মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০:২৭ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
নোয়াখালী-১ আসনে ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের বিজয়ে সুশীল ফোরামের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন রাজউক কর্মকর্তা গ্রেফতার: নারী সাংবাদিক হেনস্তা ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা মাগুরায় সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের স্টেক হোল্ডার বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত মাগুরায় সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের স্টেক হোল্ডার বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত মাগুরায় জামায়াতের উদ্যোগে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ অনুষ্ঠিত Without Classrooms, Education Remains Incomplete* *—-Professor M A Barnik শ্রেণিকক্ষের দরজা বন্ধ করে দিয়ে প্রকৃত মানুষ তৈরি অসম্ভব* *—–অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* A Voice of Principle in Parliament Barrister Nowshad Zamir—Professor M. A. Barnik ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরের এক নতুন রাজনৈতিক বার্তা –অধ্যাপক এম এ বার্ণিক*

ছায়াযুক্ত জমিতে মসলা চাষে নতুন সম্ভাবনা দেখালেন নবীনগরের কৃষক

সংবাদদাতা / ৭৯ বার ভিউ
সময়ঃ মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০:২৭ পূর্বাহ্ন

ইব্রাহীম খলিল,

নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে নাটঘর ইউনিয়নের একইছড়া গ্রামের কৃষক জামির ফলবাগানের অব্যবহৃত ছায়াযুক্ত জমিতে হলুদ চাষ করে যেমন আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন, তেমনি এলাকার কৃষকদের সামনে খুলে দিয়েছেন নতুন একটি সম্ভাবনাময় পথ।

উপসহকারী কৃষি অফিসার ফারুক আহমেদের পরামর্শে ফ্ল্যাড রিকনস্ট্রাকশন ইমারজেন্সি এসিস্ট্যান্স প্রজেক্টের আওতায় জামির তার মিশ্র ফলবাগানে বারি হলুদ–১ জাতের হলুদ আবাদ করেন। সাধারণত ফলগাছের নিচের ছায়াযুক্ত জমি যেখানে অব্যবহৃত থাকে, সেখানে হলুদ চাষ করে তিনি জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করেন। মাত্র ১৫ শতাংশ জমিতে হলুদ আবাদ করে তিনি প্রায় ২০ মণ কাঁচা হলুদ উৎপাদন করতে সক্ষম হন।

বর্তমানে বাজারে কাঁচা হলুদ কেজি প্রতি গড়ে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হওয়ায় এ আবাদ থেকে তার আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় অর্ধ লক্ষ টাকা। তুলনামূলকভাবে কম খরচে এমন আয় হওয়ায় এই চাষ কৃষকের জন্য অত্যন্ত লাভজনক হয়ে উঠেছে।

কৃষক জামির জানান, তার সদ্য প্রয়াত বাবা হিরণ মিয়ার আগ্রহে এবং উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে গত মার্চ মাসে ১৫ শতাংশ জমিতে প্রায় ৬০ কেজি হলুদের বীজ রোপণ করেন। প্রায় দশ মাস পর সেই পরিত্যক্ত জায়গা থেকেই উৎপাদিত হয়েছে প্রায় ৮০০ কেজি কাঁচা হলুদ। ফলবাগান থেকে ফল আহরণের পাশাপাশি ছায়ায় হলুদ ভালো ফলন হওয়ায় আশপাশের অনেক কৃষক এ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

উপসহকারী কৃষি অফিসার ফারুক আহমেদ বলেন, ছায়াযুক্ত ফলবাগানে হলুদ ও আদা চাষের সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল। আদা ও হলুদ আংশিক ছায়া সহনশীল ফসল হওয়ায় আম, লিচু, কাঁঠালসহ বিভিন্ন ফলবাগানে সহজেই এ ফসল চাষ করা যায়। এতে একই জমি থেকে একাধিক ফসল উৎপাদন সম্ভব হয়, যা কৃষকের মোট আয় বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন,
“মিশ্র ফলবাগানে আদা ও হলুদ চাষ কৃষকদের জন্য একটি টেকসই ও লাভজনক প্রযুক্তি। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এমন ফসল নির্বাচন জরুরি, যা কম ঝুঁকিতে ভালো ফলন দিতে পারে। জামির মিয়ার সাফল্য প্রমাণ করে, সঠিক ব্যবস্থাপনায় ছায়াযুক্ত জমিও আয়বর্ধক সম্পদে পরিণত করা সম্ভব।”

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে নবীনগর উপজেলায় পরিত্যক্ত ও ফলবাগানের ছায়াযুক্ত জমিতে প্রায় ১৫ বিঘা এলাকায় আদা ও হলুদ চাষ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রকল্প সম্প্রসারণ করা হলে একদিকে কৃষকের আয় বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে দেশীয় মসলার উৎপাদন বাড়বে। ফলে আমদানি নির্ভরতা কমে কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

সব মিলিয়ে কৃষক জামিরের সাফল্য কেবল ব্যক্তিগত অর্জন নয়; বরং নবীনগরসহ আশপাশের এলাকার কৃষকদের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। সঠিক পরামর্শ, আধুনিক প্রযুক্তি ও সাহসী উদ্যোগ থাকলে ফলবাগানের ছায়াও হতে পারে কৃষকের স্বপ্ন পূরণের নতুন ক্ষেত্র।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]