মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২৬ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩০ জানুয়ারী মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সকাল ১১ টায় দ্রব্যমূল্যের সীমাহীন ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে এবং বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ কারাবন্দী পেশাজীবী ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের মুক্তি, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, ডামি সংসদ বাতিল এবং এক দফা দাবিতে এই মানববন্ধনের আয়োজন করে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ (বিএসপিপি)।
আজ দ্বাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু তাই জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরুর দিনে সারাদেশে কেন্দ্রীয় কর্মসূচি রয়েছে বিএনপির। তারই আংশ কালো পতাকা মিছিলে’ ও মানববন্ধন।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বিএসপিপির আহ্বায়ক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনেও সদস্য সচিব কাদের গণি চৌধুরীর সঞ্চালনায়। প্রধন অতিথি ছিলেন বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আজ সারা দেশের মানুষের তিরস্কারের মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে অবৈধ দ্বাদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন।
আজকে অনেকে হরতাল চেয়েছিল কিন্তু শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করা হবে বলেই হরতাল দেয়া হয়নি।’ আর এই সংসদে কারও লজ্জা নেই।
ডামি ‘নির্বাচনের করার নামে নাটক মঞ্চস্থের করেছে তার মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে, ৯৪ শতাংশ মানুষ আওয়ামী লীগকে- না করে দিয়েছে ।
দেশের কোষাগার কেন শূন্য- এমন প্রশ্ন রেখেন? ‘লুটপাট করে দেশে টাকা বিনিয়োগ না করে বিদেশে টাকা পাঠিয়েছেন । দেশ কোন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নেই।’
পুলিশ দিয়ে সরকার বেশিদিন ক্ষমতায় থাকতে পারবে না।
আমরা শান্তি, প্রিয় মায়ের শান্ত ছেলে, তবু শত্রু এলে অস্ত্র হাতে লড়তে জানি। ৭১ সালে তার প্রমাণ।
দেশের এই ক্রান্তিলগ্ন অতিক্রমও করতে জানে বিএনপি।
বিএনপির গণতন্ত্রের লড়াই আন্দোলন চলমান জানিয়ে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘নানা প্রেক্ষাপটের কারণে আন্দোলনের ধরন দেখে কৌশল পরিবর্তন করতে হয়।
এই সরকার হটানোর জন্য শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করতে হচ্ছে বিএনপি।
আওয়ামী লীগ সরকার শুধু একা নয়, কিছু দেশ, প্রজাতন্ত্রের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলিয়ে একটা সিন্ডিকেট দেশের ১৮ কোটি মানুষের ক্ষমতা হরণ করেছে। এই সরকারকে বলা যায় কর্তৃত্ববাদী।
গয়েশ্বর চন্দ্র বলেন, ‘ফখরুলকে টাকা ও আসনের লোভ দেখিয়ে কাজ না হওয়ায় তার জামিন দিচ্ছে না সরকার । আপনার জেনে রাখুন বিএনপিতে নেতা বা নেতৃত্বের কোন সংকট নেই। তারেক রহমানই বিএনপির নেত এবং নেতৃত্বে আছেন।’
বিএনপি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন করে যাচ্ছে এবং করবে। ১৭৩ দিন হরতাল এবং বাসে গানপাউডার দিয়ে মানুষ হত্যা, লগি-বৈঠা দিয়ে মানুষকে হত্যা করে লাসের উপর নৃত্য, গান করার রেকর্ড করতে পারিনি বিএনপি, মনুষত্ব থাকলে তা বিএনপি নয় কেউ পরবোও না। তারা পারে!
এই ঐতিহ্য তো তাদের মানায়, যাদের ডান হাত আর বাম হাত একই। এরা ভারত, চীন ও রাশিয়ার সরকার। চীন ও রাশিয়ায় তো নির্বাচন হয় না।
গত ৭ জানুয়ারী দেশের ৭ শতাংশ লোক সরকারকে ভোট দিয়েছে। দেশের ৯৩ শতাংশ মানুষ তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান করছে তরা তাদেরকে চায় না। এই ৭ শতাংশ লোক হলো সরকারের বিশেষ সুবিধা ভোগী। এটা একটা সমকামী নির্বাচন। শেখ হাসিনাকে দেশের ৭ পার্সেন্ট লোকের প্রধানমন্ত্রী আর তারেক রহমান ৯৩ শতাংশ মানুষের নেতা, এটা প্রমাণিত।
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, প্রকৌশলীদের সংগঠন এ্যাবের সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম রিজু, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন ইউট্যাবের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, ডিইউজের সভাপতি মো. শহীদুল ইসলাম, সাংবাদিক আমিরুল ইসলাম কাগজী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শামসুল আলম সেলিম, সাংস্কৃতিক জোটের রফিকুল ইসলাম, নার্সেস এসোসিয়েশনের জাহানারা সিদ্দিকা।