শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:০৫ অপরাহ্ন

শিরোনাম
আজকের মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের সমৃদ্ধ – মাগুরায় কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নূরুল ইসলাম সাদ্দাম Macca Defence Pact: A Severe Setback to India’s Strategic Calculations* *— Professor MA Barnik *মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি : ভারতের স্ট্র্যাটেজিক হিসাব-নিকাশে বড় ধরনের ধাক্কা— অধ্যাপক এম এ বার্ণিক মাগুরার শ্রীপুরে বিদ্যুতায়িত হয়ে এক যুবকের মৃত্যু, আহত আরো -২জন চাটমোহরে তেল-জেলিতে তৈরি হচ্ছিল নকল দুধ, ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড ও জরিমানা The Mecca Defence Pact: India’s Concerns, the Positions of Major Powers, and Bangladesh’s Potential Gains and Losses* *–Professor M. A. Barnik মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি: ভারতের উদ্বেগ, পরাশক্তিদের অবস্থান এবং বাংলাদেশের সম্ভাব্য লাভ-ক্ষতি* *—অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* কেন্দ্রীয় যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি পলের রোগমুক্তিতে এস. আলম ইসরাৎ এর উদ্যোগে দোয়া আন্দালিব রহমান পার্থকে তথ্যমন্ত্রী করায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দকে মিষ্টিমুখ করালো বিজেপি ভাষা সৈনিক অজিত গুহ মহাবিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা:) উদযাপন

নবীনগরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ পোল্ট্রি খামারে গড়ছেন সফলতার দৃষ্টান্ত

সংবাদদাতা / ২১৮ বার ভিউ
সময়ঃ শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:০৫ অপরাহ্ন

ইব্রাহীম খলিল,

নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার জিনোদপুর ইউনিয়নের কড়ইবাড়ী গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা মো. আব্দুল্লাহ। অল্প পুঁজি আর বড় স্বপ্ন নিয়ে শুরু করা তাঁর ছোট উদ্যোগ আজ পরিণত হয়েছে প্রায় ১০ হাজার মুরগির একটি বড় পোল্ট্রি খামারে। তাঁর এই উদ্যোগ এখন এলাকার অনেক তরুণের জন্য অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে উঠেছে।

২০১৬ সালে মাত্র ৪০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে তিনি পোল্ট্রি খামারের যাত্রা শুরু করেন। শুরুতে ছিল মাত্র এক হাজার ব্রয়লার মুরগি। খামারের শুরু থেকেই পাশে ছিলেন তাঁর বাবা মো. সাকির হোসেন। পরিবারের সহযোগিতা ও নিজের পরিশ্রমে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে থাকেন আব্দুল্লাহ। শুরুর ছোট খামারটি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বড় হতে থাকে। ২০১৮ সালে ১২০০ বর্গফুটের একটি নতুন ব্রয়লার শেড নির্মাণ করা হয়। পরে আরও দুটি শেড তৈরি করা হয়, যেখানে প্রায় ২৪০০টি করে মুরগি পালনের ব্যবস্থা করা হয়।

২০২৫ সালে খামারের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে রাখা হয় “Abdullah Agro & Poultry Farm”। একই বছরের আগস্ট মাসে নতুন করে দুই তলা বিশিষ্ট প্রায় ৬৫০০ বর্গফুটের একটি শেড চালু করা হয়। বর্তমানে খামারটিতে প্রায় ১০ হাজার মুরগি পালনের সক্ষমতা রয়েছে। স্থানীয়ভাবে এটি কড়ইবাড়ী এলাকার অন্যতম বড় পোল্ট্রি খামার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

শুধু উদ্যোক্তা নন, আব্দুল্লাহ একজন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীও। তিনি ২০২৫ সালে ইব্রাহিমপুর শাহ সূফি সাইয়্যেদ আজমত উল্লাহ ফাজিল মাদ্রাসা থেকে আলিম পাশ করেছেন। বর্তমানে ফাজিল (স্নাতক) শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি খামার পরিচালনা করে নিজের স্বপ্নকে এগিয়ে নিচ্ছেন তিনি।

উদ্যোক্তা আব্দুল্লাহ বলেন, নিয়ম মেনে খামার পরিচালনা করলে পোল্ট্রি খামার থেকেও ভালো আয় করা সম্ভব। বর্তমানে তাঁর খামার থেকে বছরে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ হচ্ছে। তবে তিনি জানান, খামার পরিচালনায় সরকারি কোনো ওষুধপত্র বা সরাসরি সহায়তা পান না। মুরগির প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র কোম্পানি থেকেই কিনতে হয়, যা অনেক সময় ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে। সরকারি সহযোগিতা পেলে খামার পরিচালনা আরও সহজ হতো এবং উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হতো।

আব্দুল্লাহর বাবা মো. সাকির হোসেন বলেন, “শুরুতে সবকিছুই ছোট ছিল। ধৈর্য আর পরিশ্রমের কারণে খামারটি আজ এই অবস্থানে এসেছে। ছেলের এই উদ্যোগে আমি গর্বিত।”

ইব্রাহিমপুর সুফিয়াবাদ শাহ সূফি সাইয়্যেদ আজমত উল্লাহ (রহঃ) ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি মো. এনামুল হক কুতুবী বলেন, “মো. আব্দুল্লাহ আমাদের প্রতিষ্ঠানের একজন পরিশ্রমী শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি উদ্যোক্তা হিসেবে তার এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।”

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘তরুণ উদ্যোক্তারা পোল্ট্রি খামারে এগিয়ে এলে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং মাংসের উৎপাদনও বাড়বে। আমরা নিয়মিতভাবে খামারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি। সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে খামারিদের সহায়তা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]