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, অফিস সহকারি সুমনা আক্তার ও ল্যাব অপারেটর জাহিদ হাসানের আর্থিক অনিয়ম ও দুর্ণীতির সাথে যুক্ত থাকায় উল্লেখিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলনের কারণে দীর্ঘদিন যাবৎ বিদ্যালয়ে তারা অনুপস্থিত। এসব অভিযোগ নিরসনে বিগত ৪ আগষ্ট সকাল ১১ ঘটিকায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে এডহক কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় অনিয়ম ও দূর্ণীতির বিষয়টি তদন্ত করে খতিয়ে দেখার জন্য ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। সভায় সিদ্ধান্ত করা হয় যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পরে এলাকাবাসীসহ একটি সাধারণ সভার মাধ্যমে আর্থিক অনিয়মে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক,অফিস সহকারি সুমনা আক্তার ও ল্যাব অপারেটর জাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগটি তদন্ত পূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন ও বিষয়টি মিমাংসা করা হবে । সিদ্ধান্তটি চলমান থাকাতাবস্থায় হঠাৎ করে গত ৬ আগষ্ট কাউকে না জানিয়ে অফিস সহকারি সুমনা আক্তার পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন । বিষয়টি বিদ্যালয়ের আন্দোলনরত ছাত্র-ছাত্রীদের নজরে আসলে তারা তাৎক্ষনিকভাবে গিয়ে বিদ্যলয়ে জড়ো হয় । এ সময় তারা অফিস সহকারী সুমনা আক্তারের কাছে এসে তাদের কাছ থেকে আদায়কৃত রেজিস্ট্রেশন ফির অতিরিক্ত টাকা ফেরত দাবি করে । এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আন্দোলনকারী ছাত্রদের মধ্য থেকে বিদ্যালয়ের মিলাদ মাহফিলে উপস্থিত হওয়া কয়েকজন এসে সুমনা আক্তারকে বলেন যেহেতু তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে সেহেতু প্রতিবেদন দাখিলের পরে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হবে। এই বলে তারা সুমনা আক্তারকে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করে। ঐদিন বিকাল ৪টার দিকে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ছালেহা বেগম তাৎক্ষনিকভাবে এডহক কমিটির সভাপতি নবীগঞ্জ উপজেলা মৎস অফিসার আসাদ উল্লাহকে বিষয়টি অবগত করেন এবং বিদ্যালয়ে আসার অনুরোধ করেন। এ সময় সভাপতি আমি এসে কি করব,আমি পুলিশ পাঠাইতেছি বলে জানান। ঐদিন বিকালে নবীগঞ্জ থানার এসআই কাজল দেব ও বীট অফিসার এ এস আই রিপন বিদ্যালয়ে গিয়ে অভিযুক্ত সুমনা আক্তারকে সেখান থেকে এনে তার বাসায় পৌছে দেন। সুমনা আক্তার পুলিশের হেফাজতে নিরাপদে সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে পৌছেই পূর্ব পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য উপস্থাপন করে বিদ্যালয়ের ছাত্র,শিক্ষক ও অভিভাবকের বিরুদ্ধে হবিগঞ্জ আদালতে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে। এতে ফুঁসে উঠেন এলাকাবাসী ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। বিদয়ালয়ের এহেন পরিস্থিতি নিরসনের ব্যাপারে গত ১৮ আগষ্ট বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী,শিক্ষক ও এলাকার অভিভাবকসহ বিদ্যালয়ে মানব বন্ধন করেন। চলমান এহেন পরিস্থিতিতে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দাখিল এবং অভিযুক্ত প্রদান শিক্ষক, অফিস সহকারী সুমনা আক্তার ও ল্যাব অপারেটর জাহেদ হাসানের প্ররোচনায় সুমনা আক্তারের দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা অভিলম্বে প্রত্যাহারের জন্য বিদা্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ফয়সল আহমদ,কিবরিয়াসহ ১৩৬ জনের স্বাক্ষরিত একটি স্মারকলিপি গত ১৯ অক্টোবর নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট প্রেরণ করেন।
শামীম চৌধুরী
নবীগঞ্জ,হবিগঞ্জ প্রতিনিধি