মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:১২ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
বনাইদ বাবু মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মোসাদ্দেক হোসেনের বিরুদ্ধে দায়িত্বপালনে অবহেলা, আর্থিক তছরুপ, প্রশাসনিক দূর্বলতা, অসদাচরণ ও শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে অশালীন ও কটুক্তি শব্দ প্রয়োগসহ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রাপ্ত হয়ে ও যথেষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে ২৭টি অভিযোগের কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রেরণ করেন বনাইদ বাবু মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উক্ত বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্য এস. আলম ইসরাৎ।
আগামী ৭ (সাত) কার্যদিবসের ভিতর লিখিতভাবে কমিটির নিকট জমা দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়, অন্যথায় সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও শোকজ নোটিশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়।
প্রধান শিক্ষক মোসাদ্দেক হোসেনের বিরুদ্ধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীদের শারীরিক ও মানসিক শাস্তি রহিত করা সংক্রান্ত নীতিমালা – ২০১১’ স্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করে বনাইদ বাবু মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে অমানবিক শারীরিক নির্যাতনের ফলে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনার অভিযোগ পাওয়া যায়, যা স্থানীয় মাধবদী থানায়ও শিক্ষার্থীর অভিভাবক অভিযোগ দায়ের করে এবং পরবর্তীতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের হস্তক্ষেপে এটি সমাধান হয়।
এছাড়াও তার বিরুদ্ধে এস.এস.সি. পরিক্ষার্থীদের থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে মেধায় দূর্বল শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি প্রদান করার মতো অভিযোগ পাওয়া যায়, যার ফলে বিদ্যালয়ের ২০২৫ সালে এস. এস. সি. পরীক্ষার ফলাফলে অপ্রত্যাশিত বিপর্যয় ঘটে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বানিজ্য বন্ধ নীতিমালা – ২০১২ স্পষ্ট লঙ্ঘন করে বিদ্যালয়ে কোচিং বানিজ্য করে অর্থ আত্মসাৎ, রেজুলেশন এবং ক্রয় কমিটি ছাড়া খরচ, নিম্নমানের গাইড কোম্পানি থেকে ঘুষের টাকা গ্রহণ, স্কুলের গোপনীয় তথ্য ও নথিপত্র বাহিরে বিতরণ, বিদ্যালয়ের মিটার থেকে বিদ্যুৎ চুরির সাথে সম্পৃক্ততা, বিগত দিনে শিক্ষক নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও দূর্নীতিসহ বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে।
উল্লেখ্য যে, বিগত দিনেও বিভিন্ন কারণে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিলো।
বনাইদ বাবু মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি এস. আলম ইসরাৎ দায়িত্ব নেওয়ার পর বেশকিছু উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিলক্ষিত হয় এবং যার ফলে স্থানীয় এলাকাবাসী এবং অভিভাবকমহলে এই কমিটির কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা শোনা যায়। কিন্তু এই কমিটির বিরুদ্ধে নানানভাবে চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকারও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
এই কারণ দর্শানোর নোটিশের অনুলিপি অবগত করার জন্য কমিটির পক্ষ থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, নরসিংদী জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (আইসিটি ও শিক্ষা), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং নরসিংদী সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নিকট প্রেরণ করা হয়।
বনাইদ আমদিয়া ইউনিয়নবাসীর মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এবং অনতিবিলম্বে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে এলাকায় উক্ত প্রধান শিক্ষককে অপসারণের জোর দাবি শোনা যাচ্ছে।